ঢাকা, ১৪ আগস্ট শুক্রবার, ২০২৬ || ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food

ডেস্কে টানা কাজ: কোমর-পিঠের ব্যথা এড়াবেন যেভাবে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৪০ ১৪ আগস্ট ২০২৬  

বুড়ো বয়সে হাড়ে জোর থাকে না। তখন ব্যথা-যন্ত্রণা যেন রোজের সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আজকাল ৩০-এ পৌঁছেই ঘাড়-পিঠের ব্যথায় অস্থির মানুষ। মিলেনিয়াল ও জেন জ়ি-দের মধ্যে বাড়ছে কোমর-পিঠের যন্ত্রণা। নেপথ্যে দায়ী ওয়ার্ক লাইফ। কেন জানেন?

এই বয়সের অধিকাংশ মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময়ে চেয়ারে বসে কাটান। কাজের জন্য সারাক্ষণ ল্যাপটপ-কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে এই সময়টা প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা হয়ে যায়। এই একটানা একই জায়গায় বসে থাকার ফলেই দেখা দেয় ঘাড়, কাঁধ, পিঠ ও কোমরের ব্যথা। 

ডেস্ক জব করলে পিঠ ও কোমর ব্যথা বাড়ে কোন কোন কারণে?

# ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের স্কিনের দিকে ঝুঁকে বসে থাকেন। সামনের দিকে ঝুঁকে বসার জেরে মেরুদণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এ ভাবে বসে থাকলে মেরুদণ্ডের ডিস্কগুলোতে চাপ বাড়ে। এখান থেকে ব্যথা বাড়ে।

# পেট ও পিঠের পেশিগুলো মেরুদণ্ডকে সাপোর্ট দেয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ একই জায়গায় বসে থাকলে ওই পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এর জেরে মেরুদণ্ড এবং কোমরের নীচের অংশের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এখান থেকেও ব্যথা-যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায়। 

# একটানা বসে থাকার ফলে উরু ও কোমরের সংযোগস্থলের হিপ ফ্লেক্সের পেশিগুলো সঙ্কুচিত হয়ে যায়। এই শক্ত ভাব পেলভিসকে টেনে ধরে রাখে এবং এর জেরেই কোমরের নীচের অংশে টান ধরে। 

# দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করার হলে চেয়ারের দিকেও নজর দেওয়া দরকার। যদি চেয়ারের ডেস্কের তুলনায় নীচু হয়, ডেস্ক ও চেয়ার সমান উচ্চতায় না থাকে, তা হলে বসার ভঙ্গিও বদলায়। তখন ঘাড় উঁচিয়ে কাজ করতে হয়। প্রতিদিন এ ভাবে ভুল ভঙ্গিমায় বসে থাকলে ঘাড়ের ব্যথা বাড়ে। 

# ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক ভঙ্গিমায় বসে থাকলে মেরুদণ্ডের স্ট্রাকচারে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। তাই পিঠের ফ্লেক্সিবিলিটি কমে যায়। আড়ষ্ট ভাব কাজ করে। তখন হঠাৎ উঠতে গেলে পিঠ ও কোমরে ব্যথা হয়।

এই সমস্যা এড়াতে কী কী করবেন?

# একটানা বসে কাজ করবেন না। প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর উঠুন এবং ১০ মিনিট হাঁটাচলা করুন। এ ছাড়া মাঝে মাঝে দাঁড়িয়েও কিছুক্ষণ কাজ করতে পারেন। 

# এমন চেয়ার ব্যবহার করুন, যা আপনার পিঠ ও কোমরের অংশকে সাপোর্ট দেবে।

# স্ক্রিন ও চোখ যেন সমান্তরালে সামনে এমন ভাবে ডেস্ক ও চেয়ার সেট করুন। 

# প্রতিদিন এক্সারসাইজ় করতেই হবে। এতে পেশির জোর এবং ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়বে।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর