ঢাকা, ০৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার, ২০২০ || ২৬ চৈত্র ১৪২৬
good-food
১৩৪

বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবনানন্দ দাশ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:০৪ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

রূপসী বাংলার কবি ও শিক্ষাবিদ জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। জীবনানন্দের মা ছিলেন কবি কুসুমকুমারী দাশ। মা-বাবার এ গুণের যুগলবন্ধনে তাঁর ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠেছিল।


তাঁদের পরিবারেও ছিল সাহিত্যচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ। ফলে জীবনানন্দ অল্প বয়স থেকেই কবিতা লেখা শুরু করেন।

 

১৯১৫ খৃষ্টাব্দে জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ১৯১৭ খৃষ্টাব্দে বিএম কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন। তিনি ১৯১৯ খৃষ্টাব্দে কোলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজীতে অনার্সসহ বিএ এবং ১৯২১ খৃষ্টাব্দে ইংরেজীতে এমএ পাশ করেন। 


১৯২২ খৃষ্টাব্দে তিনি কোলকাতা সিটি কলেজে অধ্যাপনা আরম্ভ করেন। ১৯২৯ সালে তিনি বাগেরহাট পিসি কলেজে যোগদান করেন, কিন্তু অল্প কিছুদিন পর তিনি চাকরি ছেড়ে কোলকাতা চলে যান।

 

জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্য আন্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত ভাবধারার অন্যতম কবি। পাশ্চাত্যের মডার্নিজম এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গীয় সমাজের বিদগ্ধ মধ্যবিত্তের মনন ও চৈতন্যের সমন্বয় ঘটে ঐ কাব্য আন্দোলনে।

 

মুলত, কবি হলেও জীবনানন্দ অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন। 


তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরাপালক’ প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলি হলো - ‘ধুসর পান্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘সাতটি তারার তিমির’, ‘রূপসী বাংলা’, ‘বেলা অবেলা কালবেলা’। এছাড়া তাঁর বহু অগ্রন্থিত কবিতা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

 

ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হিসেবে জীবনানন্দের স্বতন্ত্র প্রতিভা ও নিভৃত সাধনার উন্মোচন ঘটে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর পরে প্রাপ্ত অসংখ্য পান্ডুলিপিতে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাস - মাল্যদান, সুতীর্থ, জলপাইহাটি, জীবনপ্রণালী, বাসমতির উপাখ্যান ইত্যাদি। তাঁর রচিত গল্পের সংখ্যা প্রায় দুই শতাধিক।

 

জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল, সত্যেন্দ্রনাথ ও মোহিতলালের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক এবং ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিঃসর্গ ও রূপকথার জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়। বিশেষ করে ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যে যেভাবে আবহমান বাংলার চিত্ররূপ ও সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়েছে, তার জন্য তিনি রূপসী বাংলার কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন। 


তবে প্রকৃতির পাশাপাশি তাঁর কবিতায় মুর্ত হয়েছে বিপন্ন মানবতার ছবি এবং আধুনিক নগরজীবনের হতাশা, অবক্ষয়, নিঃসঙ্গতা, সংশয়বোধ। কবিতায় উপমা প্রয়োগে জীবনানন্দের নৈপুণ্য তুলনাহীন।

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সামাজিক প্রেক্ষাপটে জীবনানন্দের কবিতার ভূমিকা ঐতিহাসিক। বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ খৃষ্টাব্দের স্বাধীনতা যুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জাতিকে তাঁর রূপসী বাংলা তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে। ১৯৫৪ খৃষ্টাব্দের ২২ অক্টোবর কোলকাতায়  ট্রাম দুর্ঘটনায় কবি জীবনানন্দ দাশ মৃত্যুবরণ করেন।

 

লেখক :  মোঃ ফজলুল হক