ঢাকা, ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food

আইয়ুব বাচ্চু: ছয় তারের জাদুকর

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:১২ ২০ আগস্ট ২০২৬  

তিনি হারানো ‘বিকেলের গল্প’ বলে মায়ার জাল বুনেছিলেন। শুনিয়েছিলেন ‘ঘুম ভাঙা শহর’-এর গান। ‘মেয়ে তুমি কি দুঃখ চেনো’ গেয়ে হাজারো প্রেমিকের বুকে তুলেছিলেন ঝড়।

তিনি আইয়ুব বাচ্চু বাংলা রকসংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি। কণ্ঠ ছিল যার শক্তি, আর হাতে থাকা গিটার ছিল জাদুর কাঠি। গানে গানে কখন যে কোটি মানুষের হৃদয়ের অংশ হয়ে গিয়েছিলেন, হয়তো নিজেও তা অনুধাবন করেননি। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত তিনি জীবনভর গেয়েছেন জীবনের গান।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন এবং ধীরে ধীরে তৈরি করেছেন নিজের স্বতন্ত্র সংগীত-ভাষা। ১৯৭৮ সালে যোগ দেন রক ব্যান্ড ফিলিংসে, যা পরে পরিচিত হয় নগর বাউল নামে। ১৯৮০ সালে যোগ দেন সোলসে।

প্রায় এক দশক সোলসের সঙ্গে পথ চলার সময় তিনি শুধু একজন গিটারিস্ট হয়ে থাকেননি; গিটারের তারে তৈরি করেছিলেন নিজস্ব এক ভাষা। যে ভাষায় অভিমান, ভালোবাসা, কষ্ট, এমনকি মুখে বলা যায় না এমন কথাও ব্যক্ত হয়েছে।

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’। এরপর একে একে আসে ‘ময়না’, ‘কষ্ট’, ‘সময়’, ‘একা’, ‘প্রেম তুমি কি’, ‘কাফেলা’, ‘জীবন’, ‘রিমঝিম বৃষ্টি’, ‘বলিনি কখনো’, ‘জীবনের গল্প’সহ অসংখ্য অ্যালবাম। তবে অ্যালবামের সংখ্যা দিয়ে আইয়ুব বাচ্চুকে বোঝা যায় না। তাকে বুঝতে হলে শুনতে হয় তার গান। 

১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল গড়ে তোলেন এলআরবি। পরের বছর প্রকাশিত হয় ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম। এরপর এলআরবি ও আইয়ুব বাচ্চু হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের সংগীত-ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

একটি প্রজন্ম বড় হতে থাকে তার গান শুনে। কারো হাতে গিটার, কেউ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তার মতো গান গাওয়ার চেষ্টা করছে, কেউ বন্ধুর সঙ্গে ক্যাসেট চালিয়ে বসে আছে, আবার কেউ গভীর রাতে একা শুনছে ‘ফেরারি এই মনটা আমার...’।

বাচ্চুর গানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল, তিনি মানুষের খুব কাছাকাছি ছিলেন। ‘কেউ সুখী নয়’ শুনে মনে হয়েছে, সত্যিই তো, সবাই কি আর সুখী? ‘এখন অনেক রাত’ কোনো কোনো রাতকে আরো গভীর করেছে। ‘একদিন ঘুম ভাঙা শহরে’ হয়ে উঠেছে নিজের শহরের গল্প।

আর ‘চলো বদলে যাই’ শুধু গান নয়, হয়ে উঠেছিল এক প্রজন্মের মনের ডাক। ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, ‘বাংলাদেশ’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘সেই তারা ভরা রাতে’, ‘সাড়ে তিন হাত মাটি’ কত গান যে মানুষের জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে, তার হিসাব নেই। চলচ্চিত্রের গানেও তিনি রেখেছেন স্বতন্ত্র ছাপ।

তবু আইয়ুব বাচ্চুর সবচেয়ে উজ্জ্বল পরিচয় হয়তো সেই রুপালি গিটার। মঞ্চের আলো যখন তার ওপর পড়ত, গিটার হাতে উঠত, বদলে যেত চারপাশ। ছয়টি তার যেন তখন কথা বলত তার হয়ে।

বাচ্চুই একদিন গেয়েছিলেন, ‘এই রুপালি গিটার ফেলে চলে যাব দূরে।’ ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর মাত্র ৫৬ বছর বয়সে সত্যিই চলে গেলেন তিনি। পড়ে রইল তার রুপালি গিটার, অগণিত গান আর কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকা এক অমলিন সুর।

বিনোদন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর