ঢাকা, ২৬ জুন বুধবার, ২০১৯ || ১৩ আষাঢ় ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৬০

টাকার অভাবে হয়নি পড়া

খবরের কাগজ বেচে জীবন চলে কবিরের

প্রকাশিত: ২১:৪২ ২৯ মে ২০১৯  


‘স্যার আইজগো সব পেপার বেচতে পারলে দিনটা ভালোভাবে কাটাইতে পারমু। বেশি কিছু খাইতে পারমু, বিকালে ফুচকা খাইতে পারমু, দিনটা ভালোভাবে কাটামু।’ আবেক আল্পুত হয়ে এ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনার বেতাগী পৌরশহরের জাতীয় দৈনিক ও আঞ্চলিক খবরের কাগজ বিক্রেতা মো. কবির আকন।

বিভিন্ন ধরনের খবরের কাগজ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন কবির আকন। 

বয়স ২২। খবরের কাগজ বিক্রি করতে পারলেই দিনটা ভালোভাবে কেটে যায় তার। সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলেন। তার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে অনেকে পেপার কিনে নেন। বাসস্ট্যান্ডের আবুল সিকদার বলেন, কবিরের হাসিমুখে বলে আজ একটা পেপার কিনেন ভালো খবর আছে, টাটকা খবর, কিনলেই পাইবেন, না কিনলে কিছু পাইবেন না। পরে কিন্তু মোরেও পাইবেন না, আর খবরো পাইবেন না। এসব কথা যখন ওর মিষ্টতা মুখ দিয়ে বলে থাকে, তখন বাধ্য হয়ে একটা কাগজ কিনি।

বুধবার দুপুরে বাসস্ট্যান্ডে খবরের কাগজ বিক্রির সময় কবিরের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেতাগী উপজেলার ২ নং সদর ইউনিয়নের ভোলানাথপুর গ্রামে ১৯৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মাত্র ৫ বছর বয়সে মা দেলোয়ারা বেগম মারা যায়। মায়ের মৃত্যুর কিছুদিন পরে বাবা  আব্দুল লতিফ আকন দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পড়ালেখার জন্য বেতাগী উপজেলার রহমতপুর ফাজিল মাদরাসায় ভর্তি করানো হয় তাকে। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার সুযোগ ঘটে। অভাব অনটনের কারণে আর মা না থাকায় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বেশ কয়েকটি চায়ের দোকানে কাজ করেন তিনি। বিভিন্ন চায়ের দোকানে বয় হিসেবে ৯ বছর কাজ করেন। গত এক বছর যাবৎ খবরের কাগজ বিক্রির কাজ করছেন। জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ইত্তেফাক, যুগান্তর, প্রথম আলো, মানবজমিন, ইনকিলাব, সংবাদ, ভোরের কাগজ, আমাদের কণ্ঠ, বাংলাদেশের খবর, জনতা এবং বরিশাল বিভাগ থেকে প্রকাশিত আঞ্চলিক আজকের কাগজ, পরিবর্তন, ভোরের অঙ্গীকার এবং চাকরি খবরসহ সর্বমোট ১৮০ থেকে ২০০ কপি পত্রিকা বিক্রি করেন তিনি।

কবির বলেন, পেপার বিক্রি করে আমার চলতে কষ্ট হয়। তবে যেদিন আমি সবগুলো পেপার বিক্রি করতে পারি, সেদিন আমি ভালোভাবে চলতে পারি। ভালো কিছু খেতে পারি।

কবির আরো জানায়, আমার সৎ মা আমার কাছে কোনো সময় কিছু চায় না। তবে আমাকে খুব ভালোবাসে এবং মাকে মাঝে মধ্যে কিছু টাকা দিয়ে থাকি।