ঢাকা, ১৮ জুলাই শনিবার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১০০

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: অভিযোগপত্র গ্রহণ, বিচারের জন্য বদলির নির্দেশ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:০৩ ২৪ মে ২০২৬  

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে গ্রহণ করেছেন আদালত।

রবিবার (২৪ মে) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান।এরপর তা গ্রহণ করে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যায় সহোযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

এর আগে সকালে অভিযোগপত্র প্রস্তুতের বিষয়টি নিশ্চিত করে অহিদুজ্জামান জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এটি আদালতে দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিন রামিসা হত্যা মামলার বিচারকাজ পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “এই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে সরকার সবকিছুই করবে।”

শনিবার ময়মনসিংহে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে এই ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। 

গত বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং শিশুটির বড় বোনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।

গত বুধবার সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে।

এই ঘটনায় ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন দ্রুত বিচারের দাবি জানায়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত রামিসা পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ওই ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে সাবলেটে থাকতো আসামি সোহেল ও স্বপ্না। 

ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে তাকে নিজেদের রুমে নিয়ে যায় আসামিরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা খুঁজতে গিয়ে ওই রুমের সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান। পরে ফ্ল্যাটের অন্যদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে বাথরুমের বালতির ভেতর রামিসার খণ্ডিত মাথা এবং খাটের নিচে মাথাবিহীন ও আংশিক বিচ্ছিন্ন দুই হাতসহ দেহ পাওয়া যায়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং স্বপ্নাকে আটক করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সোহেল শিশুটিকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ ও হত্যা করে। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে শরীর থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করে এবং জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। 

একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার দিনই নিহত শিশুর বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।