ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, ২০২৬ || ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
good-food
৭

জাতিসংঘে মামদানিকে তীব্র আক্রমণ নেতানিয়াহুর

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:২৬ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

নির্বাচনে পরাজয়ের ঝুঁকি আর তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

তার এই ভাষণ চলাকালে বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। গাজায় চলমান যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কোণঠাসা হয়ে থাকা নেতানিয়াহুর এই আক্রমণ তার ওপর থাকা বহুমুখী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ভাষণ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হলে কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা অধিবেশন কক্ষ ছাড়েন। জবাবে নেতানিয়াহু তাদের ‘নৈতিক মেরুদণ্ডহীন’ আখ্যা দেন এবং গ্যালারিতে থাকা তার সমর্থকেরা হিব্রু ভাষায় ‘ইসরায়েলের জনগণ বেঁচে আছে’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

ভাষণে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘মি. মামদানি, আপনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিউইয়র্কের অনেক ইহুদি আর নিজেদের নিরাপদ বোধ করছেন না।’ এ সময় তিনি পশ্চিমা নেতাদেরও ‘ইহুদিবিদ্বেষী জনতার’ কাছে নতি স্বীকার করার দায়ে অভিযুক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি কাতার ও তুরস্কের বিরুদ্ধে ইসরায়েল নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তোলেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি আঙ্কারার বিরুদ্ধে হামাস নেতাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করেন।

মামদানিকে উদ্দেশ্য করে নেতানিয়াহু আরও বলেন, “আপনারা আমাকে এখানে আসতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, আমাকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু জেনে রাখুন, আপনারা আমাকে থামাতে পারবেন না সত্যকে কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যায় না।”

জানুয়ারিতে মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম নিউইয়র্কে এসে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইসরায়েল কোনো গণহত্যা চালায়নি, বরং গণহত্যা প্রতিরোধ করেছে। তিনি মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থন করার অভিযোগ তোলেন, যা মামদানি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন। নেতানিয়াহু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা তার দেশ ও সেনা সদস্যদের নিয়ে মিথ্যা ছড়াচ্ছেন সেটি এই সভাকক্ষেই হোক কিংবা নিউইয়র্কের সেই মেয়রের কার্যালয়ে তিনি তাদের সবাইকে ধিক্কার জানান।

এর জবাবে এক বিবৃতিতে মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, “বরাবরের মতোই নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে ভিত্তিহীন মিথ্যাচারের পুনরাবৃত্তি করেছেন, যার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো তার এই গণহত্যাকে ধামাচাপা দেওয়া। কিন্তু তার কোনো মিথ্যাই সত্যকে বদলাতে পারবে না, কারণ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।”

এদিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, দোহার বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর এই ক্রমাগত আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য হলো গাজায় তার সরকারের ব্যর্থ নীতির দায়ভার থেকে মানুষের নজর ঘোরানো। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্কও।

শুক্রবার তুরস্কের সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানায়।

নির্বাচনের পাঁচ সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকতে নেতানিয়াহু জাতিসংঘে প্রায় ৪০ মিনিটের এই ভাষণ দেন। এটি কার্যত ছিল একটি নির্বাচনী প্রচারণামূলক ভাষণ, যা ইসরায়েলের চারটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলে প্রাইম টাইমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ভাষণটি দেওয়ার আগে ম্যানহাটনের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের সমর্থনে এবং ইরানের বিরুদ্ধে ৫০০টি বিলবোর্ড বসানো হয়েছিল এবং শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ইসরায়েলের পক্ষে বার্তা সংবলিত কয়েক ডজন ট্রাক নামানো হয়েছিল।

জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর জোট তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে পিছিয়ে আছে। তাই তিনি ভাষণে ইসরায়েলের সাতটি ফ্রন্টের যুদ্ধের কথা তুলে ধরে দাবি করেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা খুব দ্রুতই জনগণের দ্বারা উৎখাত হবে, যা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। এই সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বৈঠক না হলেও তিনি ভাষণে ট্রাম্পের ‘বলিষ্ঠ নেতৃত্বের’ ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, যুদ্ধে ট্রাম্পের চেয়ে বড় কোনো সঙ্গী তারা পাননি।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পরপরই নিরাপত্তার কারণে সংক্ষিপ্ত সফর শেষে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দ্রুত দেশে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’।

জাতিসংঘে ভাষণের পর তিনি প্যারাগুয়ে, পানামা ও বলিভিয়ার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অধীনে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান জানান।