ঢাকা, ১৮ জুলাই শনিবার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১৫৩

রান্নার তেল কেনার আগে যে ৫ বিষয় অবশ্যই জানা উচিত

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:৫৭ ১৯ মে ২০২৬  

প্রতিদিনের রান্নায় তেল অত্যন্ত অপরিহার্য একটি উপকরণ। কিন্তু বাজারচলতি হরেক রকমের তেলের বিজ্ঞাপন দেখে কোন তেলটি স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো, তা বেছে নিতে গেলে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। কেউ সর্ষের তেল পছন্দ করেন, কেউ রিফাইন্ড অয়েল, আবার কেউ কেউ এখন অলিভ অয়েলের দিকেও ঝুঁকেছেন।

চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদরা বলছেন, রান্নার তেল কেবল খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, এটি হার্টের স্বাস্থ্য, কোলেস্টেরল এবং সামগ্রিক শরীরের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই বাজার থেকে যে কোনও তেল কিনে নেওয়ার আগে ৫ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নেওয়া জরুরি।

তেলের ‘স্মোক পয়েন্ট’ 

রান্নার তেল বাছার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুলটি হয় এখানেই। ‘স্মোক পয়েন্ট’ হলো সেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, যে স্তরে পৌঁছনোর পর তেলটি পুড়তে শুরু করে এবং তা থেকে ধোঁয়া বের হয়।

কেন জরুরি

যখন কোনও তেল তার স্মোক পয়েন্ট পেরিয়ে যায়, তখন তার পুষ্টিগুণ তো নষ্ট হয়েই, সঙ্গে তা ভেঙে গিয়ে ক্ষতিকর ‘ফ্রি র‍্যাডিক্যালস’ এবং বিষাক্ত যৌগ তৈরি করে যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

কী করবেন

বাংলাদেশে রান্নায় যেখানে বেশি আঁচে ভাজাভুজি করা হয়, সেখানে উচ্চ স্মোক পয়েন্টযুক্ত তেল (যেমন- সর্ষের তেল, রাইস ব্র্যান অয়েল বা চিনেবাদাম তেল) ব্যবহার করুন। অন্যদিকে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের স্মোক পয়েন্ট খুব কম হওয়ায় তা দিয়ে কন্টিনেন্টাল রান্না বা স্যালাড ড্রেসিং করাই শ্রেয়।

গুড ফ্যাট বনাম ব্যাড ফ্যাট 

তেলের বোতলের গায়ে পুষ্টিগুণের যে লেবেল থাকে, তা ভালো করে পড়ার অভ্যাস করুন। তেলের চর্বি বা ফ্যাট প্রধানত তিন ধরণের হয়।

মুফা ও পুফা
এগুলো হলো ‘গুড ফ্যাট’ বা উপকারি চর্বি। এগুলো রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।

স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট

স্যাচুরেটেড ফ্যাট (যেমন ডালডা বা পাম অয়েল) এবং ট্রান্স ফ্যাট শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি ধমনীতে রক্ত চলাচল ব্যাহত করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই যে তেলে ট্রান্স ফ্যাট শূন্য, সেটিই বেছে নিন।

রিফাইন্ড নাকি কোল্ড-প্রেসড তেল?

তেলটি কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তার উপর তার গুণাগুণ নির্ভর করে।

রিফাইন্ড তেল

উচ্চ তাপমাত্রায় এবং রাসায়নিকের সাহায্যে তেলকে রিফাইন বা পরিশোধন করা হয়, যার ফলে তেলের গন্ধ ও রং চলে গেলেও তার ভিতরের প্রাকৃতিক ভিটামিন ও খনিজগুলো প্রায় নষ্ট হয়ে যায়।

কোল্ড-প্রেসড বা কাচ্চি ঘানি তেল

কাঠের ঘানিতে কোনও রকম অতিরিক্ত উত্তাপ ছাড়া বীজ পিষে এই তেল বের করা হয়। ফলে তেলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও সমস্ত পুষ্টিগুণ ১০০% বজায় থাকে। স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য কোল্ড-প্রেসড সর্ষের তেল, নারকেল তেল বা বাদাম তেল চমৎকার বিকল্প।

ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের সঠিক অনুপাত

শরীরের কোষ ও মস্তিষ্কের গঠনে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু সমস্যা হলো, রান্নায় যে ধরণের রিফাইন্ড তেল ব্যবহার করা হয়, তাতে ওমেগা-৬-এর পরিমাণ অত্যধিক বেশি থাকে, যা শরীরে ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ তৈরি করতে পারে। তাই আদর্শ তেল সেটিই, যাতে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬-এর অনুপাত ভারসাম্যযুক্ত থাকে (যেমন- সর্ষের তেল বা ফ্ল্যাক্সসিড অয়েল)।

 ‘তেল বদলে’ রান্না করুন

কোনও একটি নির্দিষ্ট তেল সম্পূর্ণভাবে নিখুঁত বা ‘অল-ইন-ওয়ান’ হতে পারে না। তাই পুষ্টিবিদদের পরামর্শ— সুস্থ থাকতে নির্দিষ্ট কিছুদিন অন্তর অন্তর রান্নার তেল বদলে ব্যবহার করা উচিত।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি এ মাসে সর্ষের তেল ব্যবহার করেন, তবে পরের মাসে রাইস ব্র্যান বা চিনেবাদাম তেল ব্যবহার করতে পারেন। অথবা এক এক ধরনের রান্নার জন্য এক এক ধরনের তেল রাখুন (যেমন- ভাজাভুজির জন্য সর্ষের তেল, হালকা সঁতে বা বেকিংয়ের জন্য অলিভ অয়েল)। এর ফলে শরীর সব ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিডের সঠিক পুষ্টি পায়।