ঢাকা, ১৮ জুলাই শনিবার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
৩৩৬

বিশ্লেষণ: ইরানের নীতিতে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নেই

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:০১ ৬ এপ্রিল ২০২৬  

মার্কিন-ইসরায়েলি গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস সোমবার এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধে কিছু মধ্যস্থতাকারী ৪৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এই সময়ের মধ্যে চলমান যুদ্ধের পুরোপুরি অবসান নিয়ে আলোচনা চলবে। 

যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের ছায়ায় ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির স্থান ইরানের নীতিতে নেই। 

তারা বলেন, “সম্ভবত তৃতীয়বারের মতো নিজের হুমকি থেকে সরে আসার পথ খুঁজছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ তিনি ভালোভাবেই জানেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে কোনো উন্মত্ত পদক্ষেপ নিলে পাল্টা কঠোর জবাব পাবে মার্কিন ও ইসরায়েলিরা।” 

ইরান বারবার জানিয়েছে, কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত নয় তারা। কারণ, তাতে যুদ্ধের ছায়া বজায় থাকে। উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি ৪৮ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। কারণ স্পষ্ট—সাধারণ বা শর্তহীন যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে গোলাবারুদ সংকট ও কৌশলগত জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় মার্কিন-ইসরায়েলিরা।

তাসনিমের যুদ্ধ বিশ্লেষণ গ্রুপের সদস্যরা বলেন, “যুদ্ধের ছায়ায় অস্থায়ী বিরতি ইরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে না। মূলত তা প্রতিপক্ষকে পুনর্গঠনের সুযোগ করে দেয়। এসময়ে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখবে মার্কিন-ইসরায়েলিরা। সামরিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকসহ নানা ক্ষেত্রে ইরানবিরোধী লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চালাবে তারা।”

ইরানি কর্মকর্তারা বারবার যে কাঠামোর কথা বলেছেন, তা বিবেচনায় নিলে—যুদ্ধের ছায়া বজায় রেখে অস্থায়ী বিরতি ইরানের নীতিতে কোনো স্থান পায় না।

ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে শুধু নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের মাধ্যমে। যার মধ্যে রয়েছে—ভবিষ্যতে আর কখনো ইরানে হামলা চালাতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ নিয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে তাদের। 

পাশাপাশি আরও কিছু অসমঝোতাপূর্ণ শর্ত রয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত নতুন বাস্তবতাও স্পষ্ট। এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আর কখনই যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না। অর্থাৎ পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। 

সাধারণত অ্যাক্সিওস’কে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের মনস্তাত্ত্বিক অপারেশনের গণমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত বিষয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, নিজেদের স্বার্থ বাস্তবায়নে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমটি।