শায়েস্তা খানের আমলে সত্যিই কি টাকায় ৮ মণ চাল পাওয়া যেত?
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ২০:১১ ৪ অক্টোবর ২০২৬
‘‘শায়েস্তা খান ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় লালবাগ দুর্গের পশ্চিম গেট বন্ধ করে দেন এবং সেখানে একটি শিলা স্থাপন করে লিখে যান- যতদিন পর্যন্ত চালের মূল্য তার সময়ের মত সস্তা না হবে ততদিন এই গেট খোলা যাবে না।’’
ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আব্দুল করিম ‘বাংলার ইতিহাস’ বইয়ে মুঘল শাসনামলে বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খানের সময়কার চালের দামের বিষয়টিকে এভাবে চিত্রায়িত করেছেন।
অধ্যাপক করিম এটিও উল্লেখ করেছিলেন যে, প্রকৃতপক্ষেই সেই গেটটি অর্ধ শতকেরও বেশি সময় পর্যন্ত বন্ধ ছিল।
পরে ১৭৪০ সালে নবাব সরফরাজ খানের সময়ে চালের মূল্য আবার কমে টাকায় আট মণ হলে ঐ গেইট খোলা হয়, এই তথ্যও অধ্যাপক করিম উল্লেখ করেছেন তার বইয়ে।
ইতিহাসের পাঠ্যবই কিংবা নানা গবেষণায় শায়েস্তা খানের আমলে টাকায় আট মণ চালের বিষয়টি এত বিশদভাবে চর্চিত হয়েছে যে, বিভিন্ন সময় সস্তা দামের প্রসঙ্গ আসলেই শায়েস্তা খানের আমলের বিষয়টি সামনে আসে।
আবার কখনো বাজারে চাল ডালসহ জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও উদাহরণ হিসেবে শায়েস্তা খানের আমলের প্রসঙ্গ টানেন অনেকেই।
নানা সময়ে ইতিহাস গবেষকদের কাছেও এই প্রশ্ন সামনে এসেছে যে আসলেই কি শায়েস্তা খানের আমলে জিনিসপত্র খুব সস্তা ছিল? তিনি কী সত্যিই বাংলার সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতেন? চালের দাম সস্তা থাকার মানে কি সেই সময় মানুষ খুব সুখে ছিল?
সত্যিই টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেতো?
বর্তমানে বাংলাদেশে কয়েকদিন পরপরই বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। দ্রব্যমূল্যের পাশাপাশি চালের দামও প্রায়ই বাড়ছে বাজারে।
তাই নিত্য ও ভোগ্য পণ্যের দাম যখনই বাড়ে তখনই মানুষ সেই শায়েস্তা খানের আমলকে সামনে আনে। কারণ সেই সময়ের জিনিসপত্রের দাম।
শায়েস্তা খানের শাসনামলের বর্ণনা দিতে গিয়ে উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রাডলি বার্ট লিখেন, ‘‘তার স্মৃতি আজো প্রদেশব্যাপী সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বলা হয়ে থাকে যে তার শাসনামলে চাল এত সস্তায় বিক্রি হত যে এক টাকায় ৭৪০ পাউন্ড বা আট মন চাল পাওয়া যেতো।’’
ইতিহাসবিদদের মতে, শুধু আট মণ নয় কখনো কখনো টাকায় নয় মণেরও বেশি চাল পাওয়া যেতো।
ডক্টর মোহর আলী ‘মুঘল আমলে বাংলায় মুসলিম শাসনের ইতিহাস’ বইয়ে লিখেন- ‘‘তিনি তার এই কৃতিত্বের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। তাই শেষবারের মত প্রদেশ ত্যাগের সময় তিনি জাহাঙ্গীর নগরের (ঢাকার) পশ্চিম ফটকে এই কথা উৎকীর্ণ করে দিয়েছিলেন- যিনি চালের দর এত সস্তায় নামিয়ে আনতে পারবেন শুধু তিনিই যেন এই ফটক খোলেন।’’
ইতিহাসের শিক্ষক ও গবেষক ড. নাসিমা হামিদ বলছিলেন, ‘‘সুবেদার শায়েস্তা খানের আমলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কম ছিল। তখন টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক এবং বিদেশী পর্যটকদের বিবরণী থেকে এর সত্যতা পাওয়া যায়।’’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আব্দুল করিমও বিষয়টিকে এভাবে উল্লেখ করেছেন যে- ‘‘এর আগে এত সস্তা আর কোনো সময় ছিল না।’’
ইতিহাসবিদদের বইয়ে উঠে এসেছে, চালের দাম টাকায় আট মণ না হওয়া পর্যন্ত লালবাগ দুর্গের পশ্চিম গেটটি বন্ধ ছিল সুজাউদ্দীন মুহাম্মদ খানের সুবাদারী পর্যন্ত।
ইতিহাসবিদ মোহর আলীর বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭৪০ সালে নবাব সরফরাজ খানের সময়ে চালের মূল্য আবার কমে টাকায় আট মণ হলে ঐ গেইট খোলা হয়। এই তথ্যও অধ্যাপক করিমও উল্লেখ করেছেন তার বইয়ে।
চালের কম দামের পেছনে কী কারণ ছিল?
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে শায়েস্তা খান দুই দফায় প্রায় ২২ বছর বাংলা শাসন করেছিলেন।
এই সময়ে একদিকে যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে যেমন বাংলার সীমানা বাড়িয়েছিলেন, তেমনি প্রশাসনিক সংস্কার, কর্মকর্তাদের মধ্যে দুর্নীতি দমন এবং অবৈধ কর বিলোপ করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার জন্যও প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি।
ফলে তার শাসনামলে প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকা মুঘলদের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত হয়।
মুঘল আমলে বাংলায় মুসলিম শাসনের ইতিহাস বইয়ে ডক্টর মুহাম্মদ মোহর আলী লিখেন, শায়েস্তা খানের সুবাদারী ছিল বাংলায় ‘মুঘল মুসলিম শাসনের সেরা যুগ’।
শায়েস্তা খানের আগে বাংলার সুবাদার বা শাসক ছিলেন মীর জুমলা। মীর জুমলার সুবাদারীর শেষের দিকে ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল বলেও বিভিন্ন বইয়ে উল্লেখ রয়েছে।
মুহাম্মদ মোহর আলী তার বইয়ে লিখেছেন, ‘‘তখন ঢাকা এবং এর আশেপাশে যে দুর্ভিক্ষ দেখা গিয়েছিল তার পরে এসে শায়েস্তা খানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল সেটি কোনভাবেই কম কৃতিত্বের ব্যাপার ছিল না।’’
ফলে ঢাকার দায়িত্বে আসার পর চালসহ নিত্যপণ্যের ফলন ও উৎপাদন বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন শায়েস্তা খান।
অধ্যাপক আব্দুল করিমের বাংলার ইতিহাস বইয়ে বলা হয়েছে, ‘‘শায়েস্তা খান কৃষির উন্নতির জন্য কৃষকদের দ্বৈতকর আরোপ থেকে রক্ষা করেন। সঙ্গে সঙ্গে কৃষি পণ্য বাজারজাত করার জন্য ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দেন।’’
এই গবেষকদের মতে, শায়েস্তা খানের বাজার তদারকি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমসহ বেশ কিছু কারণে সে সময়ে চাল ডালসহ ভোগ্যপণ্য ও জিনিসপত্রের তুলনামূলক অনেক কম ছিল।
কিন্তু সেই কারণেই যে চালের দাম কম ছিল বা টাকায় আট থেকে নয় মণ চাল পাওয়া যেতো সেই বিষয়টি ভিন্নমত পোষণ করে অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘‘তখন কৃষকদের অবস্থা অনেক করুণ ছিল। কোন রাসায়নিক সারের ব্যবহার ও সেচ ব্যবস্থা ছাড়াই ধান চাল উৎপাদন করতে হতো।’’
তিনি বলেন, ‘‘এত সংকটের মধ্যেই মৌসুমি বায়ু ও কায়্যিক শ্রম নির্ভর কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় কৃষককে এক টাকা উৎপাদনের জন্য এক টাকা আয় করার জন্য আট মণ চাল উৎপাদন করতে হয়েছে। এটি কোনভাবেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মানদণ্ড নয়।’’
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে অধ্যাপক রাব্বানীর আলোচনা থেকে।
তার ভাষ্য উঠে এসেছে, প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা থেকে চাল রফতানি হতো। ব্রিটিশসহ বিভিন্ন দেশের বণিকরা জাহাজ করে ঢাকার মসলিন নিয়ে যেতো। মসলিন ছিল খুবই হালকা। কিন্তু সমুদ্রে জাহাজের ব্যালেন্স রক্ষার জন্য জাহাজগুলো ভারি হতে হতো। যে কারণে বিদেশি বণিকরা মসলিনের পাশাপাশি চালও নিয়ে যেতো জাহাজে। তখন বাংলাসহ উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে চাল সংগ্রহ করতো ভিনদেশি বণিকেরা।
এই বিষয়টি যখন শায়েস্তা খানের নজরে আসে তখন শায়েস্তা খান চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেন।
অধ্যাপক রাব্বানী বলছিলেন, ‘‘তখন শায়েস্তা খান ইতিহাসে তার নাম লেখানোর জন্য, চাল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। চাল রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল। চাল রফতানি বন্ধের পর তখন কৃষকের ঘরে ঘরে চাল পচতে শুরু করলো, তখন টাকা আট মণেরও বেশিও চাল পাওয়া যেতো।’’
অবশ্য সেই সময় সময় বড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি। যে কারণে সে সময় প্রচুর খাদ্যশস্য উৎপাদন হতো ও বাজারে তার সরবারহ থাকতো বলেও চালের দাম কম থাকার পেছনে আরেকটা কারণ বলে মনে করেন শিক্ষক ও গবেষক ড. নাসিমা হামিদ।
ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকারের মতে, ঢাকা বাংলার প্রধান ধান উৎপাদনকারী অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ছিল। তাই মধ্য বাংলার তুলনায় ঢাকায় চাল ও অন্যান্য খাদ্যশস্যের দাম স্বাভাবিকভাবেই কম ছিল। এছাড়া তখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও খুব কম ছিল। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে পণ্যসামগ্রী সহজলভ্য ছিল না।
যেমন ছিল অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা
শুধু শায়েস্তা খানের আমলে নয় প্রাচীন আমল থেকেই বাংলার অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। তিনি কৃষি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কৃষকদের দ্বৈত কর আরোপ থেকে রক্ষা করেন।
বিভিন্ন বইয়ে এটি উঠে এসেছে যে শায়েস্তা খানের আমলে বাংলার প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল।
কেননা, তখন আমদানি রফতানিতে ইউরোপীয় বণিকদের উৎসাহ দিতেন সুবাদার শায়েস্তা খান। তার আমলেই বাংলাদেশে কুটির শিল্প ও বস্ত্র শিল্পের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়। বাংলায় সুতি ও রেশন বস্ত্র ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষক ড. মো. আদনান আরিফ সালিম বলেন, ‘‘শায়েস্তা খানের শাসনকাল ছিল বাংলার প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলার সুবাদার হিসেবে তিনি রাজস্ব ব্যবস্থা সুসংগঠিত করেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখেন।’’
তবে তার এই ভূমিকা যে বাংলার সাধারণ মানুষকে খুব উপকৃত করেছে বিষয়টি একেবারেই তেমন নয়।
ইতিহাস গবেষকরা বলছেন, তার আমলে অতিরিক্ত খাজনা দিতে গিয়ে অনেকে তখন অসহায়ও হয়ে পড়েছিলেন।
অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলছিলেন, ‘‘শায়েস্তা খানের কিছু পদক্ষেপ দেখে অনেকেই মনে করতে পারেন যে এই বিষয়গুলো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বাস্তব চিত্র। কিন্তু এটি কখনোই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে নির্দেশ করে না।’’
প্রথমত অতিরিক্ত খাজনা আদায় দ্বিতীয় উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম না পাওয়ায় সাধারণ কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষের ভোগান্তিও বেড়েছিল।
ড. সালিম বলছিলেন, ‘‘তার প্রশাসনিক দক্ষতায় বাংলায় শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হলেও মূল্যস্ফীতি, রাজস্বনীতি কিংবা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে।’’
তবে, এখানে আরেকটি বিষয়কেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ইতিহাস গবেষকরা। সেটি হচ্ছে দৈনন্দিন কেনাকাটায় অর্থের ব্যবহার।
কেননা, মুঘল আমলে নিত্যদিনের কেনাকাটায় অর্থের ব্যবহার ছিল না বলেও জানা যায়।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘তখনকার দৈনন্দিন কেনাকাটায় টাকা বা অর্থের ব্যবহার ছিল খুবই কম। সমাজের মানুষ তখন লেনদেন করতো বিনিময় প্রথার মাধ্যমে।’’
