ঢাকা, ০৪ জুন বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
good-food

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:১৬ ৪ জুন ২০২৬  

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার তারিখ আগামী ৭ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের যুক্ততর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই তারিখ নির্ধারণ করেন। 

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে আসামিদের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক গ্রহণ করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু প্রথমে যুক্তিতর্ক শুনানি করেন। পরে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন।

সাক্ষীদের সাক্ষ্য, আলামত ও তথ্য দুই আসামির বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রামণিত হয়েছে বলে যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ন্যায়বিচারের স্বার্থে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি। তবে ন্যায়বিচারের দাবি করেন রাষ্ট্র নিয়োজিত আসামিপক্ষের আইনজীবী। 

এদিন সকালে আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এরপর তাদের ঢাকা মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়।

বেলা ১১টা ২১ মিনিটে সোহেলকে এবং ১১টা ৪০ মিনিটে স্বপ্নাকে এজলাসে তোলা হয়। এরপর পৌনে ১২টায় বিচারক এজলাসে উঠলে যুক্তিতর্ক শুরু হয়।

গত ৩ জুন এই মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল। অপর আসামি স্বপ্না নিজেকে বাঁচাতে নির্দোষ দাবি করেন।

ওই দিন মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

গত ২৪ মে প্রসিকিউশন বিভাগে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তা উপস্থাপন করা হয়। এরপর চার্জশিট আমলে নিয়ে বিচারের জন্য ঢাকা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন তিনি।

একই দিনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা (৮) পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে তাকে কৌশলে স্বপ্না নিজের ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যান। 

ওই দিন বেলা সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান পরিবারের লোকজন। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে তার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। 

স্বপ্নাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী সোহেল (৩০) রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছেন। 

এ ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানো হয়।