ঢাকা, ১৮ জুলাই শনিবার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১৬৮

ইসলামাবাদ আলোচনায় বাগবিতণ্ডা, লেগে যাচ্ছিল হাতাহাতি

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:২৯ ১৩ এপ্রিল ২০২৬  

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে রাতভর চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতির পর্যায়ে চলে গেছিল। এরপরই মূলত আলোচনাটি ভেস্তে যায়। যার যার দেশে ফেরত যায় প্রতিনিধিদল। 

ইসরায়েল হায়োম কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। অবশ্য অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক মিডিয়া এ নিয়ে কোনো প্রতিবেদন করেনি।

ইসরায়েল হায়োমের প্রতিবেদন অনুসারে, চা ও জলখাবারের পাশাপাশি ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যে করমর্দনের মাধ্যমে বৈঠকটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের দিকে অভিযোগ ওঠে যে তারা ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে দিতে চান না।

এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে মোড় নেয়। চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা হস্তক্ষেপ করে প্রতিনিধিদল দুটিকে আলাদা করে দেন।

তুর্কি সাংবাদিক চেতিনের এক্স হ্যান্ডেলে দাবি করেছেন, এই বাদানুবাদটি প্রায় হাতাহাতিতে পরিণত হয়েছিল। তিনি লিখেছেন: “কিছুক্ষণ আগে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর মতবিরোধের জেরে মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং উইটকফের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা প্রায় হাতাহাতিতে গড়াতে বসেছিল। ইরানিদের কখনও হুমকি দেবেন না।”

২১ ঘণ্টার আলোচনার পর উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স কোনো চুক্তি ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করার আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাইনি।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত প্রত্যাখ্যানের জন্য তেহরানকে দায়ী করেন।

তিনি আরও বলেন যে, ওয়াশিংটন ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে একটি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি চাইছে, কিন্তু “আমরা এখনও তেমন কিছু দেখিনি।”

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, আলোচনা সম্পর্কে অবগত ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের ভাগ্য এবং তেহরানের জব্দকৃত প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়ানোর দাবি—এই বিষয়গুলো নিয়ে এখনও মূল বিরোধ রয়ে গেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা প্রণালিটি অবিলম্বে পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিলেও ইরান সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, একটি বৃহত্তর চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন হবে না।