ঢাকা, ১৯ জুলাই রোববার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
৩৬৩

দেশে কত টন পেট্রোল-ডিজেল-অকটেন মজুত আছে, জানা গেল

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:০২ ৩১ মার্চ ২০২৬  

দেশে তেলের মজুত সন্তোষজনক এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। একইসঙ্গে বাজার তদারকিতে সারাদেশে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুত ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন, যা মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ।

এদিন সচিবালয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে তেলের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

তিনি জানান, জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মজুত রয়েছে ডিজেলের; যা কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব জানান, দেশে অকটেনের মজুত রয়েছে ৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন। ব্যক্তিগত যানবাহন ও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিনে ব্যবহৃত এই জ্বালানির বর্তমান চাহিদা পূরণে যা পর্যাপ্ত।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশে পেট্রোলের মজুত ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন। পাশাপাশি জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন, যা বর্তমান চাহিদা পূরণে যথেষ্ট।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রতিদিনই নতুন আমদানি ও খালাসের মাধ্যমে সমন্বয় করা হচ্ছে। ফলে দৈনিক সরবরাহের পাশাপাশি মজুতও নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিভাগে ১৩ জেলায় ৪৭৯ জন এবং মহানগর এলাকায় ১১৬ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” 

যুগ্ম সচিব বলেন, “চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলায় ৩৩০ জন এবং মহানগরে ৬২ জন, রাজশাহীতে ৮ জেলায় ৩৪০ জন এবং খুলনায় ১০ জেলায় ৩০১ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগেও একইভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এসব ট্যাগ অফিসার মাঠপর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করবেন। ফলে ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে।”

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “জ্বালানি তেল পাচার রোধে সীমান্ত এলাকাতেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে কোনো বড় ধরনের সংকট বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়নি। নিকট ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না। এপ্রিলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা প্রকাশ করছি।”

সরকার জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আরও শক্তিশালী করতে শিগগিরই ডিজিটাল অ্যাপ চালু করতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে বলে জানান তিনি।