ঢাকা, ০৫ মার্চ বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food

প্রাকৃতিকভাবে লিভার সতেজ রাখার যত উপায়

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:০৭ ৪ মার্চ ২০২৬  

আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গই গুরুত্বপূর্ণ। তবে লিভার এমন একটি অঙ্গ, যা নীরবে অনেক বড় কাজ করে যায়। আমরা কী খাচ্ছি, শরীরে কী জমছে, রক্ত কতটা বিশুদ্ধ থাকছে সবকিছুর সঙ্গে লিভারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। লিভার খাদ্য হজমে সাহায্য করে, রক্ত পরিষ্কার রাখে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই লিভার সুস্থ থাকলে শরীরও ভালো থাকে।

কিন্তু আধুনিক জীবনযাপন, অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত তেল মসলা এবং নেশাজাতীয় দ্রব্যের কারণে অনেকের লিভারের সমস্যা বাড়ছে। তাই এখন থেকেই লিভারের যত্ন নেওয়া জরুরি। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক চঞ্চল শর্মার মতে, লিভার শক্তিশালী করতে প্রাকৃতিক কিছু উপায় খুবই কার্যকর হতে পারে।

প্রথমেই বলা যায় গিলয় বা গুলঞ্চের কথা। আয়ুর্বেদে গিলয়কে অমৃতের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমায়। লিভার সুস্থ রাখতে গিলয় বেশ উপকারী বলে মনে করা হয়। সকালে খালি পেটে গিলয়ের রস বা স্মুদি পান করা যেতে পারে। এতে শরীর সতেজ থাকে এবং লিভারের কাজও ভালোভাবে চলতে সাহায্য পায়।

এরপর আছে আমলকি। ছোট এই ফলটিতে ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে থাকে। ভিটামিন সি শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। ফলে লিভার পরিষ্কার রাখতে এটি উপকারী। প্রতিদিন সকালে এক থেকে দুটি আমলকি খাওয়া যেতে পারে। চাইলে আমলকির রস বানিয়ে বা গুঁড়ো করেও খাওয়া যায়। নিয়মিত আমলকি খেলে শরীরের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

হলুদও লিভারের জন্য ভালো। হলুদের মধ্যে কারকিউমিন নামের একটি উপাদান থাকে, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি সংক্রমণ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে। লিভারকে সুস্থ রাখতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে সামান্য হলুদ মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। প্রতিদিনের রান্নায়ও হলুদ ব্যবহার করলে উপকার মেলে।

সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানির সঙ্গে লেবু ও মধু মিশিয়ে পান করার অভ্যাসও ভালো। লেবু শরীর পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, আর মধু শক্তি জোগায়। এই পানীয় লিভারকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

তবে শুধু ভেষজ উপাদান খেলেই হবে না, জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসও বদলাতে হবে। লিভার সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম খুবই জরুরি। প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা যোগব্যায়াম বা অন্য কোনো শরীরচর্চা করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমে। এতে লিভারের উপর চাপ কমে।

খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি ও তাজা ফল রাখা উচিত। এগুলো শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে। আঁশযুক্ত খাবার হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে, যা লিভারের কাজ সহজ করে।

পানি পানের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিনে অন্তত তিন থেকে চার লিটার পানি পান করা উচিত। পর্যাপ্ত পানি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে।

অ্যালকোহল ও সিগারেটের মতো নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকা জরুরি। এগুলো সরাসরি লিভারের ক্ষতি করে। অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত খাবারও লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পরিমিত ও সুষম খাবার বেছে নেওয়া উচিত।

সবশেষে, পর্যাপ্ত ঘুম খুবই প্রয়োজন। শরীর বিশ্রাম পেলে লিভারও তার কাজ ঠিকভাবে করতে পারে। প্রতিদিন নিয়মিত সময়ে ঘুমানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া লিভারের সুস্থতার জন্য সহায়ক।

লিভার আমাদের শরীরের এক নীরব কর্মী। আমরা তার যত্ন নিলে সে আমাদের দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। ছোট ছোট অভ্যাস বদল আর প্রাকৃতিক কিছু উপায়ই পারে লিভারকে শক্তিশালী ও পরিষ্কার রাখতে।