ঢাকা, ১৮ জুলাই শনিবার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
৩৪৯

উপসর্গ এড়িয়ে যাওয়াতেই নারীদের হার্ট অ্যাটাক ঘটে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:১০ ৭ এপ্রিল ২০২৬  

পুরুষদের তুলনায় নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি দ্বিগুণ বেশি। ইন্ডিয়ান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ২০২০-২১ সালের রিপোর্ট বলছে, সে বছর দেশে হার্টের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর সংখ্যাই বেশি ছিল। এমন আরও গবেষণা রয়েছে, যেখানে দেখা গিয়েছে, নারীদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নারীরা হৃদরোগের উপসর্গগুলো এড়িয়ে যান। বুকে চিনচিনে ভাব থেকে হাই ব্লাড প্রেশার—হার্টের সমস্যা নিয়ে খুব সচেতন নন তারা। অথচ এই অবহেলাই তাদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি

মেনোপজের পরে নারীদেহে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। এই হরমোন রোগ প্রতিরোধের কাজ করে। কিন্তু এই হরমোনের নিঃসরণ কমে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। ইস্ট্রোজেন হরমোনের নিঃসরণ বন্ধ হয়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল সমস্যা এবং ডায়াবেটিসের মতো একাধিক ক্রনিক অসুখ হানা দেয়। এই রোগগুলোর জেরেও রক্তনালি সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। নারীদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো মানসিক চাপ। দীর্ঘ দিনের মানসিক চাপ, রাতের পর রাত ঘুম না হওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলোও হার্টকে দুর্বল করে তোলে।

যেসব উপসর্গ এড়াবেন না নারীরা

উপসর্গগুলো এড়িয়ে যাওয়ার কারণেই বিপদ ঘটে। উপসর্গ চিনে রাখলে সময় থাকলে বিপদ এড়ানো যায়। তাই প্রাথমিক উপসর্গগুলো চিনে রাখুন।  

হঠাৎ করে বুকে চাপ অনুভব করা 

বুকের মাঝখানে দমবন্ধ করা ব্যথা

বুকে অস্বস্তি বা চিনচিনে ভাব

বাঁ হাতে ব্যথা 

চোয়াল এবং ঘাড়ে ব্যথা

পিঠে ব্যথা, বিশেষ করে দু’কাঁধের মাঝখানে

হার্ট অ্যাটাক কি এড়ানো সম্ভব?

সাধারণত হেলদি লাইফস্টাইল মেনে চললে হার্ট অ্যাটাক এড়ানো যায়। সুষম আহার, শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, স্ট্রেস কমানো—এমন ছোট ছোট বিষয়গুলোই সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। কিন্তু মেনোপজের পরে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই সময়ে শুধু হেলদি লাইফস্টাইল মেনে চলা যথেষ্ট নয়। নিয়মিত চেকআপ করাতে হবে। কোলেস্টেরল, সুগার, প্রেশার স্বাভাবিক আছে কি না, দেখতে হবে। তাই মেনোপজের দোরগোড়ায় পৌঁছলে আরও বেশি করে সচেতন থাকুন।