ঢাকা, ০৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার, ২০২৬ || ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food
৪০

হাসিনাকে ধরে আনব, তার জন্য ফাঁসি অপেক্ষা করছে: তথ্য উপদেষ্টা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:৫৬ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত ও ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফিরে আসার সময় নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর স্ট্রাটেজি এবং তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন,“ এখন আমরা তাকে ধরে আনতে চাই। তার জন্য ফাঁসি অপেক্ষা করছে।”

মঙ্গলবার সচিবালয়ের পিআইডি কনফারেন্স রুমে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অগ্রগতির বিষয়ে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের ভারত সফরের বিষয়ে সরকারের ভাবনা জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমরা একটা কথা ক্লিয়ারলি বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সাথে যখন কন্ডিশন দেওয়া হয়, তখন উই হ্যাভ টু টেক ইট সিরিয়াসলি। আমরা একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই শেখ হাসিনা আপনি আসবেন না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি পলাতক এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।”

আইনি প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনারা খেয়াল করেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন যে, উনার (শেখ হাসিনা) এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই, কারণ সময় পেরিয়ে গেছে। উনি এসে আপিল করে সেটি পুনর্বিবেচনা করাবেন, সেই সময়ও আর নেই। টেকনিক্যালি এখন পরিস্থিতি এমন যে, তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।”

ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “তিনি এখন ভারতের প্রতিষ্ঠিত কিছু মিডিয়ার সাথে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, প্রত্যর্পণের আগ পর্যন্ত ভারত সরকার অন্তত তাকে এই ধরনের কাজ থেকে বিরত রাখবে। তিনি সেখানে পালিয়ে বা আত্মগোপন করে আছেন, সেখানে তিনি এই ধরনের অধিকার ভোগ করতে পারেন কি না, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আমি মনে করি, এটা ভারতের দিক থেকে সঠিক হচ্ছে না।”

দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন দূর করতে ভারতের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল মন্তব্য করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “ভারত সরকার দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ইমিডিয়েটলি একটি পদক্ষেপ নিতে পারতেন তা হলো শেখ হাসিনার মুখ বন্ধ রাখা। কিন্তু তারা কেন তা করছেন না, সেই জবাব আমি আপনাদের কাছে চাইব।”

ভারতের হাইকমিশনারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হাইকমিশনার একজন পলিটিক্যাল পারসন, আমরা তাকে ইতিবাচকভাবে দেখি। কিন্তু শেখ হাসিনার ব্যাপারে আমাদের যে সেনসিটিভিটি আছে, সেটি তাদের বোঝা উচিত। হাসিনাকে মিডিয়ায় কথা বলতে দেখা আমাদের জন্য কতটা বিরক্তিকর ও ক্ষুব্ধ হওয়ার মতো বিষয়, সেটি তাদের উপলব্ধি করা প্রয়োজন।”

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, “হাইকমিশনারের কাছে জানতে চাওয়া উচিত যে, তারা কি মনে করেন এগুলো ঠিক হচ্ছে? একদিকে মুখে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে এমন কিছু করা হচ্ছে যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শেখ হাসিনা যখন সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন, তখন আমাদের প্রতিবাদ লিপিতে এই কথাই বলা হয়েছিল যে, দুই দেশের মধ্যে আগে একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি হতে হবে।”

অপরাধ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর