ঢাকা, ০৫ মার্চ বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food

হাসপাতালে দালালদের কঠোর হস্তে দমন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:৪৫ ৪ মার্চ ২০২৬  

দেশের সরকারি হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

দালালচক্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “রোগী ভর্তিতে অর্থ আদায়, ট্রলি বেচাকেনা বা রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

তিনি বলেন, “হাসপাতালে কাউকে দালালি করতে দেওয়া হবে না। রোগীদের কাছ থেকে ট্রলি ভাড়া বা অন্য কোনোভাবে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। দালালমুক্ত হাসপাতাল নিশ্চিত করতে আমাদের অবস্থান থাকবে জিরো টলারেন্স নীতি। দালালদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপ, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সেবার মান উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার অতিরিক্ত রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। অনেক ক্ষেত্রে একটি বেডে দুই থেকে তিনজন রোগী রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসকের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি, অ্যানেস্থলজিস্ট ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ সহায়ক জনবল সংকট রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চিকিৎসক ও নার্সরা দিনরাত কাজ করছেন।

অপারেশন থিয়েটার (ওটি) পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, “কাঠামোগতভাবে ওটিগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় বেশিরভাগ ওটির মান উন্নয়ন প্রয়োজন।” 

একটি মাত্র ওটি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনীয় উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “পর্যায়ক্রমে সব ওটি আধুনিকায়ন করা হবে। যাতে রোগীরা উন্নত পরিবেশে অস্ত্রোপচার সেবা পান।”

হাসপাতালের লন্ড্রি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নিজস্ব ওয়াশিং প্ল্যান্ট না থাকায় চুক্তিভিত্তিকভাবে কাপড় ধোয়ানো হচ্ছে, যেখানে মান বজায় না রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালককে ঠিকাদারদের বিল কর্তন ও কঠোর তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

খাবারের মান প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “রোগীদের সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। পচা বা অখাদ্য খাবার পরিবেশনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”

হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা অবাধ যাতায়াত ও অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে পরিচ্ছন্নতা বিঘ্নিত হচ্ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্দিষ্ট সময়সূচি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শৃঙ্খলা আনা হবে। দেশের হাসপাতালগুলোর মানোন্নয়নে সবারই শৃঙ্খলা মানা জরুরি।”

তিনি জানান, শুধু ঢামেক নয়, সারাদেশের জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ট্রমা সেন্টারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে বড় পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামের মানুষ যাতে নিজ জেলা পর্যায়েই চিকিৎসা পায়, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে। এতে রাজধানীকেন্দ্রিক চাপ কমবে।

দায়িত্ব নেওয়ার ১২-১৩ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন শুরু করেছেন উল্লেখ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সীমিত সম্পদের মধ্যেও সরকারের নির্দেশনায় স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তারা বদ্ধপরিকর।”

এক্ষেত্রে সাংবাদিক ও জনসাধারণের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।