ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, ২০২৬ || ১২ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food

ইফতারের পর অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পাবেন যেভাবে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:১০ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর যখন আমরা ইফতারের টেবিলে বসি, তখন ভাজা পোড়া আর মুখরোচক খাবারের ভিড়ে আমরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। অনেকেই না ভেবে বেশি খেয়ে ফেলেন। আর এর পরই শুরু হয় বুক জ্বালা, পেটে অস্বস্তি, টক ঢেঁকুর কিংবা গ্যাসের সমস্যা। অর্থাৎ অ্যাসিডিটি। সারাদিন পেট খালি থাকার পর হঠাৎ করে অতিরিক্ত তেল ও মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। শুরু হয় অস্বস্তিকর বুক জ্বালাপোড়া। এই সমস্যাটি আমাদের রোজার আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দেয়।

তবে হাতের কাছে থাকা কিছু প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই আপনি খুব সহজে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। জেনে নিন ইফতারের পর অ্যাসিডিটি কমাতে কোন খাবারগুলো আপনার সবচেয়ে বড় বন্ধু হতে পারে।

কলা

অ্যাসিডিটির সমস্যায় কলা একটি জাদুকরী ফল হিসেবে কাজ করে। কলা মূলত প্রাকৃতিকভাবে ক্ষারীয় বা অ্যালকালাইন জাতীয় খাবার যা পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিডকে নিউট্রাল বা শান্ত করতে দারুণ কার্যকরী। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড উপাদান। যখন আমরা কলা খাই তখন এটি আমাদের পেটের ভেতরের আস্তরণের ওপর একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি করে। ফলে অ্যাসিডের কারণে যে জ্বালাপোড়া হয় তা দ্রুত কমে আসে। এছাড়া কলা আমাদের শরীরে শ্লেষ্মা বা মিউকাস উৎপাদনে সাহায্য করে যা পাকস্থলীকে অ্যাসিডের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। তাই তীব্র গ্যাস বা অ্যাসিডিটি থেকে বাঁচতে প্রতিদিন সেহরি বা ইফতারে একটি করে পাকা কলা খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটি সরাসরি খেতে পারেন অথবা দই বা চিড়ার সাথে মিশিয়েও গ্রহণ করতে পারেন।

ঠান্ডা দুধ

যাদের পেটে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া অনুভব হয় তাদের জন্য এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ হতে পারে সেরা সমাধান। দুধের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম কার্বনেট একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে। এটি পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড শোষণ করে নেয় এবং জ্বালাপোড়া ভাব কমিয়ে এক ধরণের শীতল প্রশান্তি এনে দেয়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে দুধটি অবশ্যই চিনি ছাড়া এবং ঠান্ডা হতে হবে। গরম দুধ খেলে উল্টো অ্যাসিডিটি বাড়তে পারে। আর আপনার যদি ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স বা দুধ হজমে সমস্যা থাকে তবে এই পদ্ধতিটি এড়িয়ে চলাই ভালো। অন্যথায় সাধারণ মানুষের জন্য এটি অ্যাসিডিটি দূর করার একটি পরীক্ষিত ও প্রাচীন ঘরোয়া পদ্ধতি।

ডাবের পানি

রমজানের গরমে সারাদিন পানি না খাওয়ার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দেখা দেওয়া খুব স্বাভাবিক। ইফতারে বাইরে থেকে কেনা চিনিযুক্ত বা কেমিক্যাল মেশানো শরবত খাওয়ার বদলে আপনি যদি ডাবের পানি বেছে নেন তবে তা আপনার শরীরের জন্য পরম আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। ডাবের পানি কেবল তৃষ্ণা মেটায় না এটি পেটে জমে থাকা গ্যাস দূর করতেও জাদুর মতো কাজ করে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রয়োজনীয় মিনারেলসে ভরপুর যা শরীরের পিএইচ মাত্রা বা অম্লতার ভারসাম্য বজায় রাখে। প্রতিদিন ইফতারে এক গ্লাস ডাবের পানি পান করলে আপনি যেমন সতেজ অনুভব করবেন তেমনি অ্যাসিডিটির হাত থেকেও রক্ষা পাবেন।

পুদিনা পাতা

হজমের সমস্যায় পুদিনা পাতার ব্যবহারের কথা আমরা সবাই জানি। ইফতার করার পর যদি আপনার মনে হয় পেট ভার হয়ে আছে বা গ্যাস হচ্ছে তবে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি টাটকা পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেয়ে নিন। পুদিনার শীতল গুণ অ্যাসিডের প্রবাহকে শান্ত করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। যারা সরাসরি পাতা চিবিয়ে খেতে পছন্দ করেন না তারা এক কাপ পানিতে কয়েকটি পুদিনা পাতা দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে সেই পানি চা হিসেবে পান করতে পারেন। এটি আপনার অন্ত্রের পেশিকে শিথিল করবে এবং গ্যাসের চাপ কমিয়ে আরাম দেবে।

আদা ও মৌরি

অ্যাসিডিটি থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে আদা ছোট ছোট কুচি করে কেটে সামান্য লবণ দিয়ে চিবিয়ে খেতে পারেন। আদার মধ্যে থাকা অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান পাকস্থলীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। যদি আদার কড়া স্বাদ আপনার ভালো না লাগে তবে মৌরি আপনার জন্য দারুণ একটি বিকল্প হতে পারে। খাবার খাওয়ার পর সামান্য মৌরি মুখে দিয়ে চিবিয়ে খেলে তা পাকস্থলী ও অন্ত্রের পেশিতে প্রভাব ফেলে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার পাশাপাশি গ্যাসের সমস্যাকে গোড়া থেকে নির্মূল করে।

একটি বিষয় মনে রাখা খুব জরুরি যে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। ইফতারের টেবিলে ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। খাবারের সময় তাড়াহুড়ো না করে ভালো করে চিবিয়ে খান। সেহরি ও ইফতারে প্রচুর পানি পান করুন এবং একবারে অনেক বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবারে খাওয়ার চেষ্টা করুন। আপনার সচেতনতাই পারে এই রমজানকে স্বাস্থ্যকর এবং আনন্দময় করে তুলতে। শরীর সুস্থ থাকলে মনও শান্ত থাকবে আর আপনি পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে ইবাদত সম্পন্ন করতে পারবেন। স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল আর সঠিক আহারই সুস্থতার চাবিকাঠি। আজ থেকেই এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন এবং সুস্থ থাকুন।