ঢাকা, ১৯ জুলাই রোববার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১৯৩

কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:২১ ১১ মে ২০২৬  

ইসলামি শরিয়তে কোরবানি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে নির্দিষ্ট পশু জবাই করার মাধ্যমে এই ইবাদত পালন করা হয়। মহান আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানির এই বিধান যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। তবে সবার ওপর কোরবানি ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়। কেবল শরিয়ত নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তবেই একজন মুসলিমের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব হয়।

ঠিক কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে একজন মানুষের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়, তা নিয়ে অনেকেরই বিভ্রান্তি থাকে। চলুন এ বিষয়ে শরিয়তের সুস্পষ্ট বিধানগুলো জেনে নিই:

কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত

জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কোনো সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক এবং মুকিম (যিনি মুসাফির নন) মুসলিমের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের উদ্বৃত্ত ‘নেসাব’ পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।

সম্পদের নেসাব বা পরিমাণ কতটুকু?

কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য যে পরিমাণ সম্পদ থাকা প্রয়োজন, তাকে ইসলামি পরিভাষায় 'নেসাব' বলা হয়। কোরবানির নেসাব হলো:

১. সাড়ে ৭ ভরি (তোলা) সোনা, অথবা

২. সাড়ে ৫২ ভরি (তোলা) রুপা, অথবা

৩. সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমমূল্যের নগদ অর্থ, অথবা

৪. সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমমূল্যের ব্যবসায়িক পণ্য বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ।

কারও কাছে যদি ওপরের যেকোনো একটি নেসাব পরিমাণ থাকে বা সোনা, রুপা, নগদ অর্থ ও অতিরিক্ত সম্পদ মিলিয়ে মোট মূল্য সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমপরিমাণ হয়, তবে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ বলতে কী বোঝায়?

থাকার ঘর, প্রতিদিনের পরিধানের বস্ত্র, চলাচলের বাহন, পরিবারের খোরাকি বা খাবার, পেশাগত কাজের হাতিয়ার এবং নিত্যব্যবহার্য আসবাবপত্র এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অন্তর্ভুক্ত।

এর বাইরে যা কিছু থাকবে, যেমন, নিজের ব্যবহারের বাইরে অতিরিক্ত বাড়ি, ফ্ল্যাট, অব্যবহৃত জমি, অতিরিক্ত পোশাক, শৌখিন বা অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, ব্যাংক ব্যালেন্স, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। এগুলোর মোট মূল্য সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমপরিমাণ হলে কোরবানি ওয়াজিব হবে।

জাকাত ও কোরবানির নেসাবের মধ্যে পার্থক্য

জাকাত এবং কোরবানির নেসাবের মধ্যে সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছু পার্থক্য রয়েছে:

সময়কাল: জাকাতের ক্ষেত্রে নেসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক বছর নিজের কাছে থাকা শর্ত। কিন্তু কোরবানির ক্ষেত্রে এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। কোরবানির নির্ধারিত তিন দিনের (১০, ১১ ও ১২ জিলহজ) যেকোনো এক দিন বা মুহূর্তেও যদি কেউ নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

সম্পদের ধরন: জাকাত শুধু সোনা, রুপা, নগদ অর্থ ও ব্যবসার পণ্যের ওপর ফরজ হয়। কিন্তু কোরবানির ক্ষেত্রে এগুলোর পাশাপাশি প্রয়োজনের অতিরিক্ত যেকোনো সম্পদ (যেমন: অব্যবহৃত জমি, অতিরিক্ত টিভি, ফ্রিজ, আসবাবপত্র ইত্যাদি) নেসাবের হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য বিধান

নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার পরও যদি কারও ওপর এমন পরিমাণ ঋণ থাকে যা পরিশোধ করলে নেসাব পরিমাণ সম্পদ আর অবশিষ্ট থাকে না, তবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। তবে ঋণ যদি দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির হয় (যেমন- হোম লোন) এবং তাৎক্ষণিক পুরো ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা না থাকে, সেক্ষেত্রে ওই মাসের কিস্তি বাদে বাকি সম্পদের হিসাব করতে হবে।

কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়, এটি মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য ও ত্যাগের এক অনন্য নিদর্শন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না সেগুলোর গোশত এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া বা পরহেজগারি।” (সূরা হজ: ৩৭)। তাই নিজের সম্পদের সঠিক হিসাব জেনে, কোরবানি ওয়াজিব হলে তা যথাযথভাবে আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের একান্ত কর্তব্য।

ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর