ঢাকা, ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার, ২০২৬ || ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলে চিঠি

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:৫৯ ১৮ আগস্ট ২০২৬  

১৩ বছর আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও হতার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সোমবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিকে চিঠি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, ‘শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের এই মামলায় প্রথম কোনো পলাতক আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে রয়েছেন। ইন্টারপোলের মাধ্যমে আমরা তাঁকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবো বলে মনে করি। পর্যায়ক্রমে মামলার বাকি পলাতক আসামি যারা দেশের বাইরে আছেন, তাদেরও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

সোমবার দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারাধীন আইসিটি কেস- ৫/২৬ মামলায় আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। তদন্ত শুরুর পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। 

চিফ প্রসিকিউটর চিঠিতে দাবি করেছেন, তদন্ত সংস্থা আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে ‘যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণ পেয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে। সমাবেশটি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। 

আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ 

প্রসিকিউশনের দাবি, ওই সময় বিজিবি’র মহাপরিচালক ছিলেন মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে অভিযানের অপারেশনাল পরিকল্পনায় অংশ নেন এবং বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করেন। 

তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী ৩২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই ঘটনাতেই বিজিবি তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। ২৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

অপরাধ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর