ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর রোববার, ২০১৯ || ৩১ ভাদ্র ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
২০৯

শীতে শিশুকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে ?

প্রকাশিত: ১০:১৩ ২০ জানুয়ারি ২০১৯  


ঋতু পরিবর্তনের ফলে শীতকালে শিশুরা খুব অল্পতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এমনিতেই শিশুর যত্নে সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়। আর শীতকালে শিশুর চাই বাড়তি যত্ন।

সাধারনত শীতকালেই ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশিসহ অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব একটু বেশি দেখা যায়কিছু ভাইরাস ঘটিত রোগ শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। তাই শীতে শিশুর যত্ন নিতে তার স্বাস্থের প্রতি বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে হয়। একটু অসাবধানতা ডেকে আনতে পারে অনেক বড় সমস্যা।

এই শীতে শিশুর সঠিক পরিচর্যা সুস্বাস্থ্যের প্রতি অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি যত্নবান হতে হয়।

শীতে শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়

শীতে শিশুকে উপযুক্ত আরামদায়ক কিছু বাড়তি গরম কাপড় গায়ে দিতে দেবেন। তার মাথা, ঘাড়, হাত এবং পা ভালোভাবে গরম কাপড়ে ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করুন। সাধারনত প্রাপ্তবয়স্ক লোকের চেয়ে শিশুদের এক লেয়ার বেশি কাপড় নিশ্চিত করুন। আর অবশ্যই শিশুদের জন্য কয়েক জোড়া শীতের কাপড় ব্যবহার করবেন এবং দুই থেকে তিন দিন অন্তর অন্তর তা পরিস্কার করে ধুয়ে ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিবেন।

 

শীতে শুধু ঠাণ্ডা লাগার কারণেই যে বাচ্চা অসুস্থ হবে তা নয়, বরং শীতকালীন অসুখের মূল কারণ বায়ুবাহিত বিভিন্ন রোগজীবাণু । যা সহজেই ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশেষ করে শিশুদের সহজেই আক্রমণ করে। আর সেইসঙ্গে থাকে প্রচুর ধুলোবালি, যা শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে নাক দিয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করলে গলায় কিংবা নাকে প্রদাহ, সর্দি, কাশি সহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। আর মাত্রাতিরিক্ত দূষিত ধোঁয়া এবং ধুলো শিশুদের নিউমোনিয়া কিংবা ব্রঙ্কাইটিসের মতো সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে।

ভালোভাবে হাত না ধুলে এর মাধ্যমে অনেক রোগ ব্যাধি ছড়ায়। বিশেষ করে শিশুদের ভালো ভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস করাতে হবে। শীতে গরম পানিতে শিশুকে হাত ধুতে দিন, কারণ ঠান্ডা লাগার ভয়ে শিশু ভালোভাবে হাত না ধুলে সর্দি, কাশি নিওমোনিয়ার জীবানুতে আক্রান্ত হবার ভয় থাকে।

 

শুষ্ক শীতের মৌসুমে শ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি পানি বেড়িয়ে যায়। এটি একটি বিশেষ লক্ষণীয় বিষয়। আর এজন্য সর্বদা শিশুদের জলযোজিত রাখতে হবে।

এই ঋতুতে বাচ্চাদের বেশি বেশি গরম পানীয় পান করতে দিন। তাতে পানিশুন্যতা পূরণ হবে আর গরম পানি তাকে ঠান্ডা লাগা থেকে দূরে রাখবে।

শীতে সবার ত্বকই শুস্ক রুক্ষ হয়ে যায় আর বিভিন্ন চর্ম রোগ আক্রমন করে। তাই শীতে চাই ত্বকের পর্যাপ্ত ময়েশ্চারাইজার।

 শীতকালে আপনার বাচ্চা স্কুলে অন্যদের মাধ্যমে কিছু ছোঁয়াচে চর্মরোগে আক্রান্ত হতে পারে। শীতে শিশুর ত্বকের যত্ন নিতে বিশেষ খেয়াল রাখুন। নিয়মিত লোশন লাগান যেন ত্বক শুষ্ক হয়ে না যায়।

 

শীতকালের ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দিতে খোলামেলা পরিবেশে খুব বেশি খেলাধুলা করতে না দেয়ায় ভালো। বিশেষ করে শৈত্য প্রবাহের সময়। খুব বেশি ঠান্ডা আবহাওয়া শিশুদের অনেক ক্ষতি করে আর কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। আরও লক্ষ্য রাখবেন শিশু যেন মেঝেতে খালি পায়ে না হাঁটে। শিশুর জন্য বাসায় ব্যবহার উপযোগী জুতা কিনতে পারেন পাশাপাশি ঘরের মেঝেতেও মাদুর বা মোটা কাপড় বিছিয়ে দিতে পারেন। তাহলে মেঝেতে বসে খেলা করলেও ঠাণ্ডা লাগবে না।

 

শীতে আপনার নবজাতক শিশুর ( থেকে ২৮দিন বয়সী শিশু) জন্যে আরও বেশি যত্নবান হতে হবে।

 

আপনার শিশুকে শীতকালে বেশি বেশি ফলমূল, শাকসবজি সুষম খাদ্য খাইয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করুন। তাতে করে আপনার বাচ্চার শুধু শীতের রোগ না বরং অন্য সব রোগের ঝুঁকিও কমে যাবে। এই মৌসুমে নানান রকমের রোগ বালাই থেকে দূরে থাকতে ছোট্ট সোনামণিদের খাওয়ান মৌসুমি ফল সবজি। মূল কথা বাচ্চার ভিটামিন প্রাকৃতিকভাবেই পূরণ করুন। এছাড়া দৈনিক এক চামচ মধু খাওয়ান তাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে সর্দি-কাশি কিংবা ঠাণ্ডা লাগার ঝামেলা একদম কমে যাবে।

 

বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে শীত মৌসুম এলেও অভ্যাসবশত ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি পান, আইসক্রিম খাওয়া বা রাতের বেলায় ফ্যান ছেড়ে ঘুমিয়ে যাওয়ার কারণে টনসিল বা গলায় ব্যথা হয়। তাই তাদের এসব কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে।

 

ঠাণ্ডা বলে পরিচ্ছন্নতায় অবহেলা না করে শিশুকে নিয়মিত গোসল করান। তবে দুপুর ১২ টার আগেই গোসলের পর্ব সেরে ফেলুন। গোসলের পর বাচ্চার মাথা শরীর ভালো করে মুছে তারপর জামা কাপড় পরাবেন। ত্বক ভালো রাখতে অবশ্যই বেবি লোশন বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করবেন নইলে শীতের রুক্ষ বাতাস ত্বকের ক্ষতি করবে।

 

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য শিশুর শরীর হালকা গরম পানি দিয়ে ধোয়ালেও মাথা ধোয়ানোর সময় অবশ্যই স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে। বেবি-শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে সপ্তাহে দুই-এক দিন। তবে শিশুর চুলে খুশকি হলে তা ভালো হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ওর চুলে তেল দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। শ্যাম্পু করার সময় শিশুর মাথা আলতোভাবে মাসাজ করতে হবে। জোরে মাসাজ করলে শিশুর ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।