ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর রোববার, ২০১৯ || ৭ আশ্বিন ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
১৭৯

অস্ত্র ছেড়ে মমতায় সন্তানকে বুকে জড়িয়েছেন শহীদুল

মহসীন উল হাকিম

প্রকাশিত: ২১:২২ ৩০ এপ্রিল ২০১৯  


সুন্দরবন! গোলপাতা আর লতাগুল্মের সমাহার ফুটিয়ে তুলেছে তার নান্দনিকতা। আছে নয়নজুড়ানো রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ শতশত পশু। নানা রঙ-ঢঙের পাখির কিচির-মিচির কানে লাগে সমুধুর। এতসব সৌন্দর্যের লীলাভ‚মিতেও বিদ্যমান ভয়, আতঙ্ক।

না, বাঘে ধরবে না, সাপেও কাটবে না। ভয় মানুষ নামের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণিকে নিয়ে। সুন্দরবনে যাদের নাম দেয়া হয়েছে বনদস্যু। এরা অগ্নিশর্মা চোখে রাতবিরাতে অবিরত ছুটে চলে। হাতে থাকে আগ্নেয়াস্ত্র, বারুদ পুড়িয়ে অন্যের স্বপ্ন কাড়ে, নিজের স্বপ্ন বুনে তারা।

এদের কেউ ইচ্ছে করে বনদস্যু। কেউ বাধ্য হয়ে। কেউ বা বুকে জ্বলা প্রতিশোধের আগুন নেভাতে গিয়ে অন্ধকার গহŸরে ডুবে গেছেন। শুনে আশ্চর্য হবেন, দিন শেষে তাদেরও ভাবনায় আসে- আমি ভালো হব, অন্য সবার মতোই সংসারি হব। মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখের নিড় গড়ব। কিন্তু দস্যুতা জীবনের বড় প্রতিবন্ধকতা- একবার যে এ পথে পা বাড়ায়, সে আর ফিরে আসতে পারে না। আরকি উপায় থাকে না। মরে, না হয় মেরে টিকে থাকে।

এতেই কী জীবনের সমাপ্তি! না, দিনশেষে যে সুখ স্মৃতিগুলো সম্পদ, সেখান থেকেই দস্যুরাও ফিরে আসতে চায় স্বাভাবিক জীবনে? হয়তো চায়, হয়ত না!

ভুল পথে সুন্দরবনের এসব স্বপ্ন বুনে চলা দস্যুগুলোর জন্যই আলোকবর্তিকা হয়ে আসেন মোহসীন-উল হাকিম। পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও যিনি গভীরে ভেবেছেন দস্যুদের একান্ত কষ্টগুলো। তাই তো বেসরকারি যমুনা টিভির এই বিশেষ প্রতিনিধি এগিয়ে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সুন্দরবনের আতঙ্ক দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

ইতোমধ্যে অনেকে ফিরে এসেছেন। আরও অনেকে আসার প্রক্রিয়ায় আছেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের ফেরানোর পথে তাকে শত দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। জীবনকে হাতের মুঠোয় নিতে হয়েছে। গহীন বনে না খেয়ে, না নেয়ে ঘুরতে হয়েছে। এরই মাঝে কোনো দস্যুর জীবনের গল্প শুনে হয়তো কেঁদেছেন, কারোটাতে ক্রোধে জ্বলেছেন। সেসব হাসি-কান্না, দুঃখ-বেদনাগুলো ‘জীবনে ফেরার গল্প’ শিরোনামে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে পর্ব আকারে জানিয়েছেন দু:সাহসী এ সাংবাদিক। আমাদের আয়োজন তা নিয়েই-

জীবনে ফেরার গল্প-০১

বনদস্যু শহীদুল। ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য। দস্যুতা ছেড়ে জীবনে ফিরেছেন ক’দিন আগে। অস্ত্র ছেড়েছেন, পরম মমতায় বুকে জড়িয়েছেন নিজের সন্তানকে। অথচ সেদিনও তিনি ছিলেন হিংস্র, অত্যাচারী এক দস্যু। তিনিই কেড়ে নিতেন অসংখ্য জেলে-বাওয়ালীর রাতের ঘুম।

সেই হিংস্র মানুষদের আবারও মানুষ হয়ে ওঠার দৃশ্য আমার পুরস্কার। জঙ্গল থেকে এমন ২১৭ দস্যুর জীবনের গতিপথ পরিবর্তনের সাক্ষী আমি। ভালো লাগার এই উপাদানগুলোই আমার শক্তি। এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।

 

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক