ঢাকা, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার, ২০২৬ || ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
good-food
১৩

‘বাংলাদেশ পথ দেখিয়েছে’, নেহার ভিডিও নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০০:৩৪ ১৬ অক্টোবর ২০২৬  

ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটাধিকার নিয়ে চলমান প্রতিবাদের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলনের মধ্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণদের আন্দোলনের লক্ষ্য গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।”

নেহা বলেন, ‘‘আমরা জানি, বাংলাদেশে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা ছিল গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আজ ভারতের তরুণেরা যে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেটিও গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের আন্দোলন।’’

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে।” ভারতের জেন-জি ও তরুণেরাও একই ধরনের লড়াই করছেন বলে মনে করেন ছাত্রনেত্রী।

দুই দেশের তরুণদের ঐক্যের প্রত্যাশা জানিয়ে নেহা বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ একসঙ্গে একটি উন্নত দক্ষিণ এশিয়া ও আরও ভালো বিশ্ব গড়ার জন্য লড়াই করতে পারেন বলে তারা আশা করেন।”

নেহা বলেন, “বর্তমান আন্দোলনের পেছনে শুধু আদর্শগত অবস্থান কাজ করছে না। মানুষের মধ্যে আশাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার মতে, মানুষ এখন সাহস পাচ্ছে, কারণ তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে সাহসের সঙ্গে প্রতিবাদ করা সম্ভব।”

নেহার বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ কোনো একটি ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয় বরং বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ক্ষমতাসীন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি একে ভারতে সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক বলয় বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনরাবৃত্তি ভারতে ঘটাতে চায়।

নেহার বক্তব্যের ভিত্তিতে বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে লক্ষ্য করে অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, রাহুল গান্ধী ও তার রাজনৈতিক বলয় কেবল রাজনৈতিক বিরোধিতা করতে চায় না। তাদের লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন।

ভান্ডারি বলেন, “নেহা বোরার বক্তব্যে বাংলাদেশের জেন-জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা রয়েছে এবং ভারতে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরি করার অভিপ্রায় এতে প্রকাশ পেয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক বলয় ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে চায়। তার ভাষায়, বাংলাদেশের মতো সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য।”

চলতি সপ্তাহে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দিকে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের নেতাদের মিছিলে যোগ দেন নেহা বোরা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী আন্দোলনগুলোকে আলাদা কর্মসূচি হিসেবে চিহ্নিত করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “সব প্রতিবাদই একই আন্দোলনের অংশ। এগুলোকে পৃথক আন্দোলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।”

রাহুল গান্ধী বলেন, “সংবিধান রক্ষার লড়াইয়ে যারা অংশ নিচ্ছেন তারা যে সংগঠন বা রাজনৈতিক বলয়েরই হোন না কেন, তাদের পাশে থাকবে বিরোধীরা।” একই সঙ্গে অন্যদের কাছ থেকেও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

নেহা বোরা সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। হিন্দি ও ইংরেজিতে বক্তৃতা দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের সমস্যা, সাংবিধানিক অধিকার, বৈষম্য এবং সরকারের জবাবদিহির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

জুলাই মাসে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শুরু হওয়া প্রতিবাদে অংশ নিয়ে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। ওই সময় অন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন ছাত্রনেত্রী। দিল্লির ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে দেওয়া তার বক্তব্য এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি সরকার ও পুলিশের আচরণের সমালোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর থেকে দিল্লির বিভিন্ন আন্দোলনে নিয়মিত দেখা গেছে নেহা বোরাকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের সময় তাকে একাধিকবার আটক করা হয়। মুক্তি পাওয়ার পর আবারও প্রতিবাদে অংশ নেন তিনি।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলনকে ভারতের তরুণদের প্রতিবাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরার পর নেহা বোরার বক্তব্য এখন দেশটির রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে। একদিকে বিজেপি এটিকে সরকার পরিবর্তনের অভিপ্রায়ের প্রমাণ হিসেবে দেখাচ্ছে, অন্যদিকে তার প্রকাশিত বক্তব্যে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও তরুণদের সংহতির দাবিই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।