ঢাকা, ২৬ আগস্ট বুধবার, ২০২৬ || ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food
১৯৫

বন্ধুত্ব না ভেঙে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখবেন যেভাবে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:১৩ ১০ মে ২০২৬  

‘বন্ধু নামের কোনও পদবি নেই/ বন্ধুর ঠিকানা হাত বাড়ালেই’—বন্ধুত্বের সংজ্ঞা হয় না। যেখানে ভালোবাসা, অবুঝ অভিমান থাকবে। যেখানে না বলা কথা সহজেই বুঝে নেবে। বন্ধুত্ব মানে ‘পকেটভর্তি ক্যাবলামি/খুব মস্ত বীরপুরুষ’। কিন্তু এই টক-ঝাল-মিষ্টি বন্ধুত্ব যদি মানসিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়… তখন কী হবে?

বন্ধুত্ব এমন একটা সম্পর্ক যেখানে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার দরকার পড়ে না। অথচ দূরত্বও তৈরি হয় না। অনেক দিন কথা না হলেও যখন-তখন আড্ডা শুরু করে দেওয়া যায়। কিন্তু এটা সব বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে ঘটে না। ট্রেন্ডে ‘ফ্রেন্ডশিপ বার্নআউট’—যেখানে বন্ধুর থেকে মুখ ফেরাচ্ছে বহু মানুষ। যেখানে বন্ধুত্ব শুধুই এক তরফা এবং মানসিক চাপের কারণ।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একজনই বন্ধুত্ব রাখার জন্য জোর দিচ্ছে। আর অন্যজন বার বার তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, অনেক ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায়, যেখানে একজন ক্রমাগত নিজের সমস্যা, দুঃখ, মানসিক চাপ অন্যজনের উপর চাপিয়ে চলেছেন। আর তিনি চুপচাপ সেটা সহ্য করছেন। এটাই কখনও কখনও মানসিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তখন না চাইতেও বন্ধুত্ব ভাঙতে চান অনেকে। আর এটাই হলো ‘ফ্রেন্ডশিপ বার্নআউট’।

কিন্তু ‘ফ্রেন্ডশিপ বার্নআউট’ একদিনে ঘটে না। দিনের পর দিন ছোট ছোট আচরণে বিরক্তি তৈরি হয়। যেমন বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে, আড্ডা দিলে যেখানে মন ভালো হয়ে যাওয়ার কথা, সেখানেই মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। দেখা হওয়ার পর যেন আরও মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। আপনি তাঁর কাছে ‘ইমোশনাল ডাম্পিং’-এর জায়গা হয়ে ওঠেন এবং এর জেরেই ‘ফ্রেন্ডশিপ বার্নআউট’ হয়।

অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের সম্পর্ক একতরফা হয়। আপনি সব সময় বন্ধুর পাশে থাকছেন, তাঁর কথা শুনছেন, সমস্যা সামলাচ্ছেন। কিন্তু নিজের খারাপ সময়ে বন্ধুকে পাশে পাচ্ছেন না। তখন ধীরে ধীরে সম্পর্কটা নিরাপত্তার জায়গা না থেকে চাপের জায়গা হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার আগেই যদি অস্বস্তি, ভয়, ক্লান্তি বা দমবন্ধ লাগে, তা হলে সেটাকে হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়।

কিন্তু সব ক্ষেত্রে সম্পর্ক ভেঙে ফেলা যায় না এবং এটা উচিতও নয়। এমন সমস্যায় পড়লে বন্ধুত্ব ভাঙার বদলে বাউন্ডারি তৈরি করা দরকার। যে বন্ধুত্ব আপনাকে মানসিক শান্তি দেয় না, সেই বন্ধু যেন আপনার ব্যক্তিগত পরিসরে না ঢোকে, তাও খেয়াল রাখতে হবে। তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে দূরত্ব তৈরি করুন। কারণ কিছু ক্ষেত্রে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের কথাও ভাবা উচিত।

বন্ধুত্ব মানে আপনি সব সময়ে তাঁর জন্য মানসিক ভাবে উপস্থিত থাকবেন, তা-ও নয়। পাশাপাশি যে কোনও সম্পর্কে স্পেস দেওয়া দরকার। যদি বন্ধুত্ব আপনার মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তা হলে সেই বন্ধুর থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখুন। নিজেকে অগ্রাধিকার দেওয়াটা স্বার্থপরতা নয়।

বর্তমান সময়ে বিশেষ করে Gen Z-দের মধ্যে ‘ইমোশনাল বার্নআউট’-এর সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। কারণ তাঁরা সম্পর্কের মধ্যে গভীর আবেগ খোঁজেন। কিন্তু সেই আবেগের ভার সামলানোর মতো মানসিক ক্ষমতা সব সময় থাকে না। ফলে অনেক সময় বন্ধুত্বও অজান্তেই মানসিক ক্লান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিজের আবেগের দায়িত্ব যেমন নিতে হবে, তেমনই অন্যের আবেগের ভার বহনের ক্ষেত্রেও সীমা টানা জরুরি।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর