ঢাকা, ২৫ আগস্ট রোববার, ২০১৯ || ৯ ভাদ্র ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৩৭২

জেনে নিন ভ্রমণের দরকারি টিপস

প্রকাশিত: ১১:১৩ ২০ জানুয়ারি ২০১৯  


সারা বছরই বেড়ানোর জন্যে উপযুক্ত থাকলেও আমরা সাধারণত শীতকালেই ভ্রমণ করতে বেশি পছন্দ করি। শীতের মধ্যে স্কুল-কলেজ কিছুটা বন্ধ থাকে। তাই কিছুদিন একটা ছুটির আমেজ থাকে। আর ভ্রমণের জন্যেও শীতের আবহাওয়া বেশ উপযোগী। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্টাডি ট্যুরের জন্যে এই সময়টাই বেছে নেয়। বিনোদন ও মানসিক প্রশান্তির জন্যে কর্মস্থল থেকে সবাই মিলে শীতে পিকনিক করা খুব সাধারণ ব্যপার হয়ে গেছে। শীত এলেই পরিবার পরিজন নিয়ে দেশে নাকি বিদেশে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়, শুরু হয়ে যায় নানা পরিকল্পনা।

এই শীতে কোথায় ঘুরতে যাওয় যায় তা নিয়ে অনেকেই অনেক রকম ভ্রমণ পরিকল্পনা করছেন। কোথায় ভ্রমণ করবেন তার চেয়েও গুরুত্বপূর্র্ণ বিষয় হলো ভ্রমণ প্রস্তুতি। ঘুরতে যাবার আগে ভালো প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে ভ্রমণ কতটা আনন্দময় হবে। ভ্রমণ পূর্ববর্তী প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে ভ্রমণের সময় কি কি বিষয় আগে থেকে জানা দরকার, তা নিয়েও ভাবতে হবে। এই শীতে ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করতে থাকছে শীতে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে টিপস ও কিছু কৌশল। সেই সঙ্গে ভ্রমণ প্রস্তুতিকে আরও নিখুঁত করতে ভ্রমণ বিয়ষক কিছু গুরুত্বপূর্র্ণ মৌলিক প্রস্তুতির কথা।

 

কোথায় যাবেন ?

বেড়াতে যাওয়ার আগের প্রথমেই ভাবতে হয় কোথায় যাওয়া যায়? যেহেতু শীতে যাচ্ছেন, তাহলে আরও ভাবতে হবে শীতকালের জন্যে ভ্রমণের কোন জায়গাগুলো উপযোগী। কোথায় যাবেন এই সিদ্ধান্ত নিতে হলে যে জিনিসগুলো মাথায় রাখতে হবে তা হলো, কতদিনের জন্যে বেড়াতে যাবেন, আপনার বাজেট কত, সাগর, পাহাড়, বন, হাওর, নদী ঠিক কোন জায়গা আপনার বেশি পছন্দ, সঙ্গে কাদের নিয়ে যাবেন, যেখানে যাবেন সেখানকার সুযোগ সুবিধা কেমন। এই বিষয়গুলো চিন্তা করলেই আপনি পেয়ে যাবেন কোথায় যাওয়া উচিত।

কিভাবে যাবেন ?

ভ্রমণের পরিবহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি বাস-লঞ্চ-ট্রেন-প্লেন-প্রাইভেট কার, কোনটায় যাবেন, এটা নির্বাচন করা জরুরি। যানজট এড়াতে স্থলপথ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এক্ষেত্রে ট্রেন প্রথম পছন্দ হতে পারে। আর সামর্থবান যারা, তাদের জন্য যদি উড়োজাহাজ। তবে যে পরিবহণই আপনি ব্যবহার করেন না কেন, সব থেকে বেশি যে বিষয়টা লক্ষ্য রাখবেন, তা হল আপনার জীবনের নিরাপত্তা, আপনার সুরক্ষা।

 

কোথায় থাকবেন ?

বেড়াতে গেলে কোথায় থাকবেন তার ওপর আপনার ভ্রমণের অনেক আনন্দ নির্ভর করে। আপনার বাজেট, আপনার ভ্রমণ সঙ্গী কতজন, কেমন পরিবেশে থাকতে চান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন এই বিষয়গুলো ভেবেই কোথায় থাকবেন তার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেখানেই যান না কেন অবশ্যই ভ্রমণকালীন আবাস আগে থেকে ঠিক করে যাওয়াই শ্রেয়। যদি আগে থেকে সম্ভব না হয় তাহলে ভালোমতো খোঁজ খবর নিয়ে যাওয়া উচিত। ছুটির দিনগুলোতে ভিড় বেশি থাকে, হোটেল-মোটেলের ভাড়া বেশি হয়, এই বিষয়টা অবশ্যই মাথায় রাখবেন। যদি সম্ভব হয় ছুটির দিনগুলো এড়িয়ে গেলে অনেক কিছুতেই খরচ কমে যাবে।

খোঁজ খবর

যেহেতু ঘুরতে গেলে হাতে বেশি সময় থাকে না তাই যেখানে যাবেন ঠিক করেছেন, তার আশপাশে কি দেখার আছে, কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবেন, কবে কখন কি করবেন তা আগেই খোঁজ খবর নিয়ে একটা তালিকা করে ফেলুন। এতে আপনার সময় বাঁচবে যেমন, তেমনি ঐখানের ভ্রমণ স্থানগুলো দেখতে পারবেন ভালো করে। সেখানকার আবহাওয়া ও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খরব নিয়ে যাবেন, পাশাপাশি সেখানকার জরুরি ফোন নাম্বার এবং লোকেশন সম্পর্কে তথ্য আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখুন।

যেমন - নিকটস্থ থানা (পুলিশ), টুরিস্ট পুলিশের হেল্প ডেক্স নাম্বার, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, আবাসিক হোটেল, ব্যাংক ইত্যাদি।

যদি ওই এলাকার স্থানীয় কোনো পরিচিত কেউ থাকে তাহলে তার বা রেফারেন্স এর ফোন নাম্বার নেবেন। চেষ্টা করুন সেখানকার স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ফলে পরিবেশটি সম্বন্ধে অনেক কিছু জেনে নিতে পারবেন। এসব খোঁজ খবর আগে থেকেই করে রাখলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যায়।

ব্যাগ গুছানো

সঙ্গে কি কি নেবেন তা নির্ভর করবে আপনি কোথায় বেড়াতে যাচ্ছেন, কতদিন থাকবেন তার ওপর। যেমন পাহাড়ে বেড়াতে গেলে অবশ্যই ব্যাগের ওজন যত কম রাখা সম্ভব তার দিকে মন দিতে হবে।

তবে যেখানেই যান না কেন ব্যাগ ভর্তি জিনিস না নিয়ে দেখেশুনে দরকারি জিনিস নেওয়াই উত্তম। একটা ভারি ব্যাগপ্যাক আপনার ভ্রমণ আনন্দ মাটি করে দিতে পারে। তাই ব্যাগ গোছানোর সময় ভেবে দেখুন আপনার একান্ত কি কি জামাকাপড় লাগতে পারে? সেগুলোর বাইরে সর্বাধিক একটি কিংবা দুটি জামা বেশি নিতে পারেন। টুথপেষ্ট, ব্রাশ, আন্ডারওয়ার, গামছা বা তোয়ালে, ক্যাপ, জুতো, বেল্ট ইত্যাদি ছাড়াও অানুসাঙ্গিক আর কি কি দরকার হতে পারে তার একটা তালিকা করুন। লিস্ট ধরে ঠিক চিহ্ন দিয়ে একটা একটা জিনিস ব্যাগে ঢুকান, এতে করে দরকারি কোন কিছু ভুলে ফেলে যাবেন না। তবে যাই লাগেজে ঢোকান না কেন একটা জিনিস মনে রাখবেন, এই লাগেজ কিন্তু আপনাকেই বহন করতে হবে। প্রয়োজনীয় জামাকাপড়, জুতা, কসমেটিকস আলাদা করে প্যাক করুন, যাতে স্থান সঙ্কুলান হয় আবার জিনিসপত্র এলোমেলো হবে না।

ভ্রমণের পোশাক

শীতকালে গাঢ় রঙের মোটা তাপনিরোধক কাপড়ের তৈরি জামা পরিধান করুন। তবে খেয়াল রাখবেন শীতের কাপড়ের ওজন যত সম্ভব যেন কম হয়। তা না হলে আপনার ব্যাকপ্যাক ভারি হবে শীতের পোশাকে। ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্যে সঙ্গে করে মাফলার, মোজা, গ্লাভস, হুড সহ কাপড় পরিধান করতে পারেন।

জামার রং অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আমরা ভ্রমণে বের হবার সময় লক্ষ্য রাখা উচিত। উজ্জ্বল রঙের কাপড়ে ছবি সুন্দর হয়। তবে পাহাড় বা বনাঞ্চলে ভ্রমণের সময় অবশ্যই উজ্জ্বল কোন রঙের জামা পরিধান করা উচিত নয়। প্রচুর হাঁটতে হবে এমন ট্যুরে সাদা রঙের জামাই শ্রেয়।

আরও কিছু টিপসঃ

  • রোদ থেকে বাঁচার জন্যে কাপড়ের টুপি বা ক্যাপ সঙ্গে নেবেন। রোদচশমা খুব ভালো কাজে দিবে।
  • ভ্রমণের সময় আঁটসাঁট জামা পরা উচিত নয়, যতটা ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা যায় ততই ভাল।
  • ভ্রমণের পোশাক অবশ্যই এমন হতে হবে যেন তাপনিরোধক হয়, দ্রুত পানি শুকিয়ে যায়, ক্ষতিকর রশ্মি নিরোধক হয়।
  • ভ্রমণের স্থান, পরিবেশ এবং সংস্কৃতি মাথায় রাখা উচিত পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে।
  • শিশুদের পোশাক, জুতা আলাদা ব্যাগে নিতে পারেন।
  • জুতার ব্যাপারে বাড়তি মনোযোগ দিন। আরামদায়ক কেডস হলে ভালো হয়। মেয়েরা হিল জুতা ব্যবহার না করলেই ভালো।
  • গোসলের বাড়তি পোশাক নেবেন যদি নদী, ঝর্ণা বা সাগরে যান।

 

দরকারি ডিভাইস

বেড়াতে যাবার আগে দেখে নিন আপনার দরকারি ডিভাইসগুলো নেয়া হয়েছে কিনা। আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চেকলিস্টের সাথে মিলিয়ে নিন। মোবাইল ফোন ছাড়া বর্তমানে জীবন কল্পনা করা যায় না তাই শহর থেকে দূরে গেলেও সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে মোবাইল ফোন নিয়ে নিন। রওনা দেবার আগে পুরো চার্জ দিয়ে নিন। ফোনের চার্জার নিতে ভুলবেন না। আপনার বেড়ানোর সুন্দর স্মৃতিগুলো ধরে রাখার জন্যে চেষ্টা করবেন একটা ভালো ক্যামেরা সঙ্গে নিতে। আর অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন ক্যামেরার ব্যাটারির চার্জ ফুল থাকে। নিতে পারেন এক্সট্রা ব্যাটারি।

রাখতে পারেন টর্চ লাইট ও এক্সট্র ব্যাটারি, যে কোন সময় দরকার হতে পারে আপনার জন্যে।

আজকাল স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় সমস্যা চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া, তাই পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে গেলে আপনার অনেক কাজে লাগবে।

সময় আর সুযোগ পেলেই ডিভাইসগুলো ফুলচার্জ করে নিতে ভুলবেন না।

যদি পাহাড়, সমুদ্র কিংবা হাওড়ে যান তাহলে রাখতে পারেন বাইনোকুলার।

সম্ভব হলে একটি থ্রি পিন ফ্লাগ ও কনভার্টার নিয়ে নিতে পারেন।

রোগবালাই ওষুধ

শীতে সর্দি-জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি, নাকের প্রদাহ, চোখ ওঠা, ডায়রিয়া, আমাশয়, নিউমোনিয়া প্রভৃতি রোগ হয়ে থাকে। সম্ভব হলে প্রয়োজন মত ওষুধ রাখুন। জ্বর, পেট খারাপ, অ্যাসিডিটি, বমি, মাথা ধরার ওষুধ নিয়ে নিন। আরো নিন ব্যান্ড এইড, অ্যান্টিসেপটিক, পরিমাণমতো তুলো ও গজ। এগুলো সঙ্গে থাকলে অনেক বড় বিপদ থেকেও রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সঙ্গে নেওয়া এসব ওষুধপত্রের একটি তালিকা আগেভাগেই তৈরি করে রাখতে পারেন। প্রেশার, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে নিয়ে নিন।

