শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ২ ১৪২৬  

ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিশ্বকাপে চোখ বাংলাদেশের

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত : ০৭:২৮ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

বিশ্বকাপের পর থেকে সময়টা ভালো যাচ্ছে না বাংলাদেশের। মাত্র তিনদিন আগে টেস্ট ক্রিকেটের নবীনতম দল আফগানিস্তানের কাছে এক ম্যাচের সিরিজ ২২৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা। এ দুঃস্মৃতি অল্প সময়ে ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেই দুঃস্মৃতি নিয়ে শুক্রবার থেকে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামছেন টাইগাররা।সিরিজের অন্য দু’টি দল আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ। টেস্ট হারের দুঃস্মৃতি পেছনে ফেলে, নতুন ফরম্যাটে নতুনভাবে পথচলা শুরু করা প্রধান লক্ষ্য স্বাগতিকদের।

সেই সঙ্গে আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির প্রথম ধাপও এটি। আগামীকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ। ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। ১১৪ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে দুই ম্যাচ খেলা আফগানিস্তানের মুখোমুখি হন সাকিবরা। অভিজ্ঞতার ভান্ডারে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

কিন্তু অভিজ্ঞতাই যে, সবসময় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে তা নয়। আবার তারুণ্যনির্ভর দলই যে আগুনের মতো জ্বলে উঠবে, তাও কিন্তু নয়। ক্রিকেট এমন একটা খেলা, যেখানে বাঁকে বাঁকে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। এতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পরিকল্পনাতেও ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হয়।কিন্তু প্রায় ২০ বছর টেস্ট খেলে ‘বুড়ো’ হয়েও, তা রপ্ত করার কৌশলটা এখনো শিখতে পারেনি বাংলাদেশ। যার ফল আফগানিস্তানের মতো দলের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ।

আরও সহজভাবে বললে, প্রতিপক্ষের ১৯ বছর বয়সী অধিনায়ক রশিদ খানের স্পিন বিষে পুড়ে ছারখার মুশফিকরা।এতে মনে পড়ে গেল অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ সিরিজের কথা। ১৮৮২ সালের ২৮ আগস্ট তিনদিনের একটি ম্যাচ দু’দিনেই অসিদের কাছে ৭ রানে হারে ইংলিশরা। দলের হারে ইংল্যান্ডের তৎকালীন সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা বলেছিল- দেশের ক্রিকেটের মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে গেল। ব্রিটিশ ক্রিকেটের অস্তিত্ব এখন শুধুই ‘ছাই’ যার ইংরেজী ‘অ্যাশেজ’। সেই থেকে দুই দলের অ্যাশেজ লড়াই শুরু।

কিন্তু অনেক বছর পেরিয়ে আজ বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বড় দল ইংল্যান্ড। আফগানিস্তানের কাছে হারের পর অনেকে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ‘মৃত্যু বা ছাই’ দেখছেন। কিন্তু তেমনটা না হলেই ভালো হবে। নতুন কোনো টেস্ট সিরিজে নতুন চেহারায় দেখা যাবে বাংলার ছেলেদের। এমনই প্রত্যাশা।

তবে এখন ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখার প্রত্যাশায় ক্রিকেটপ্রেমিরা। কিন্তু এ ফরম্যাটে পরিসংখ্যান ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে না। ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩টি সিরিজ বা টুর্নামেন্ট খেলে মাত্র একবার সেরার মুকুট পরে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৩টি ড্র’ও আছে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সবশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে তিন ম্যাচ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারে টাইগাররা। অবশ্য আগের সিরিজেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল তাদের। গেল বছরের মাঝামাঝিতে ক্যারিবীয় সফরে তিন ম্যাচ সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতে বাংলাদেশ। এটিই ছিল ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের একটি সিরিজ জয়।

তবে এবার ত্রিদেশীয় সিরিজে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আফগানিস্তানের কাছে টেস্ট সিরিজ হারের পর ত্রিদেশীয় সিরিজে ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। সাকিব বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এ টেস্ট আমাদের ভুলে যাওয়া প্রয়োজন। সামনেই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তাই ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের দিকে নজর দিতে হবে আমাদের। এ ফরম্যাটে আফগানিস্তান খুবই ভালো দল। আগামী বছরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তাই এ সংস্করণে এখন থেকেই আমাদের ভালোভাবে নজর দেয়া জরুরি।

ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভালো সাফল্য নেই তাদের। ২০১০ সালে সবশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জিতেছিল তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রতিপক্ষের মাটিতে এক ম্যাচের সিরিজ জিতেছিল জিম্বাবুইয়ানরা। আর সাম্প্রতিক সময়ে অর্থাৎ এ বছর দু’টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে তারা। দুই ম্যাচের সিরিজে নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ডসের বিপক্ষে দু’টি সিরিজই ড্র করে জিম্বাবুয়ে।

তবে হতাশা নিয়েই বাংলাদেশে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে এসেছে রোডেশিয়ানরা। গত জুলাইয়ে তাদের ক্রিকেট থেকে বরখাস্ত করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তাই সবধরনের ক্রিকেটে খেলাটা বন্ধ হয়ে যায় তাদের। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সহায়তায় শেষ পর্যন্ত সিরিজটি খেলার সুযোগ পায় জিম্বাবুয়ে।
তাই বিসিবি’র কাছে কৃতজ্ঞ জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমাদের অনেক সমর্থন দিয়েছে। আবারো ক্রিকেট খেলার সুযোগ করে দেয়ার জন্য এদেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আমরা আবারো মাঠে ফিরতে যাচ্ছি এবং আবার খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। হতাশা থাকলেও ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে চনমনে আছে জিম্বাবুয়ে। কারণ গতকাল ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে নিজেদের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একাদশকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে তারা।

বাংলাদেশ দল : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম, শেখ মেহেদি হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান ও ইয়াসিন আরাফাত মিশু।

জিম্বাবুয়ে দল: হ্যামিলটন মাসাকাদজা (অধিনায়ক), রেগিস চাকাভা, রিচমন্ড মুতুম্বামি, শন উইলিয়ামস, নেভিল মাদজিভা, টিনোটেন্ডা মুতোমবদজি, টনি মুনিওয়াঙ্গা, কাইল জার্ভিস, তেন্ডাই চাতারা, কিস্টোফার এমপোফু, ক্রেইগ আরভিন, বেন্ডন টেইলর, আইনস্লে এনডিলোভু, টিমিচেন মারুমা ও রায়ার্ন বার্ল।