তিনি উদাহরণ দেন, ‘‘ধরেন একজন নাপিতের কাছে চুল কাটলেন সে কিন্তু তাকে টাকা কড়ি কিছু দিত না তাৎক্ষণিকভাবে। বছরে যখন ধানের মৌসুম আসতো তখন তাকে ওই চুল কাটার বিনিময়ে ধান দিয়ে দিতেন।’’
কড়ি-আনা-পাই থেকে রৌপ্য মুদ্রা
ইতিহাসবিদের অনেকে মনে করেন যে সব মুঘল সুবাদার বাংলা শাসন করতে এসেছেন তাদের বেশিরভাগই শাসনকাজ শেষে আবার দিল্লিতে ফিরে যেতেন।
তাদের অনেকেই বাংলার সাধারণ মানুষ কিংবা কৃষকের দুঃখ কষ্টের বিষয়গুলোকে ততোটা আমলে নিতেন না। মানুষের হাতে টাকা ফসল ছাড়া আর তেমন কোনো সম্পদ ছিল না। সেই অর্থনীতি ছিল খোরাকি অর্থনীতি।
যে বছর ভাল ফসল উৎপাদন হতো সেই বছর সাধারণ কৃষক ও মানুষের পেটে আহার জুটতো। আর দৈনন্দিন কেনাকাটা ফসলের লেনদেন বেশি হতো। আর কিছু কিছু কেনাকাটায় ছিল কড়ির ব্যবহার।
উদাহরণ দিয়ে অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলছিলেন, কিছু কিছু কেনাকাটায় কড়ির ব্যবহার ছিল। সাধারণ মানুষের কাছে রৌপ্যমুদ্রা ছিল না। রৌপ্য মুদ্রা ব্যবসায়ীদের কাজে ব্যবহার হতো।
আর যে কড়ি ছিল সেগুলোও মালদ্বীপ থেকে চালের বিনিময়ে আনা হতো বলেও জানান তিনি।
তখনকার যে হিসাব ছিল সে অনুযায়ী, টাকার স্থান ছিল অনেক ওপরে। তখনকার হিসাবে চার কড়িতে ছিল এক গণ্ডা। ২০ গণ্ডায় হতো এক পণ। চার পণে হতো এক আনা। সেই সময়ের হিসাবে ৮০ কড়িতে হতো এক আনা। আর ১৬ আনায় হতো এক টাকা।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘তখন এখনকার মতো টাকা নিয়ে কোন আলাপ হতো না। মানুষের হিসাব ছিল কড়ি নিয়েই। তখন পয়সার মূল্যই ছিল অনেক বেশি।’’
তিনি বলেন, ‘‘তখন মানি ইকনোমি ছিল না। টাকা পয়সার হিসাব, লেনদেন এগুলো ছিল খুবই সীমিত। চাল কেনাবেচাও খুব সীমিত ছিল। বেশিরভাগ পরিবার নিজেরা চাল উৎপাদন করে খেতো। বাজার থেকে কিনে চাল খাওয়ার ঘটনা খুব কম হতো।’’
তখন রৌপ্য মুদ্রা তখন রাষ্ট্রীয় কেনাবেচা চলতো। জমিদার বা গোস্বামীরাই রৌপ্যমুদ্রা বা টাকার ব্যবহার করতেন বড় ব্যবসায়িক কাজে।
তখনকার রৌপ্যমুদ্রায় এক টাকা আর বর্তমান এক টাকার মধ্যেও বহুত তফাত রয়েছে বলেও জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ।
মোগল আমলের এক টাকার মুদ্রা ছিল খাঁটি রুপার তৈরি (যার ওজন ছিল ১ ভরি বা প্রায় ১১.৬ গ্রাম)। সেই হিসেব: বর্তমানে ১ ভরি (১১.৬৬ গ্রাম) ২২ ক্যারেট রুপার দাম প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা। সেই সময় এক ভরি সোনা ১৬ টাকায় পাওয়া যেত বলে কোনো কোনো ঐতিহাসিক লিখেছেন।
আনু মুহাম্মদ বলছিলেন, তখনকার আমলের টাকার সঙ্গে এখনকার আমলের টাকার হিসাব করা যাবে না। আর যদি হিসাবও করা হয় সেই পরিমাণ হবে এক টাকা সমান বর্তমানের কয়েক হাজার টাকা।
যদিও কৃষি অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক উন্নয়নে বাংলাদেশের ইতিহাসে শায়েস্তা খানের আমলকে একটি স্বর্ণযুগ স্মরণীয় যুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।
শিক্ষক ও গবেষক নাসিমা হামিদ বলছিলেন, শায়েস্তা খানের আমলেই বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বিকশিত হয় এবং প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকা মুঘলদের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত হয়। অষ্টাদশ শতাব্দীর সরকারি নথিপত্রে বাংলাকে ‘ভারতের স্বর্গ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
- আমুসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই অভিযোগপত্র
- এলপিজির দামে বড় লাফ
- অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা
- শায়েস্তা খানের আমলে সত্যিই কি টাকায় ৮ মণ চাল পাওয়া যেত?
- কলার খোসা ছাড়ানোর আগে ধুয়ে নেবেন অবশ্যই
- গয়না ছাড়াও যেসব কাজে ব্যবহার হয় সোনা
- ইংল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ
- শামিমার হস্তশিল্পে ঘুচছে ৩০ নারীর বেকারত্ব
- জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেফতার
- বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই
- এআই প্রতিযোগিতায় জেমিনির নতুন মডেল
- এশিয়ান গেমস: সোনার স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের
- সকালের রোদের আশ্চর্যজনক উপকারিতাগুলো জেনে নিন
- রোজার আগে ২ হাজার ইউপি নির্বাচন করার পরিকল্পনা ইসির
- ৪৯তম বিসিএসে গোপালগঞ্জের ১১ প্রার্থীর ৯ জন বাদ
- মিষ্টির আসন শূন্য হচ্ছে, পদ হারাচ্ছেন না নজরুল: অ্যাটর্নি জেনারেল
- আমাদের ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ কেন বলা হয়?
- কুকুর কামড়ালে প্রথমে যা করবেন, ভুল করলেই বিপদ
- রাগ করে স্ত্রীকে ‘ডিভোর্স দিলাম’ বললে কি তালাক হয়?
- বিপিসিকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকার
- তারেক-মোদীর দৃষ্টিভঙ্গি একই: ত্রিবেদী
- এ বছর কার্ড পাবেন ৪৩ লাখ কৃষক
- পুরুষের তুলনায় নারী বেশি মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন কেন?
- এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি হচ্ছেন তামিম
- আসল জামদানি শাড়ি চেনার সহজ উপায়
- হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১১০০ ছাড়াল
- এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ
- দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিন সরকারি ছুটি
- হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১১০০ ছুঁই ছুঁই
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলা ফেরানো অসম্ভব: নাহিদ
- সম্পর্ক ঠিক রাখতে যেসব বিষয় সত্যি কাজে দেয়
- জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭ জনের জামিন নাকচ
- তারেক-মোদীর দৃষ্টিভঙ্গি একই: ত্রিবেদী
- তারা সালমান মুক্তাদিরকে চেনে না: রাফসান
- আমাদের ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ কেন বলা হয়?
- সালমান মুক্তাদির চাঁদাবাজির ঢালাও অভিযোগ করেছেন:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুর: আরও ৬ আসামি কারাগারে
- প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য জাপান, তুরস্ক ও সৌদি সফর নিয়ে আলোচনা
- চালু হচ্ছে বন্ধ পাটকল, ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি
- দাঁতের সুরক্ষায় যেসব খাবার অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন
- রঙিন পোশাকে সেঞ্চুরি রাঙা দিন
- দৈনিক একটি কলা
- রাগ করে স্ত্রীকে ‘ডিভোর্স দিলাম’ বললে কি তালাক হয়?
- হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১১০০ ছুঁই ছুঁই
- হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১১০০ ছাড়াল
- এ বছর কার্ড পাবেন ৪৩ লাখ কৃষক
- ৪৯তম বিসিএসে গোপালগঞ্জের ১১ প্রার্থীর ৯ জন বাদ
- গয়না ছাড়াও যেসব কাজে ব্যবহার হয় সোনা
- এশিয়ান গেমস: সোনার স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলা ফেরানো অসম্ভব: নাহিদ





