ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার, ২০২১ || ৬ আশ্বিন ১৪২৮
good-food
১৪০

ফকির আলমগীর বাংলা সংগীতের বাঘ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০০:৪৯ ২৬ জুলাই ২০২১  

সদ্যপ্রয়াত ফকির আলমগীর ছিলেন ফেরদৌস ওয়াহিদের খুব কাছের বন্ধু। প্রায় ৫০ বছরের বন্ধুত্ব তাঁদের। একসঙ্গে পেরিয়ে এসেছেন জীবনের সাফল্য–ব্যর্থতার প্রতিটি অধ্যায়। ফকির আলমগীরকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করলেন ফেরদৌস ওয়াহিদ

 

গত মাসেই ফকির আলমগীরের সঙ্গে আমার শেষ দেখা। গত ৫ জুন ছিল আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী। ওই উপলক্ষে আলোচনা করতে চ্যানেল আইতে গিয়েছিলাম আমি ও ফকির আলমগীর। অনুষ্ঠানের আগে–পরে কত স্মৃতিচারণা হলো, কত আড্ডা–গল্প! কে জানত সেটাই হবে ওর সঙ্গে আমার শেষ দেখা!

 

ফকির আলমগীরের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৭৩ সালে। ও গণসংগীত করত। তারপর খুব দ্রুতই পপসংগীতে চলে এল। আমরা একসঙ্গেই গান করতাম। নিজের চেষ্টা ও মেধা দিয়ে সে সাফল্যের শিখরে যেতে পেরেছে। পৌঁছাতে পেরেছে সাধারণ মানুষের কাছে। এটার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তার নিজের। তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো, সে একসঙ্গে দুটো ঘরানা ধারণ করতে পারত। একটা পপসংগীত আরেকটা গণসংগীত। দুটো মাধ্যমেই সে যেমন সফল, তেমনি অসাধারণ সব কাজ দিয়ে দুটো মাধ্যমকেই জনপ্রিয় করে তুলেছে। আমি মনে করি, সে আমার চেয়েও গুণী শিল্পী।

 

ফকির আলমগীরের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ছিল খুব নিবিড়। তার বিয়ের মুকুটটা আমিই মাথায় পরিয়ে দিয়েছিলাম। ওই দিনের ঘটনাটা খুবই মনে পড়ে। আসলে এত বছরের সম্পর্ক, এত মায়া–মমতা; মনে তো পড়বেই।

আগাগোড়া প্রাণবন্ত একটা মানুষ ছিল ফকির আলমগীর। সবার সঙ্গেই তার বন্ধুসুলভ ভাব ছিল। তাকে আমি বলতাম, তুমি বাংলার সংগীতের বাঘ। ওর শেষনিশ্বাস ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশে গণসংগীতের ক্ষেত্রটা শূন্য হয়ে গেল। এ দেশে ফকির আলমগীরই একমাত্র গণসংগীতটা এমনভাবে ধরে রেখেছিল, যেটা আর কেউ পারেননি বা করেননি। এটা খুবই আশাব্যঞ্জক একটা ব্যাপার ছিল। কিন্তু সে তো চলে গেল। আজ থেকে বাংলাদেশ গণসংগীতহীন হয়ে গেল। আজ থেকে সংগীতের এই অসাধারণ ধারাটিতে শূন্যতা তৈরি হলো। এই ঘাটতি কবে কে পূরণ করবে, জানি না। আদৌ হবে কি না, তাও জানি না।

ফকির আলমগীরের এই অকালপ্রস্থানের কারণ করোনাভাইরাস। আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। ওর এই চলে যাওয়া আমাদের আরও সচেতন করুক, সেই প্রত্যাশা করি।