ঢাকা, ০৫ মার্চ বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ২১ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food

হার্ট অ্যাটাকের প্রথম ১০ মিনিট কী করবেন?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৯:৩৮ ৫ মার্চ ২০২৬  

হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রথম ১০ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়টা আসলে জীবন মৃত্যুর।  এই অল্প সময়ের মধ্যেই নির্ধারিত হয়ে যায় রোগী বাঁচবেন কিনা। আর বাঁচলেও হৃদপেশির কতটা ক্ষতি হবে। 

চিকিৎসকদের ভাষায়, বেশিরভাগ হার্ট অ্যাটাক ঘটে তখনই, যখন হঠাৎ করে রক্ত জমাট বেঁধে করোনারি ধমনি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হৃৎপেশিতে অক্সিজেন পৌঁছায় না। বিশেষ করে ‘সেগমেন্ট এলিভেশন মায়োকার্ডিয়াল ধরনের হার্ট অ্যাটাক’ হলে পরিস্থিতি হয় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

সাধারণত বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাককেই ‘সেগমেন্ট এলিভেশন মায়োকার্ডিয়াল’ বলা হয়।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা প্রায়ই বলেন “টাইম ইজ মাসল”। অর্থাৎ যত দ্রুত রক্তপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা যাবে, তত বেশি হৃদ্‌পেশি বাঁচানোর সম্ভবনা বাড়তে থাকবে।

কোন লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন?

চলচ্চিত্রে যেমন হঠাৎ বুক চেপে ধরার দৃশ্য দেখা যায়, বাস্তবে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময় ততটা নাটকীয় নয়। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

•     বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথা, যা হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে যেতে পারে

•     শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডা ঘাম

•     বমিভাব বা মাথা ঘোরা

তবে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে। যেমন—অস্বাভাবিক ক্লান্তি, হালকা অস্বস্তি বা গ্যাস্ট্রিকের মতো অনুভূতি, এমনকি হঠাৎ অকারণ উদ্বেগও হতে পারে সতর্কবার্তা।

চলচ্চিত্রে যেমন হঠাৎ বুক চেপে ধরার দৃশ্য দেখা যায়, বাস্তবে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময় ততটা নাটকীয় নয়।

প্রথম ১০ মিনিটে কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, উপসর্গ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি করা যাবে না।

•     জরুরি নম্বরে ফোন করুন। নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।

•     শান্ত থাকুন এবং বসে পড়ুন। অযথা নড়াচড়া করলে হৃদ্‌পেশির ওপর চাপ বাড়ে।

•     একটি অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খান। যদি অ্যালার্জি বা অন্য কোনো বাধা না থাকে, তাহলে সাধারণ মাত্রার অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খেলে রক্ত জমাট বাঁধা কমাতে সাহায্য করে।

চিকিৎসকদের মতে, “নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।” অনেক সময় মানুষ গ্যাসট্রিক ভেবে বাড়িতে অপেক্ষা করেন—এতেই মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর

হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও চলতে থাকে জীবন-মৃত্যুর হিসাব।

নিয়ম অনুযায়ী ৩০ মিনিটের মধ্যে ক্লট-গলানো ওষুধ এবং ৬০ মিনিটের মধ্যে এনজিওপ্লাস্টির মাধ্যমে বন্ধ ধমনি খুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

শেষ কথা একটাই—সন্দেহ হলে দেরি নয়। আপনার অনুমান ভুল হতেই পারে। তবুও হাসপাতালে যান। কারণ হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি সেকেন্ডই মূল্যবান।