এই শীতে ভ্রমণের সময় ত্বক ও হাত-পা, চুলের বিশেষ যত্নও নেয়া দরকার। সানপ্রোটেক্ট লোশন ও ক্রিম সূর্যের আলোতে বের হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে ব্যবহার করুন। ভ্রমণে যদি প্রচণ্ড গরম অনুভব হয় তবে প্রচুর পরিমাণ পরিষ্কার বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। বাচ্চাদের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

ভ্রমণে যে ভুলগুলো হয়ে থাকে :

টাকা পয়সা

ভ্রমণে কত টাকা খরচ করবেন, সে ব্যাপারটি আগে থেকেই হিসেব করে ঠিক করে নিন। তারপর বাজেট অনুসারে খরচ করুন। পর্যাপ্ত টাকা পয়সা নিয়ে যাওয়া ভালো, একটা আনুমানিক তালিকা করে ধারণাকৃত অংক থেকে ৩০ শেকে ৪০ শতাংশ বেশি প্রস্তুতি থাকা ভালো। টাকা বহনে ভালো না লাগলে সাবধানতার সঙ্গে কার্ড বহন করতে পারেন। মোবাইল ফোনে টাকা লেনদেন করা যায় এমন কোন একাউন্ট থাকলেও খুব কাজে লাগবে। বিভিন্নভাবে ভাংতি টাকার ব্যবস্থা রাখবেন সবসময়। ছোট একটা বিষয় অনেক সময় আমাদেরকে বিপদে ফেলে দিতে পারে। মোবাইলে ব্যালেন্সও বেশি করে নিয়ে নেবেন।

 

ভ্রমণের খাদ্য

টুরিস্ট রেস্টুরেন্টগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। যেখানে বেড়াতে গেছেন সেখানে আশপাশে ঘুরে, লোকাল বসবাসকারীরা যেখানে খান সেখানে খাওয়া-দাওয়া সারবেন। খরচটা কমবে উল্লেখযোগ্যভাবে। ভ্রমণের খাবার-দাবারের ব্যাপারে প্রথমে যে জিনিসটি মাথায় রাখা উচিত তা হল হাইজেনিক ফ্যাক্টর। আপনি যে খাবারটি খাচ্ছেন তা স্বাস্থ্যসম্মত কি না তা যাচাই করে নেয়া উচিত।

খাওয়া দাওয়া নিয়ে কিছু টিপসঃ

সঙ্গে করে সবসময় কিছু শুকনো খাবার সাথে রাখতে পারেন।

স্থানীয় কোন ঐতিহ্যবাহী খাবার থাকলে তা খেয়ে দেখতে পারেন।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোড়কজাত খাবার কেনার বেলায় এক্সপায়ার ডেটের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবেন এবং সঙ্গে অবশ্যই মেনুফেচার।

ভ্রমণে একবারে বেশি করে খাবার না গ্রহণ করাই উচিত। কারণ পুরো ভুঁড়িভোজন শরীরে আলস্য নিয়ে আসে, যা ভ্রমণে একান্তই কাম্য নয়।

সকালের নাস্তায় আঁশযুক্ত এবং শর্করাসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। সঙ্গে লো-ফ্যাট দধি, ফলজাতীয় খাবার, সিদ্ধ ডিম, চা-কফি থাকতে পারে।

লাঞ্চে আমরা ভারী খাবার খেতে অভ্যস্ত। তাই খাবার হওয়া উচিত কম মশলাদার, তেল পরিমিত রান্না করা, সহজে পরিপাক হয় এমন। এক্ষেত্রে ভাজা-পোড়া মেন্যু পরিহার করাই শ্রেয়।

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে দেহকে রিচার্জ করতে রাতের খাবার হওয়া উচিত উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং সহজপাচ্য।

ভ্রমণের খাবারে ফাস্টফুড আইটেম, বেভারেজ, ফ্লেভারড জুস, চিপস ইত্যাদি পরিহার করুন। এইসবের পরিবর্তে দেশীয় ফল খেতে পারেন।

খাবারের তালিকায় বেশি তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে স্বাভাবিক খাবার রাখুন।

সবসময় সঙ্গে রাখুন

  • পানির বোতল রাখুন। রেস্টুরেন্ট বা হোটেল থেকে এই বোতলে পানি রিফিল করে নিন।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের এক কপি অবশ্যই সাথে রাখবেন সবসময়।
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট এবং এমনকি ক্রেডিট কার্ডের মত গুরুত্বপূর্ণ কাগজের ফটোকপি করে সঙ্গে রাখুন।
  • প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কিছু টাকা সাথে রাখুন।

আরও কিছু টিপস

  • কখন কোনে হোটেল থাকছেন বাড়ির লোকদের জানিয়ে দেবেন, জানিয়ে রাখবেন তাদের ফোন নাম্বারটাও। ভ্রমনণর সময় গাড়ির নাম্বারটাও সেভ করে রাখবেন এবং পরিচিত কাউকে জানিয়ে রাখতে পারেন। রাখতে পারেন ফেসবুক পোস্টেও।
  • যেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন সেখানকার জরুরি ফোন নাম্বার এবং লোকেশন সম্পর্কে তথ্য আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখুন।
  • ট্যুরে সব যে সুষ্ঠু-সুন্দর হবে- এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। না চাইলেও সামনে পড়তে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত নানা ঝামেলা। সেগুলো কীভাবে সামলাবেন, তার প্রাথমিক প্রস্তুতি আগে থেকে নিয়ে রাখাই ভালো।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে নিতে ভুলবেন না, অনেক হোটেলে এনআইডি কপি ছাড়া রুম দেয়া হয়না। অবশ্যই একাধিক করি রাখবেন।
  • ট্যুরে সারাদিন কি করবেন তার একটি প্ল্যান করুন। তাতে সারাদিনে সময় কিছু বাঁচবেই, সব রকম পরিস্থিতির জন্যও আপনি মোটামুটি প্রস্তুত থাকবেন।
  • যদি আপনি ভ্রমনের খরচটা বাঁচানোর সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে চান, তাহলে ভ্রমণকারী গ্রুপে বা বন্ধুরা দলবদ্ধ হয়ে ভ্রমণে যেতে পারেন।
  • কোথায় গাড়ি পার্ক করছেন এ ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকুন, কেননা চোরেরা টুরিস্টের গাড়ি বুঝতে পারলে চুরি হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
  • বেড়াতে যাওয়ার আগে জায়গাটি সম্পর্কে খোঁজ নিন। থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন তাও জেনে নিন।
  • নিজের গাড়ি নিয়ে দূরে যেতে হলে, কোনো সমস্যা আছে কিনা আগে চেক করুন। এক্সট্রা চাকা অবশ্যই গাড়িতে রাখবেন।
  • ভাবছেন শীতকালে ঠান্ডা, তাই সানস্ক্রিন দরকার নেই? ভুল! শীতের রোদেও আমাদের ত্বকের সমান ক্ষতি হয়। সানস্ক্রিন শীতেও নিতে হবে।
  • বাড়তি ব্যাগ আর জুতাও নিয়ে নিন।
  • একদম ভ্রমণ মৌসুমে না গিয়ে একটু কম টুরিস্টের সমাগম হয় এমন সময়ে ভ্রমণে যান। বছর শেষের শীতের বন্ধের সময়টি ভ্রমণের সবথেকে উপযুক্ত মৌসুম বলে বিবেচনা করা হয়। একদম এ সময় না গিয়ে এর কাছাকাছি কোন সময়ে যেতে পারেন।
  • বাড়ি খালি রেখে গেলে অবশ্যই নিজ দায়িত্বে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেবেন।
  • বেড়াতে যাওয়ার আগে ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ভালোভাবে পড়ুন। যেখানে যাবেন, সেই জায়গা সম্বন্ধে খোