ঢাকা, ১৮ জুলাই শনিবার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১৬৭

শুধু বর্ষা নয়, এখন ডেঙ্গু বারোমাসি

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:৫৯ ২০ মে ২০২৬  

এতকাল সাধারণ মানুষের মনে একটা বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, ডেঙ্গু বর্ষাকালের রোগ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরকে সাধারণত ডেঙ্গুর মরশুম বলে ধরে নেওয়া হতো। বর্ষা বিদায় নিলেই মশারি টাঙানো বন্ধ করে দিতেন। কিন্তু চিকিৎসকরা সাফ জানাচ্ছেন, এই ধারণা বদলে এখন গিয়েছে। ডেঙ্গু এখন আর কোনও নির্দিষ্ট ঋতুর রোগ নয়, বরং আমাদের শহরে এখন এটি ১২ মাসের স্বাস্থ্য সঙ্কট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন ১২ মাসের সমস্যা হয়ে উঠছে ডেঙ্গু?

উষ্ণতা ও দ্রুত বংশবৃদ্ধি

বিশ্ব উষ্ণায়ন বা ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে মশার প্রজনন চক্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, বেশি গরমে মশার শরীরের ভিতরে ডেঙ্গু ভাইরাস দ্রুত বেড়ে উঠছে। এর ফলে মশারা খুব কম সময়ের মধ্যে এবং অনেক বেশি সংখ্যায় মানুষকে সংক্রমিত করার ক্ষমতা অর্জন করছে।

আর্দ্রতা ও খাপ খাইয়ে নেওয়া

বর্ষা চলে যাওয়ার পরও যদি সামান্য বৃষ্টি হয় এবং তার সঙ্গে ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতা থাকে, তবে তা মশার বেঁচে থাকার জন্য একদম আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।

শহুরে জীবনযাত্রা ও পানি জমানোর অভ্যাস

আধুনিক বহুতল বা ফ্ল্যাট কালচারে এয়ার কুলার, বালতি, কনস্ট্রাকশন সাইট, ছাদের পানির ট্যাঙ্ক, খালি টব বা তার নীচের ট্রে কিংবা ব্লক হয়ে যাওয়া ড্রেনে সারাবছরই কোথাও না কোথাও পারি জমে থাকে। যা এডিস মশাদের স্থায়ী বাসস্থান হয়ে উঠেছে।

বেশির ভাগ মানুষের ধারণা মশা কেবল নোংরা বা নর্দমার জলেই জন্মায়। কিন্তু ডেঙ্গুর রোগবাহী এডিস মশা সবসময় পরিষ্কার এবং স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। ঘরের ভেতরের কুলারের পানি, ফুলদানির পানি বা টবের ট্রে-তে জমে থাকা পরিষ্কার পানিই মশার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডেঙ্গুর মশা কামড়ায় দিনের বেলায়

হয়তো অনেকেই জানেন না, ম্যালেরিয়ার মশা রাতে কামড়ালেও, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা মূলত দিনের বেলায়, বিশেষ করে ভোরবেলা এবং সন্ধ্যার ঠিক মুখে সবচেয়ে বেশি কামড়ায়। তাই শুধু রাতে মশারি খাটানো বা গুডনাইট জ্বালানোই ডেঙ্গু ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট নয়। দিনের বেলাতেও সমান সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশুরা যখন সকালে স্কুলে যায় বা পার্কের মাঠে খেলতে যায়, তখন তাদের সুরক্ষার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি।

ডেঙ্গুকে হালকাভাবে নেওয়া মারাত্মক ভুল?

ডেঙ্গুর কোনও নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। সাধারণ ডেঙ্গু বিশ্রামে ও চিকিৎসকের পরামর্শে ঠিক হয়ে গেলেও ‘সিভিয়ার ডেঙ্গু’ মানুষের শরীরে একাধিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। যেমন:

# রক্তে প্লেটলেট কাউন্ট মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া।

# জন্ডিস, লিভারের সমস্যা এবং কিডনি বিকল হওয়া।

# ফুসফুসে পানি জমা এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।


যেহেতু ডেঙ্গু এখন আর মরশুমি রোগ নয়, তাই একে আটকানোর প্রস্তুতি কোনও নির্দিষ্ট ঋতুতে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।

১. পানি জমতে দেবেন না

সপ্তাহে অন্তত একবার ঘরের এয়ার কুলার, টবের ট্রে এবং বালতি পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন। ওভারহেড পানির ট্যাঙ্ক সবসময় ঢেকে রাখুন।

২. দিনের বেলার সুরক্ষা

বাইরে বেরোনোর সময়, বিশেষ করে মশার উপদ্রব রয়েছে এমন জায়গায় গেলে ফুল-হাতা জামা, ফুল প্যান্ট এবং পা-ঢাকা জুতো পরুন। ত্বকের খোলা অংশে মসকুইটো রিপেলেন্ট ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করুন।

৩. ভ্যাকসিনের আশা

চিকিৎসকরা আশাপ্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশ খুব শীঘ্রই ডেঙ্গুর অত্যন্ত কার্যকরী প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষের জন্য উপলব্ধ হতে পারে, যা ভবিষ্যতে এই রোগের তীব্রতা অনেকটাই কমিয়ে দেবে।