ঢাকা, ১৯ অক্টোবর সোমবার, ২০২৬ || ৩ কার্তিক ১৪৩৩
good-food
৪

মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, আহত ২

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০৩:১৯ ১৯ অক্টোবর ২০২৬  

ভারতের মুম্বাইয়ে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে মোটরসাইকেলে আসা তিন দুর্বৃত্ত। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি করে হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। তবে ওই দাবির সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ।

এনডিটিভি জানায়, রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় এ ঘটনায় টাইগার অক্ষত থাকলেও তার গাড়িচালক ও এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুটবল খেলা শেষে গাড়িতে করে ফেরার সময় টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিতে অভিনেতার গাড়িচালক ফিরদৌস ও এক অটোরিকশাচালক আহত হলে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, টাইগার শ্রফের শরীরে গুলির আঘাত লাগেনি।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তি নিজেকে কারাগারে থাকা লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে পরিচয় দেন। তিনি ও হারমান সন্ধু হামলার দায় স্বীকার করেছেন বলে অডিওতে দাবি করা হয়। তাদের বক্তব্য, টাইগারকে আগে সতর্ক করা হয়েছিল কিন্তু তিনি সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেননি।

অডিওতে আরও হুমকি দিয়ে বলা হয়, বলিউডে যারা তাদের নির্দেশ মানবে না কিংবা অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবে তাদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সালমান খানকে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি করা হয়। অন্যথায় তার পরিবারের সদস্যদেরও ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। তবে অডিওটির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রকৃত সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালাচ্ছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করার খবরও পাওয়া গেছে, যদিও তাঁর পরিচয় ও আটকের বিস্তারিত কারণ স্পষ্ট নয়।

সালমান খানের সঙ্গে কাজ করার কারণে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অডিওতে দাবি করা হয়। দুই অভিনেতা একসঙ্গে কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় না করলেও বলিউডে তাদের পারিবারিক ও পেশাগত যোগাযোগ রয়েছে। টাইগারের বাবা অভিনেতা জ্যাকি শ্রফের সঙ্গে সালমানের একাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং দীর্ঘদিন ধরেই সালমান খানকে হুমকি দিয়ে আসছে। এর পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় ১৯৯৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ পবিত্র হিসেবে বিবেচিত। এ ঘটনায় সালমানের কথিত সংশ্লিষ্টতাকে কেন্দ্র করে গ্যাংটি তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে।

২০২৩ সালে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) জানিয়েছিল, কারাগারে থাকা লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সম্ভাব্য হত্যার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় সালমান খান শীর্ষে ছিলেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অভিনেতার বিরুদ্ধে বিষ্ণোইয়ের বিরূপ অবস্থান তৈরি হয়েছিল।

টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বলিউড-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকি ও সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির নেতা বাবা সিদ্দিকিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সালমান খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছিল বিষ্ণোই গ্যাং।

সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ডের পর বলিউডের তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। সালমান খানের বাসভবন লক্ষ্য করেও এর আগে গুলির ঘটনা ঘটেছিল। এ সব ঘটনার প্রেক্ষাপটে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনা নতুন করে সংগঠিত অপরাধচক্রের তৎপরতা ও তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে সর্বশেষ হামলার পেছনে কারা রয়েছে তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।