ঢাকা, ০৮ জুলাই বুধবার, ২০২০ || ২৩ আষাঢ় ১৪২৭
good-food
২১৭

কবি-স্থপতি রবিউল হুসাইন আর নেই

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১০:৩৫ ২৬ নভেম্বর ২০১৯  

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন আর নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী জানান, ৭৬ বছর বয়সী রবিউল হুসাইন রক্তের জটিলতায় ভুগছিলেন। দুই সপ্তাহ ধরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে গেল সোমবার তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। 
রবিউল হুসাইন ১৯৪৩ সালে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় জন্মগ্রহণ করেন। ইস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজিতে (বর্তমান বুয়েট) আর্কিটেকচার ফ্যাকাল্টিতে পড়ালেখা করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি নিয়মিত লেখালেখি করতেন।
তিনি একাধারে স্থপতি, কবি, শিল্প-সমালোচক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক ও সংস্কৃতিকর্মী।

ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৮ সালে একুশে পদক পান তিনি।

ছাত্রজীবনেই তার বেশ কিছু লেখা প্রকাশিত হয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস মিলিয়ে দুই ডজনের বেশি বই রয়েছে তার।

স্থপতি রবিউলের ঝোঁক ছিল ইটের কাজের দিকে। তার নকশায় বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ কাউন্সিল (বিএআরসি) ভবনটি ছিল তার প্রিয় একটি কাজ। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তি ও স্বাধীনতা তোরণ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইট, ভাসানি হল, বঙ্গবন্ধু হল, শেখ হাসিনা হল, খালেদা জিয়া হল, ওয়াজেদ মিয়া সায়েন্স কমপ্লেক্স, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়াম ও একাডেমিক ভবন কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে রবিউল হুসাইনের নকশায়।

বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য রবিউল শিশু কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় কচি কাচার মেলা, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ক্রিটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটেও বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি কাজ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের জন্যও। রবিউল হুসাইন ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্রের ট্রাস্টি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য।

জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যও ছিলেন গুণী এ মানুষটি।