ঢাকা, ১৮ জুলাই শনিবার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১০৭

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ছে, খসড়ায় যা আছে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১২:৪৯ ২৪ মে ২০২৬  

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তি স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে। এই সময় হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে ও ইরান স্বাধীনভাবে তেল বিক্রি করতে পারবে।

একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়েও এই সময়ে আলোচনা চলবে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে রবিবার অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যকর থাকা ৬০ দিনের সময়ে হরমুজ প্রণালি কোনো টোল ছাড়াই খোলা থাকবে। এছাড়া, ইরান প্রণালিতে যে মাইন পেতে রেখেছিল, সেগুলো সরিয়ে ফেলবে যাতে জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে।

এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা অবরোধ তুলে নেবে এবং কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে, যাতে ইরান স্বাধীনভাবে তেল বিক্রি করতে পারে।

খসড়া চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না। এছাড়া, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত করা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এই সময়সীমার মধ্যে আলোচনায় বসতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই সমঝোতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতও শেষ হবে। তবে যদি হিজবুল্লাহ হামলা চালায় বা হামলার উসকানি দেয়, তাহলে ইসরায়েলকে পাল্টা হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে।

মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, “হিজবুল্লাহ শান্ত থাকলে ইসরায়েলও শান্ত থাকবে। নেতানিয়াহুর নিজস্ব রাজনৈতিক বিবেচনা আছে, কিন্তু ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থও ভাবতে হচ্ছে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

দুইটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে যে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করা এবং পারমাণবিক উপাদান ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রও ৬০ দিনের এই সময়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং জব্দ থাকা ইরানি অর্থ ছাড় করার বিষয়ে আলোচনায় বসবে।মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প আশা করছেন চুক্তিটি আজকের মধ্যেই ঘোষণা করা হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদি তেহরান ট্রাম্পের পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত শর্ত মেনে নেয়, তাহলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং ইরান তার পূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিকে এগোতে পারবে। এ বিষয়ে রয়টার্স মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।