ঢাকা, ২৬ আগস্ট বুধবার, ২০২৬ || ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food
১৬৪

স্ট্রেস, ডায়েট, ধূমপান-রক্তচাপ কমাতে যেসব বিষয়ে রাশ টানতে হবে?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৫৫ ১৭ মে ২০২৬  

লাইফস্টাইলের সঙ্গে যে সব রোগ জড়িয়ে গিয়েছে, তার মধ্যে হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। আবার এই রোগের হাত ধরেই শরীরে হানা দেয় হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদি। দুর্ভাগ্যবশত, দেশের ২০ কোটিরও বেশি মানুষ ভুগছেন হাইপারটেনশনে। অনেকে তো জানেনও না, তাঁদের দেহ নিশ্চুপে বাড়ছে রক্তচাপ। যদিও হাইপারটেনশন এমন এক নীরব ঘাতক, যা নিঃশব্দেই বাসা বাঁধে শরীরে। এই কারণেই প্রতি বছর ১৭ মে বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস।

বেশিরভাগ মানুষ প্রাইমারি বা এসেনশিয়াল হাইপারটেনশনে ভোগেন। এই রোগের নির্দিষ্ট কোনও একক কারণ থাকে না। ডায়েট, লাইফস্টাইল বা জিনগত কারণেই এটি ঘটে। আজকাল বহু মানুষ ভুগছেন সেকেন্ডারি হাইপারটেনশনে। এ ক্ষেত্রে কোনও রোগের কারণে রক্তচাপ বাড়তে থাকে। তবে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোক বা অন্যান্যা শারীরিক জটিলতা দুই ক্ষেত্রেই দেখা যায়।

ফর্টিস হাসপাতালের কার্ডিয়োলজি বিভাগীয় প্রধান ডাঃ শুভানন রায় বলেন, ‘রক্তচাপ বংশগত রোগ। কিন্তু ওবেসিটি, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর ডায়েট, মানসিক চাপের মতো বিষয়গুলো হাইপারটেনশনের ঝুঁকিকে জোরালো করে দেয়।’ কার্ডিওলজিস্ট জানিয়েছেন, আজকাল তুলনামূলকভাবে কম বয়সিদের মধ্যে, বিশেষ করে ৩০ ও ৪০ বছর বয়সি ব্যক্তিদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। ‘দ্রুত রোগ নির্ণয়, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, লাইফস্টাইল নিয়ন্ত্রণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ, খাবারে নুন পরিমাণ কমানো, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ার মাধ্যমে এই রোগকে বশে রাখা যায়’, বক্তব্য ডাঃ রায়ের।

ডামা হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট এম এস পুরকাইত কিছু টিপস শেয়ার করেছেন, যা মেনে চললে এই উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

১. বডি মাস ইনডেক্স (BMI) অনুযায়ী শরীরের ওজন স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি।

২. খাবারে নুন পরিমাণ কমানো, অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার।

৩. প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, যোগব্যায়াম বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ় করা উচিত। সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৫ দিন এনার্জি-বুস্টিং বা ঘাম ঝরানো ব্যায়াম করলে রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় বজায় থাকে।

৪. ধূমপান সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি চা, কফি (ক্যাফেইন) ও অ্যালকোহলের পরিমাণ কমাতে হবে। 

৫. রাতে ৭-৮ ঘণ্টার নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৬. ৩০ বছর বয়সের পর থেকে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি। বিশেষত যাঁদের অন্য কোনও লাইফস্টাইল ডিজিজ রয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসকের কথা মতো চলা উচিত।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর