ঢাকা, ২০ জুলাই সোমবার, ২০২৬ || ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১১৪

রপ্তানি বন্ধ: ভারতে কেজিতে পেঁয়াজের দাম ৫০ পয়সা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১২:৩৯ ১১ মে ২০২৬  

ইরান যুদ্ধের ঝাঁঝ লেগেছে সুদুর ভারতের মহারাষ্ট্রের পেঁয়াজ চাষীদের ওপর। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় সরবরাহ সংকটে বন্দরে পঁচে যাচ্ছে পেঁয়াজ। বাজারে প্রচুর সরবরাহ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাত্র ৫০ পয়সা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন মহারাষ্ট্রের কৃষকরা। খুচরা ক্রেতারা এতে খুশী হলেও উৎপাদন খরচও তুলতে না পেরে চরম বিপদে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে মহারাষ্ট্রের সোলাপুর নাসিকের পাইকারি বাজারে এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০ পয়সায়। বলা হচ্ছে বাজারে পেঁয়াজের জোগান প্রচুর হলেও চাহিদা নেই। কয়েক মাস আগে পর্যন্ত ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ রপ্তানি হতো পশ্চিম এশিয়ায়। 

কিন্তু ইরান যুদ্ধের জেরে সব বন্ধ। লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে। দু একটা জাহাজ চললেও পণ্য পরিবহন ভাড়া ভাড়া আকাশছোঁয়া। ফলে বন্দরে পড়ে থেকে পঁচে যাচ্ছে পেঁয়াজ। ফলে দেশের বাজারে নামমাত্র মূল্যে সেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। 

শুক্রবার সোলাপুরের শরিফ ট্রেডার্স নামে একটি আড়তে ৭২ বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি করেন স্থানীয় কৃষক অঙ্কুশ। প্রতি কেজি পেঁয়াজ মাত্র ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন মাত্র পাঁচ হাজার ৮৪ টাকা। গাড়ি ভাড়া, বস্তা তোলা-নামানো, আড়তের অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পরে অঙ্কুশের হাতে এসে ঠেকে মাত্র ৪০০ টাকা।

শুধু অঙ্কুশ নন। সোলাপুর, নাসিকের কৃষি উৎপাদন বাজার সমিতিতে গেলে এখন এই দৃশ্যই চোখে পড়বে। 

এরওপর বৈরি আবহাওয়ার কারণে পেয়াঁজ মজুত করাও সম্ভব হচ্ছে না। সাধারনত গ্রীষ্মের সময়টাতে মহারাষ্ট্রে পেঁয়াজ মজুত করে পরে বেশি দামে বিক্রি করেন কৃষকরা। একে স্থানীয়ভাবে ‘গাড়োয়া’ বলা হয়। কিন্তু এবার বিদর্ভের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। এই গরমে পেঁয়াজের ভিতরের জলীয় অংশ শুকিয়ে যাচ্ছে। ধরছে কালো ছত্রাক বা ব্ল্যাক মোল্ড। 

এর সঙ্গে রয়েছে অসময়ের বৃষ্টিপাত। পেঁয়াজে একবার পানি লাগলে তা আর সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে তাড়াহুড়োয় কম দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।