প্রাপ্তবয়স্করাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে কেন?
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ১৩:১০ ১৮ মে ২০২৬
বাংলাদেশের শিশুদের ব্যাপকভাবে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হওয়ার মধ্যেই রাজধানী ঢাকাসহ কিছু এলাকায় বড়দের বা প্রাপ্তবয়স্কদের হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় হাসপাতালে হামে আক্রান্ত বড়দের চিকিৎসার জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
কিন্তু প্রাপ্তবয়স্করা কেন এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে? বড়দের অর্থাৎ ২০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে যারা হামে আক্রান্ত হচ্ছে তাদের নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ আছে কিনা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম শিশুদের জন্য যতটা উদ্বেগের, বড়দের জন্য তা নয় বলেই মনে করেন তারা।
রবিবার (১৭ মে) পর্যন্ত বাংলাদেশে হাম উপসর্গ নিয়ে ৪৫৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই হাম ভয়াবহ আকার ধারণ করতে শুরু করেছিল। এজন্য গত কয়েক বছরে শিশুদের হামের টিকা না দেওয়াকেই বড় কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগ গত মাসের শেষ দিকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থাটি বাংলাদেশে হামের টিকার তীব্র ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান মৃত্যুহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বড়রাও কী আক্রান্ত হচ্ছে
ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালে বড়রাও হামের উপসর্গ নিয়ে এসে চিকিৎসা নিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে বলছে যে, বড়দের হামে আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট তাদের কাছে যায়নি। বিশেষ করে ঢাকার ডিএনসিসি হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বড়রাও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার খবর দেশের সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
ঢাকার বাইরেও কয়েকটি জায়গায় ২০ বছরের বেশি বয়সীদের হামে আক্রান্ত কিংবা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির খবর পাওয়া গেছে।
রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা জানিয়েছেন, রংপুর বিভাগে এমন রোগীর সংখ্যা ৬ জন এবং তাদের হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “তবে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে বয়স্কদের হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনা নেই।”
রংপুরে বড়দের মধ্যে যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলছেন, বড়দের মধ্যে যারা হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে তাদের অবস্থা গুরুতর নয় এবং যথাযথ চিকিৎসায় তারা সেরে উঠছে।

বাংলাদেশে শিশুদের টিকা দেওয়ার কর্মসূচি চলছে। ছবি: সংগৃহীত
তিনি বলেন, “৫/৬ জন এখন চিকিৎসাধীন আছে। তবে বয়স্কদের মধ্যে যাদের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে তাদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। আমরা শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে সর্বোচ্চ কাজ করছি।”
ঢাকার হামের চিকিৎসার জন্য মহাখালীতে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালে শিশুদের জন্য পৃথক ওয়ার্ডের পাশাপাশি ১২ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য 'ইনফেকশাস ব্লক' করা হয়েছে।
বড়রা কেন আক্রান্ত হয়
স্বাস্থ্য বিভাগের উপপরিচালক সৈয়দ আবু আহাম্মদ শফি বলছেন, বড়দের সাধারণত শিশুদের তুলনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে এবং সে কারণেই তাদের হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কম থাকে।
তিনি বলেন, “তবে নানা কারণে কারও শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে তিনিও শিশুদের মতো একইভাবে হামে আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু সাধারণত বড়রা চিকিৎসায় সহজেই সেরে ওঠে। তবে ঢাকায় আমরা এখনো বড়দের হামে আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট পাইনি।”
সৈয়দ আবু আহাম্মদ শফি বলেন, “অন্য রোগের কারণে যারা দুর্বল, যারা ক্যান্সার বা এ ধরনের রোগে আক্রান্ত কিংবা কোনো রোগের চিকিৎসার জন্য স্টেরয়েড নিতে হচ্ছে, যারা টিবি বা যক্ষ্মায় আক্রান্ত এবং সর্বোপরি হার্ড ইমিউনিটি কমে গেলে যে কেউ হামে আক্রান্ত হতে পারে।”
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভ্যাকসিন নলেজ প্রজেক্টের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যখন একটি এলাকার বেশিরভাগ মানুষকে কোনো একটি সংক্রামক রোগের প্রতিষেধক দেওয়া হয়; তখন ওই এলাকায় ওই রোগটির ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে না। কারণ ওই এলাকায় আর সংক্রমিত হওয়ার মতো মানুষই থাকে না।
উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, একটি সম্প্রদায়ের কারো মধ্যে যদি হাম দেখা দেয়, আর বেশিরভাগ মানুষের যদি টিকা দেওয়া থাকে তাহলে ওই রোগটি আর কারো মধ্যে ছড়াতে পারে না। এটাই হার্ড ইমিউনিটি বা কমিউনিটি ইমিউনিটি। এর কারণে নবজাতক শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ মানুষ যাদেরকে টিকা দেওয়া সম্ভব নয় তারা রোগমুক্ত থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড়রা আক্রান্ত হলেও তারা সাধারণত সেরে ওঠে। ছবি: সংগৃহীত
কিন্তু এখন ব্যাপকভাবে হাম ছড়িয়ে পড়ার কারণে হার্ড ইমিউনিটি আর কার্যকর নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। আর সে কারণেই শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও হামে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।
