ঢাকা, ১২ আগস্ট বুধবার, ২০২০ || ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭
good-food
৫০

এক প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণে মারা যান মহাবীর আলেকজান্ডার! 

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:১২ ২১ জুলাই ২০২০  

দিগ্বিজয়ী বীর আলেকজান্ডারের মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা মিথ রয়েছে। কথিত আছে, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, স্পন্ডিলাইটিস, মেনিনজাইটিস কিংবা প্যাংক্রিয়াটাইটিস থেকে খাদ্যনালীর আলসারে মারা গেছেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এক গবেষক দাবি করেছেন, পশ্চিম নীলনদ অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা এক ভয়ংকর ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুবরণ করেন গ্রিক মহাবীর।
আধুনিক যুগে আলেকজান্ডারের মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রথম গবেষণা করেন নিউজিল্যান্ডের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল পয়জনস সেন্টারের গবেষক লিও শেপ। প্রায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে গবেষণার পর তিনি তার সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে আনেন। 
লিও জানান, আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পিছনে ছিল একটি লতানে উদ্ভিদ, হোয়াইট হেলিবোর (ভেরাট্রাম অ্যালবাম)। প্রাচীন গ্রিসে আয়ুর্বেদিক ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হতো এ বিষাক্ত লতাটি। 
তার মতে, সেই লতাকে পচিয়ে তৈরি করা হয় তীব্র বিষ। কটু স্বাদের ওই বিষ আলেকজান্ডারের মিষ্টি সুরার পাত্রে মিশিয়ে দেন তার ঘনিষ্ট মানুষদের কেউ। বিষ মেশানো সুরা পান করে মারা যান তিনি। 
তবে সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য তত্বটি প্রকাশ করেন নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওটাগোর সিনিয়র লেকচারার ড. ক্যাথেরিন হল। মৃত্যুশয্যায় থাকা রোগীদের নিয়ে বহুদিন ধরে গবেষণা করে আসছেন তিনি। 
ইতিহাস বলছে, মৃত্যুর ৬ দিন পরও আলেকজান্ডারের শরীরে পচন ধরেনি। এ তথ্যটি নিয়েই গবেষণা শুরু করেন ক্যাথেরিন। কিছুদিন আগে ‘দ্য অ্যানসেন্ট হিস্ট্রি’ পত্রিকায় তার গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়। তাতে চাঞ্চল্যকর দাবি করেন তিনি।
ক্যাথেরিন গবেষণায় দেখেন, মৃত্যুর আগে আলেকজান্ডার প্রচণ্ড জ্বর ও তলপেটের অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগেন। সাম্রাজ্য বিস্তার সেরে ব্যাবিলনে ফেরার পথে তার শরীরে কোনোভাবে ‘ক্যাম্পিলোব্যাকটর পাইলোরি’ নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে। তাই গিলান বারে সিনড্রোম  নামে একটি অসুখের শিকার হন তিনি। এটি একটি বিরল ও মারাত্মক স্নায়বিক অসুখ। যে অসুখ সম্রাটের স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থ কোষগুলোকে আক্রমণ করে। এ অসুখেই মৃত্যু হয় আলেকজান্ডারের।
মৃত্যুর ৬ দিন পরও আলেকজান্ডারের দেহে পচন ধরেনি কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে ক্যাথেরিন তুলে ধরেন সেই দাবি। স্বভাবতই তা শুনে শোরগোল পড়ে যায় বিশ্বের সব ইতিহাসবিদের মধ্যে।
কিউই গবেষক বিবৃতি দেন, মৃত্যুর ৬ দিন পরও আলেকজান্ডারের দেহে পচন ধরেনি। কারণ, তখনও তিনি বেঁচে ছিলেন। তার সমস্ত শরীরে পক্ষাঘাত হয়। কিন্তু মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সজ্ঞানে ছিলেন। আলেকজান্ডারের সারা দেহে পক্ষাঘাত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজও ক্রমশ কমতে শুরু করে। ফলে, কমতে শুরু করে শরীরে অক্সিজেনের প্রয়োজনও। তাই শ্বাস-প্রশ্বাস চলে অস্বাভাবিক ধীর-লয়ে। বুকের ওঠা-নামা প্রায় বোঝা যাচ্ছিল না।
প্রাচীনকালের চিকিৎসকেরা রোগী জীবিত না মৃত তা বুঝতেন তার শ্বাস-প্রশ্বাস দেখে। রোগীর নাড়ি দেখা তখনও শুরু হয়নি। ফলে মৃত্যুর আগেই আলেকজান্ডারকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত সবাই তাকে মৃত মনে করলেও তখনও মারা যাননি। তার মৃত্যু ঘোষণার ৬ দিন পর মৃত্যুবরণ করেন। এসময় জীবিত থাকায় জগদ্বিখ্যাত যোদ্ধার শরীরে পচন ধরেনি। 
গ্রিকদের কাছে আলেকজান্ডার কোনও সাধারণ মানুষ ছিলেন না। তাকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি ভাবতেন তারা। ব্যাবিলনের মানুষরা ভাবেন ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী। দৈব ক্ষমতাবলে সমাধির আগে নিজের মরদেহের পচন হতে দেননি।