ঢাকা, ০১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার, ২০২৬ || ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food
৩৩৫

আরও ৬ মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত ইরান

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:২৫ ১ এপ্রিল ২০২৬  

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান অন্তত ছয় মাস লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে এবং প্রয়োজনে এই সময় আরও বাড়তে পারে। এসময় শত্রুপক্ষ কোনো সময়সীমা বেঁধে দিলেও ইরান তার পরোয়া করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে জানা যায়, তেহরানে আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরাগচি এসব কথা বলেন। 

আব্বাস আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, "শত্রুপক্ষ কতদিন যুদ্ধ করতে চায় তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান কোনো সময়সীমা মানে না। নিজের আত্মরক্ষার প্রয়োজনে আমরা মাসের পর মাস লড়াই করার সামর্থ্য রাখি।"

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে কি না এ বিষয়ে সরাসরি নাকচ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের ভাষায় যাকে 'আলোচনা' বলে এমন কিছু বর্তমানে নেই। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কিছু বার্তা বিনিময় হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান চলছে। সরাসরি এবং আঞ্চলিক বন্ধুদের মাধ্যমে আসা এসব বার্তার প্রয়োজনীয় জবাবও দিচ্ছে তেহরান। তবে একে কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা বলা যাবে না।

আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের কোন আস্থা নেই। তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো ইতিবাচক অভিজ্ঞতাও আমাদের নেই। গত বছর ও চলতি বছরের আলোচনা প্রস্তাবের পরপরই তারা হামলা চালিয়েছে। ফলে আলোচনার মাধ্যমে কোনো ফল আসবে এমন বিশ্বাস শূন্যের কোঠায়।"

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে আব্বাস আরাগচি বলেন, এটি ইরান ও ওমানের অভ্যন্তরীণ জলসীমার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে প্রণালিটি খোলা থাকলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত দেশগুলোর জাহাজের জন্য এটি বন্ধ। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, "আমরা আমাদের শত্রুদের নিজেদের জলসীমা ব্যবহারের সুযোগ দেব না।"

ইরানের অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে হামলার হুমকি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান বারবার পরীক্ষিত একটি দেশ। আলটিমেটাম দিয়ে বা হুমকি দিয়ে ইরানিদের কাছ থেকে কিছু আদায় করা যাবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, "ইরানি জনগণের সঙ্গে হুমকির ভাষায় কথা বলে কোনো লাভ হবে না। আমাদের সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে। নতুবা তার জবাব আমরা রণক্ষেত্রে দেব।"

আঞ্চলিক দেশগুলোকে আশ্বস্ত করে আরাকচি বলেন, ইরান কোনো বন্ধুরাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করে না। তবে ওই দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা থেকে যদি ইরানের ওপর হামলা চালানো হয় তবে সেগুলো অবশ্যই লক্ষ্যবস্তু হবে। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন সেনারা স্থানীয় হোটেলগুলোতে অবস্থান করে সাধারণ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করে আরাগচি বলেন, ইরান কেবল নিজের জন্য নয় বরং লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনসহ পুরো অঞ্চলের জন্য স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এমন আগ্রাসন আর না ঘটে তার নিশ্চয়তা এবং ইরানি জনগণের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণও দাবি করেন তিনি।

বিশ্ব বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর