ঢাকা, ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food

ফলমাছির আক্রমণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম উৎপাদনে বড় ধাক্কা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:১৮ ২৩ জুলাই ২০২৬  

রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগানগুলোয় টানা বৃষ্টির কারণে ফলমাছির (ফ্রুট ফ্লাই) আক্রমণ মারাত্মক বেড়ে গেছে। এতে করে ভরা মৌসুমে ফজলির মতো শেষ ভাগের আম চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় আমচাষীদের বিপুল লোকসান গুনতে হচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত ফ্রেশপ্লাজাডট কমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলার বিভিন্ন বাগানমালিক ও ইজারাদারদের তথ্যমতে, ফল মাছির আক্রমণে বিপুল পরিমাণ আম নষ্ট হওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন বাগানে দেখা গেছে, মাছির কারণে অনেক আম গাছেই নষ্ট হয়ে রয়েছে। এরমধ্যে ঘোড়াস্ট্যান্ড এলাকার একটি ১৩ দশমিক ৪ হেক্টরের ফজলি আমবাগানে দেখা গেছে, গাছে থাকা আম নষ্ট হয়ে রয়েছে। অনেক আম নষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। বাগানটির ইজারাদার আবদুল আউয়াল জানান, টানা বৃষ্টির পর ফল মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, “ফলমাছি আমের গায়ে বসে খোসায় ছিদ্র করে। পরে ওই স্থান থেকে পচন শুরু হয় এবং একসময় আম বিক্রির অযোগ্য হয়ে পড়ে।”

আবদুল আউয়াল জানান, তিনি প্রায় ৪০ হাজার কেজি ফজলি আম সংগ্রহের আশা করেছিলেন। কিন্তু ফলমাছির আক্রমণের কারণে শেষ পর্যন্ত বাজারজাত করার উপযোগী আম পান মাত্র প্রায় ৮ হাজার কেজি।

জেলার আরও কয়েকজন আমচাষি একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। প্রথমবারের মতো একটি আমবাগান ইজারা নেওয়া মো. শফিকুল বলেন, বৃষ্টির পরপরই ফল মাছির আক্রমণ শুরু হয় এবং অনেক আম নষ্ট হয়ে যায়।

আরেক বাগানমালিক আহসান হাবিব বলেন, জুন মাসের পর যেসব জাতের আম পাকে এর সবই সেগুলো প্রায় সবই বর্ষা শুরু হলে ফল মাছির আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, “শুধু ফজলি নয়, জুনের পর পরিপক্ব হওয়া সব জাতের আমই বৃষ্টি শুরু হলে ফল মাছির আক্রমণের শিকার হয়।”

এ বছর তিনি প্রায় ২০ হাজার কেজি আম উৎপাদনের আশা করেছিলেন। কিন্তু মোট উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশ ফল ফলমাছির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও কিছু আমে ব্যাগিং (ফল ঢেকে রাখা) পদ্ধতি ব্যবহার করায় সেগুলো রক্ষা করা গেছে। 

এদিকে কানসাট আমবাজারে বর্তমানে প্রতি ৪০ কেজি ফজলি আম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ফল মাছিতে আক্রান্ত আম বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আবদুল হালিম বলেন, বছরের এ সময়ে প্রতি বছরই ফলমাছির আক্রমণ দেখা যায়।

তিনি বলেন, “আম রক্ষায় ব্যাগিংই কার্যকর সমাধান। ধীরে ধীরে আরও বেশি চাষিকে এই পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। এতে যেমন ফলমাছিসহ অন্যান্য পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে আম সুরক্ষিত থাকে, তেমনি ফলের বাহ্যিক সৌন্দর্যও বাড়ে।”

এছাড়া ফলমাছির বংশবিস্তার কমাতে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারেরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এ বছর জেলার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার টন। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।