বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৭ ১৪২৬  

প্রেমিককে ছবি পাঠিয়ে অধ্যাপিকার আত্মহত্যা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত : ০১:৩৫ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

প্রেম-ভালোবাসায় অনেক কিছু হয়। মেলামেশা, একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া বা অনেক বেশি ঝগড়া। সেসবের পরও প্রেমিক-প্রেমিকারা চান বিয়ে করে সারা জীবন এক সঙ্গে সংসার করতে। এই স্বপ্ন নিয়ে ভালোবেসেছিলেন ভারতের বিদ্যাসাগর কলেজের জিওলোজি বিভাগের এক অধ্যাপিকা।

কিন্তু বিয়ের করা নাম শুনলেই বেঁকে বসতেন প্রেমিক। তাই নিয়েই তাদের মধ্যে ঝামেলার সূত্রপাত। অনেক বুঝিয়েও বিয়ের করার জন্য প্রেমিককে রাজি না করাতে পেরে হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠিয়ে আত্মহত্যা করলেন ভারতের সিউড়ি নামক অঞ্চলের বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যাপিকা।

ওই অধ্যাপিকার নাম শুভ্রা মণ্ডল। তিনি বিদ্যাসাগর কলেজের জিওলোজি বিভাগে আংশিক সময়ের জন্য অধ্যাপনা করতেন। 
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুভ্রার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিলো করিধ্যার বাসিন্দা সুমন চট্টপাধ্যায়ের। সুমন শুভ্রাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেও বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিলেন না। একসঙ্গে মেলামেশা, ঘুরে বেরানো, রেস্টুরেন্টে যাওয়া-সবই করলেও বিয়ে করতে নারাজ ছিলেন প্রেমিক।

শুভ্রা তাকে বারবার বুঝিয়েছিলেন। কিন্তু প্রত্যেকবারই কোনো না কোনো অজুহাত দেখিয়ে বিয়ের কথা থেকে সরে আসতেন সুমন। এই দু’জনের মধ্যে সমস্যা চরমে ওঠে। 
মৃত্যুর আগে দুজনের ঝগড়া হয় বলে শুভ্রার পরিবারের দাবি। কিন্তু এই ধরনের ঝামেলা তাদের মধ্যে মাঝেমাঝেই হতো। তাই বিশেষ আমল দেননি কেউ। তারা ভেবেছিলেন সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এদিকে রাতে খাওয়ার পর নিজের ঘরে চলে যান শুভ্রা। পরে দীর্ঘক্ষণ দরজা না খোলায় বাড়ির লোকেদের সন্দেহ হয়। দরজা খুলে শুভ্রাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পাশেই রাখা ছিল তার মোবাইল ফোন। দেখা যায়, আত্মহত্যা করার আগেই সুমনকে শেষবারের মতো ছবি পাঠিয়ে বিয়ের করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু সুমন তাতেও রাজি না হওয়ায় চরম সিদ্ধান্ত নেন শুভ্রা।

এই ঘটনার পর সিউড়ি থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুমন চট্টোপাধ্যায়ের নামে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারও করা হয়েছে সুমনকে।