বুধবার   ২১ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৫ ১৪২৬  

১৮ বছরে প্রথম ছুটি!

কাশ্মীর উত্তেজনার মধ্যে টিভিতে অন্য এক মোদী

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত : ১২:২৫ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

এক অন্য নরেন্দ্র মোদিকে দেখা গেল সোমবার টিভির পর্দায়। ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ডে’র একটি পর্বে বিয়ার গ্রিলসের সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চারে যোগ দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই তিনি বলেন, যদি এটাকে ছুটি বলা যায় তাহলে এটাই শেষ আঠারো বছরে তাঁর প্রথম ছুটি।
ঈদুল আযহার দিন কাশ্মীরে বিক্ষোভ থামাতে দমনপীড়নের খবর যখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পাচ্ছে, ঠিক সেই দিনই টেলিভিশন চ্যানেল ডিসকভারিতে দেখানো হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জঙ্গল অভিযানের গল্প।

প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যারাক ওবামার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্বের দ্বিতীয় নেতা যাকে পৃথিবীর জনপ্রিয় একটি টিভি শো-তে দেখা গেল। ৪৫ বছর বয়সী ব্রিটিশ অ্যাডভেঞ্চারার এবং সঞ্চালক বিয়ার গ্রিলস দর্শকদের বুনো ভ্রমণের মাধ্যমে প্রকৃতির গভীরে নিয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এই পর্বটি উত্তরাখন্ডের জিম করবেট ন্যাশানাল পার্ক-এ শুটিং করা হয়েছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে।

প্রাণী সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য ভারতের জঙ্গলের গভীরে ঢুকে তিনি তাঁর সঙ্গী বিয়ার গ্রিলসকে বলেন, শেষ পাঁচবছর আমি দেশের উন্নতিতে দিয়েছি, যার জন্য আমি খুব আনন্দিত। যদি এটাকে ছুটি বলা যায় তাহলে শেষ আঠারো বছরে এই প্রথম ছুটি নিয়েছি।

 
জঙ্গল ভ্রমণের সময় জীবনের নানা কথা উঠে আসে মোদীর মুখে। শোনা যায় শৈশবের কথা। কথোপকথনের মধ্যে বিয়ার গ্রিলস মোদীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর আকাঙ্খার কথা জিজ্ঞাসা করেন। এই প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, আমি ভাবিনা আমি কে। আমি শুধু জানি আমাকে কাজ করতে হবে। এটা আমার দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, সবসময় সবরকমভাবে তিনি চেষ্টা করেছেন মানুষের স্বপ্নকে তাঁর নিজের স্বপ্ন ভাবতে।

সোমবার রাত ৯ টায় ডিসকভারি চ্যানেলের মাধ্যমে ১৮০ টি দেশের মানুষ একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অজানা দিকটি দেখতে পেয়েছেন। যখন তিনি প্রাণী সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য ভারতের জঙ্গলের গভীরেও প্রবেশ করেছেন, তখন তাঁকে একজন তরতাজা যুবকের মত লাগছিল যিনি শান্তভাবে জঙ্গলে সময় কাটাচ্ছিলেন। আলাস্কায় ওবামার সঙ্গে ২০১৬ সালের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথেই এই বিশেষ পর্বের শ্যুটিং করেন বিয়ার গ্রিলস।
বেয়ার গ্রিলসের ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ এর এ বিশেষ পর্বটির শুটিং হয়েছিল গত ফেব্রুয়ারিতে, যখন পুলওয়ামায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর গাড়িবহরে জঙ্গি হামলা হয়।  আর সোমবার কাশ্মীর নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই এ পর্বটি টেলিভিশনে দেখানো হল।
‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ এ জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বন ও বন্যপ্রাণীদের চরিত্র, বাস্তুসংস্থানের গল্প বলেন বেয়ার গ্রিলস। এবারের পর্বে তার সঙ্গে উত্তরখণ্ডের জিম করবেট জাতীয় উদ্যানে হেঁটে হেঁটে মোদী বলেন নিজের জীবনের নানা গল্প আর দর্শনের কথা, প্রকৃতি সংরক্ষণ ও পর্যটনে জোর দেয়ার কথা।

আনন্দবাজার ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ এর এ পর্বের নাম দিয়েছে মোদীর ‘বন কি বাত’। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের আগে থেকেই সব ধরনের টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ রাখায় ওই উপত্যকার বাসিন্দাদের অনুষ্ঠানটি দেখার সুযোগ হয়নি।

অনুষ্ঠানে দেখা গেল, হেলিকপ্টার থেকে নেমে গ্রিলসের (তিনি ততক্ষণে হাতির শুকনো মলের গন্ধ শুঁকে নিয়েছেন) সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে, গল্প করতে করতে মোদী এগোলেন জঙ্গলের পথ ধরে। নদী পেরোলেন বাঁশ, কাঠকুটো আর প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ভেলায় চেপে। নদী পেরিয়ে, সামান্য চা সেবন। গল্পগুজব এবং নিমপাতা নিয়ে চর্চার পরে বেয়ার প্রধানমন্ত্রীকে তুলে দিলেন ‘সিক্রেট সার্ভিস’-এর লোকজনের হাতে। বেয়ার কিছুক্ষণ পরপরই বাঘের ভয়, বাঘের ভয় বলে ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালিয়েছেন বটে। তবে বুঝতে কারও অসুবিধে হয়নি যে, গোটা সফরে ওই সিক্রেট সার্ভিসের লোকজনই ছিলেন সফরসঙ্গী। তবে ক্যামেরার ফ্রেমের বাইরে।


প্রধানমন্ত্রী মোদী অবশ্য অকুতোভয়। বেয়ার সাহেব যতই বলুন বাঘের হাত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচানোই তাঁর চিন্তা, মোদী শুনিয়ে দিয়েছেন, ছোটবেলায় বাড়ির কাছের হ্রদ থেকে কুমিরছানা ধরে আনার গল্প।

বলেছেন, ‘‘জীবনের সব কিছুর মধ্যেই ভাল কিছু আছে বলে মনে করি। তাই যা-ই ঘটুক, নার্ভাসনেস কখনও প্রকাশ পায় না।’’ বেয়ার যখন হাতে বল্লম ধরিয়ে দিয়েছেন বাঘ এলে কাজ লাগবে বলে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘যে সংস্কৃতিতে বড় হয়েছি, কাউকে মারতে পারব না।’’

এ কথা শুনে বেয়ার যখন বল্লমটি ফেরত নিতে চেয়েছেন, মোদী বলেছেন, ‘‘আমি আপনার হয়ে এটা নিজের হাতেই রাখছি।’’