ঢাকা, ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার, ২০২৬ || ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food
৪৮

৬ মাসে বন্ধ ৯৫ কারখানা, কাজ হারিয়েছেন ৬২ হাজার শ্রমিক

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:০৪ ২৪ আগস্ট ২০২৬  

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে ৯৫ কারখানা বন্ধ হয়েছে, ৬২ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত নিজস্ব কার্যালয়ে সোমবার (২৪ আগস্ট) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে এসব মূল্যায়ন তুলে ধরেন সংস্থাটির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য তার বক্তব্যে সরকারের বিগত ছয় মাসের গৃহীত মোট ৩৬২টি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করে ৯টি খাতের একটি ‘স্কোরকার্ড’ উপস্থাপন করেন। এই পদক্ষেপগুলোকে ‘স্বস্তি’ এবং ‘অস্বস্তির’ জায়গায় ভাগ করে মূল্যায়ন করা হয়।

তিনি বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার সময় সরকারের সামনে ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর দশা, অর্থ পাচার, খেলাপি ঋণ ও একক পণ্যের ওপর অতিরিক্ত রপ্তানি নির্ভরতার মতো কাঠামোগত দুর্বলতা ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল হরমুজ প্রণালির যুদ্ধাবস্থাসহ বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্লথগতি। এই প্রতিকূল বাস্তবতায় সরকার দায়িত্ব নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক দলিল বা ডকুমেন্ট তারা তৈরি করেনি।” 

তিনি যোগ করেন, “কোনো তথ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান ছাড়াই এখন বলা হচ্ছে সময় লাগবে, যা কাম্য নয়।”

শিল্প ও বাণিজ্য খাতের পরিস্থিতিকে অন্যতম উদ্বেগের জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, গত ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬) গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর মতো প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে অন্তত ৯৫টি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন।

এছাড়া গ্যাসসংকটে সার কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হওয়াও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। 

তবে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য খাতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি উদ্যোগকে ইতিবাচক বা ‘স্বস্তির’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আর্থিক ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিছু উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও সামগ্রিক সংস্কারে বড় ঘাটতি দেখছে সিপিডি।

২০২৬ সালের ফাইন্যান্স অ্যাক্টে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো এবং ই-রিটার্ন ব্যবস্থার বিস্তারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়াতে কোনো ‘ব্যয় সংকোচন কমিশন’ গঠন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

দেশের বর্তমান ঋণ পরিস্থিতি তুলে ধরে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সতর্ক করেন, “আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে নতুন করে ঋণ নেওয়ার আগে বাংলাদেশের ‘ঋণ সংকট মূল্যায়ন’ (লোন ডিসট্রেস অ্যাসেসমেন্ট) করা জরুরি ছিল। তা না হলে এই ঋণের বোঝা শোধ করতে কয়েক প্রজন্ম লেগে যাবে।”

ব্যাংকিং খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের আওতায় পাঁচটি দেউলিয়া নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন এবং দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনের উদ্যোগকে ইতিবাচক বলা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও শীর্ষ পদের পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করা হয়। 

তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরকে যেভাবে অসৌজন্যমূলকভাবে বিদায় দেওয়া হয়েছে, তা মেধা ও পেশাদারিত্বের প্রতি অসম্মানজনক।”

সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সিপিডি জানায়, সাংসদদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট বরাদ্দের সুবিধা বাতিল এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের বার্তা প্রশংসনীয়।

তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় উচ্চপদে পদায়ন, মব ভায়োলেন্স অব্যাহত থাকা এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের অভাব এখনও গভীর উদ্বেগের কারণ।

আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন, অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানো এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা—এই দুটি মূল লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে এখনই কাঠামোগত ও সমন্বিত সংস্কারে হাত দিতে হবে। বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।