আবার সরকার নতুন করে হামের টিকা ব্যাপকভাবে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে এবং আগামী মাসে ভিটামিন এ টিকাও খাওয়ানোর কর্মসূচি আছে। আবার আগে সম্প্রসারিত টিকাদান বা ইপিআই কর্মসূচিতে শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হওয়া হতো ৯ মাসে, যা এবার ৬ মাসে এগিয়ে আনা হয়েছে।
সে কারণেই ৮০ শতাংশের বেশি শিশু টিকার আওতায় চলে এলে আবারও হামের ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যদিও স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত যে মোট প্রায় ৫৮ হাজার মানুষ সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে; তাদের মধ্যে বড়দের বা প্রাপ্তবয়স্কদের সংখ্যা কত তার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলছেন, ক্যান্সারের চিকিৎসায় যারা রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি নিচ্ছে কিংবা কিডনির ডায়ালাইসিস করাচ্ছে হামের ক্ষেত্রে বড়দের মধ্যে তাদের ঝুঁকি বেশি থাকে।
তিনি বলেন, “এছাড়া বড়রা আক্রান্ত হলেও তা সেরে ওঠে। হামের জন্য শিশুরাই মূলত ঝুঁকিপূর্ণ। সে কারণেই শিশুদের টিকা দেওয়া হয়।”
প্রসঙ্গত, হাম শুধু বাংলাদেশই না, বরং যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার মতো উন্নত দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যেই সতর্ক করে বলেছে, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় বিশ্বের কিছু অঞ্চলে আবার হাম রোগের পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে।
চিকিৎসা বিষয়ক জার্নাল দ্য ল্যানসেট এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক হাম প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড মহামারির সময়ে সারাবিশ্বেই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ব্যাঘাতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে টিকা বিরোধী প্রচারণাও বেড়েছে, যা হাম সংক্রমণ ফিরে আসার পথ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশেও হাম ফিরে আসার জন্য গত কয়েক বছরে ঠিকমতো টিকা দিতে না পারাকেই দায়ী করেছে সরকার।
- ভাত রান্নার আগে চাল ভালো করে ধুতে বলা হয় কেন?
- মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট রাখা বাধ্যতামূলক
- বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনল বিজিবি
- এডিস মশা শনাক্ত করবে ‘স্মার্ট ফাঁদ’
- এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
- ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে দারিদ্র্য, ধারণা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের
- বয়স্করা যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
- বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
- বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি পরিবর্তন
- ঢাকার বায়ুদূষণ দেশের জন্য লজ্জার বিষয়: প্রধানমন্ত্রী
- ‘বাংলাদেশ পথ দেখিয়েছে’, নেহার ভিডিও নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির
- প্রক্রিয়া শুরু
মালয়েশিয়ায় যেভাবে হবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ - দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারে চোখে জ্বালাপোড়া, সমাধান কী?
- ওষুধ কারখানার আগুনে ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রাণহানি নেই
- নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের চিঠি
- ক্যারিয়ার সেরা র্যাঙ্কিংয়ে হাসান মাহমুদ
- রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনের মৃত্যু
- অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই
- দূষণজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা? বুঝবেন যেভাবে
- সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে দৈত্যাকার দানব
- নিউটনের ঢের আগে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টের পান দা ভিঞ্চি!
- সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার
- নাফ নদীতে ইয়াবা পাচারের ‘ডুবন্ত সাবমেরিন’ উদ্ধার
- বাংলাদেশ থেকে জয় ছিনিয়ে ড্র আফগানিস্তানের
- বন্ধুর চেয়ে শত্রুর নাম বেশি মনে থাকে কেন?
- সারাদেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে
- অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
- বাংলাদেশসহ কয়েক দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে কঠোর যুক্তরাজ্য
- বিধবা কার্ড দিলে সবার আগে এমপির বউ নেবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজারে নজর
- সন্দেহের বশে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে পুশইন নয়: কলকাতা হাইকোর্ট
- বিয়ের জন্য যেমন ছেলে চান মিমি
- যেসব খাবার একসঙ্গে খেলে বেশি পুষ্টি মিলে
- বিমানবন্দরে ‘সোনার ডিম’ উদ্ধার: ৫ দিনের রিমান্ডে আসামি
- রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ: রোসাটম
- শান্তিতে নোবেলজয়ী কে এই নাভি পিল্লাই
- হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসে হাসান মাহমুদ
- দূষণজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা? বুঝবেন যেভাবে
- হঠাৎ চুল পড়া বাড়লে কি করবেন?
- দুর্গাপূজা: বাঙালি হিন্দুদের বড় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত যেভাবে
- অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
- বন্ধুর চেয়ে শত্রুর নাম বেশি মনে থাকে কেন?
- সারাদেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে
- একটি দৃশ্যের জন্য এখনো বারবার মহড়া দেন অমিতাভ
- সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার
- জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা জাতীয় স্বার্থে ব্যয়ের নির্দেশ
- মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজারে নজর
- দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারে চোখে জ্বালাপোড়া, সমাধান কী?
- সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে দৈত্যাকার দানব
- বাংলাদেশসহ কয়েক দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে কঠোর যুক্তরাজ্য




