ঢাকা, ১৯ জুলাই রোববার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১৯৮

মহিষ কোরবানি করা যাবে কী?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:০৫ ১৫ মে ২০২৬  

কোরবানি ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান ইবাদত। সাধারণত গরু, ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দিয়ে কোরবানি করার প্রচলন আমাদের দেশে বেশি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গরুর পাশাপাশি মহিষ কোরবানির হারও বাড়ছে। এ অবস্থায় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে মহিষ কোরবানি করা কি ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী জায়েজ?

ইসলামি ফিকহ ও ওলামাদের মতামত:

ইসলামি শরিয়ত ও ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মহিষ কোরবানি করা সম্পূর্ণ জায়েজ এবং বৈধ। ইসলামি আইনবিদ ও ফকিহগণ মহিষকে 'গাভী' বা 'গরু'র শ্রেণিভুক্ত মনে করেন। পবিত্র কুরআনে যেসব পশুকে 'বাহিমাতুল আনআম' বা চতুষ্পদ জন্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, মহিষ তার অন্তর্ভুক্ত।

মহিষ কোরবানির শর্তাবলি:

গরু কোরবানির ক্ষেত্রে যেসব শর্ত প্রযোজ্য, মহিষের ক্ষেত্রেও ঠিক একই নিয়ম প্রযোজ্য। যেমন:

১. বয়স: মহিষের বয়স কমপক্ষে পূর্ণ দুই বছর হতে হবে। দুই বছরের কম বয়সের মহিষ কোরবানি করা জায়েজ নয় (তবে যদি পশুটি দেখতে খুব হৃষ্টপুষ্ট হয় এবং দুই বছরের মতো মনে হয়, তবে কিছু ফকিহ বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছেন, কিন্তু নিরাপদ হলো দুই বছর পূর্ণ হওয়া)।

২. অংশীদার: একটি মহিষে সর্বোচ্চ সাতজন মিলে কোরবানি দেওয়া যায়। অর্থাৎ গরু বা উটের মতো মহিষেও সাতটি ভাগ সম্ভব।

৩. সুস্থতা: পশুটিকে অবশ্যই সুস্থ-সবল হতে হবে। অন্ধ, নেংড়া বা অতিশয় দুর্বল মহিষ কোরবানি দেওয়া যাবে না।

পবিত্র হাদিস ও ফতোয়ার রেফারেন্স:

বিখ্যাত ফতোয়া গ্রন্থ 'ফাতাওয়ায়ে শামি', 'বাদায়েউস সানায়ে' এবং 'ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি'-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মহিষ গরুর পর্যায়ভুক্ত একটি পশু। তাই এটি দিয়ে কোরবানি করতে কোনো বাধা নেই। এমনকি আরব বিশ্বের প্রখ্যাত আলেমগণও মহিষ কোরবানিকে বৈধ বলে মত দিয়েছেন।

সার্বিকভাবে, মহিষ কোরবানি নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। যদি কোনো ব্যক্তি মহিষ কোরবানি দিতে চান, তবে তিনি নিঃসংকোচে তা করতে পারেন। এটি শরিয়তসম্মত এবং এর সওয়াব গরুর কোরবানির মতোই।

ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর