ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি রোববার, ২০২৬ || ৫ মাঘ ১৪৩২
good-food

স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের পার্থক্য জানেন তো?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:২৭ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬  

হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক—দুটিই প্রাণঘাতী।

দুই ক্ষেত্রেই শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো অঙ্গে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় রোগীর উপসর্গ কাছাকাছি মনে হলেও, চিকিৎসা পদ্ধতি একেবারেই আলাদা। তাই হার্ট অ্যাটাক আর স্ট্রোকের পার্থক্য বোঝা জীবন বাঁচানোর জন্য ভীষণ জরুরি।

হার্ট অ্যাটাক কী?

হার্ট অ্যাটাক ঘটে যখন হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে করোনারি ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে এই সমস্যা হয়, যাকে বলা হয় করোনারি আর্টারি ডিজিজ। রক্ত ও অক্সিজেন না পেলে হৃৎপিণ্ডের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে—বুকে তীব্র ব্যথা বা চাপ অনুভব, শ্বাস নিতে কষ্ট, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি, বাঁ হাত বা কাঁধে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া এবং মাথা হালকা লাগা।

স্ট্রোক কী?

স্ট্রোক ঘটে তখনই, যখন মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। বেশির ভাগ স্ট্রোক হয় রক্ত জমাট বাঁধার কারণে—এটাকে বলা হয় ইস্কেমিক স্ট্রোক। আবার কখনো মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে গেলে হয় হেমোরেজিক স্ট্রোক।

হার্ট অ্যাটাক ঘটে যখন হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।

স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণ হলো—শরীরের এক পাশ হঠাৎ অবশ হয়ে যাওয়া, কথা বলতে অসুবিধা, বিভ্রান্তি, চোখে ঝাপসা দেখা এবং ভারসাম্য হারানো।

হার্ট অ্যাটাক বনাম স্ট্রোক

হার্ট অ্যাটাক হৃৎপিণ্ডে আঘাত হানে, আর স্ট্রোক আঘাত করে মস্তিষ্কে। হার্ট অ্যাটাকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় হৃদযন্ত্রের ধমনি, আর স্ট্রোকে প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কের রক্তনালিতে। তবে দুটোই সমানভাবে বিপজ্জনক এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা প্রয়োজন।

কোনটি বেশি ভয়ংকর?

এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর নেই। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক—দুটোই জীবননাশের ঝুঁকি তৈরি করে। যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ঝুঁকির কারণ

হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকির অনেক কারণ এক—

উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান, ডায়াবেটিস, পারিবারিক ইতিহাস এবং বয়স। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ এসব ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

চিকিৎসা ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা

হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি নম্বরে ফোন করতে হবে। সময়ই এখানে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর।

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে রক্ত জমাট গলানোর ওষুধ, এনজিওপ্লাস্টি, স্টেন্ট বসানো বা বাইপাস সার্জারি করা হতে পারে।

স্ট্রোক ঘটে তখনই, যখন মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান করে কারণ নির্ণয় করা হয়। এরপর প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার, ক্লট অপসারণ বা রক্তনালি বন্ধ করার চিকিৎসা দেওয়া হয়।

প্রতিরোধের উপায়

নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার, ধূমপান পরিহার, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ—এসবই হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের পার্থক্য চিনতে শেখা মানেই জীবন রক্ষার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।