ঢাকা, ২১ জুলাই মঙ্গলবার, ২০২৬ || ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১০

জিয়া হত্যার আসামি মোজাফফরের বিচার কোর্ট মার্শালে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৫৫ ২০ জুলাই ২০২৬  

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান সাজাপ্রাপ্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার কোর্ট মার্শালে আইনানুগভাবে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, একই অপরাধে কোনো ব্যক্তিকে সিভিল ল' ও মার্শাল ল'— দুই ভিন্ন আইনে আলাদাভাবে বিচার বা ট্রায়াল করার আইনি সুযোগ নেই। তাই সেনা আইনেই এই মামলার বিচার সম্পন্ন হবে।

সোমবার বিকেলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রী বাহিনীটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দরবার ও মতবিনিময় করেন।

জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান সাজাপ্রাপ্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত এই আসামির বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘‘তৎকালীন সময়ে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান বিচার সামরিক আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল। সেখানে সুনির্দিষ্ট ফাইন্ডিংস ছিল।’’

তিনি বলেন, ‘‘দীর্ঘ সময় ছদ্মনামে পার্শ্ববর্তী দেশে আত্মগোপনে থাকা এই আসামিকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের পর বর্তমান সেনা আইনেই (মিলিটারি অ্যাক্ট) বিচারের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠনের মাধ্যমে এই বিচার প্রক্রিয়া আইনানুগভাবে সম্পন্ন হবে।’’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘একই অপরাধে কোনো ব্যক্তিকে সিভিল ল' ও মার্শাল ল'— দুই ভিন্ন আইনে আলাদাভাবে বিচার বা ট্রায়াল করার আইনি সুযোগ নেই। তাই সেনা আইনেই এই মামলার বিচার সম্পন্ন হবে।’’

মিয়ানমার সীমান্তে চলমান অস্থিরতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী যেমন— আরএসও ও আরসা’র তীব্র অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত চলছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বর্ডার এই ত্রিমুখী সংঘাতের মাঝে এক ধরনের সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে।’’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘ওপার থেকে ছিটকে আসা গোলাগুলি ও মাদকের অনুপ্রবেশ রুখতে সরকার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ জারি রেখেছে।’’ ভারতের সঙ্গে সীমানা ব্যবস্থাপনার ধরন ও মিয়ানমার সীমান্তের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ ভিন্ন বিধায় মিয়ানমার সীমান্তকে নিশ্ছিদ্র করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইনের অভিযোগ নাকচ করে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানান, অবৈধভাবে পুশ-ইন করার কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সতর্ক অবস্থানে আমরা প্রতিটি পুশ-ইন সফলভাবে প্রতিহত করেছি।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা এমন প্রচারণা চালাতে পারে। যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।’’

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনা করে থাকে। যদি বৈধ বাংলাদেশী নাগরিকের উপস্থিতির স্বপক্ষে সুনির্দিষ্ট তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিধিমোতাবেক প্রেরণ করা হয়, তবে বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের জাতীয়তা যাচাই (ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন) পূর্বক ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

অপরদিকে বিজিবির জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম ও যানবাহন সংগ্রহ, নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং বিজিবি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে নার্স ও চিকিৎসক নিয়োগসহ বিজিবির বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।

অপরাধ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর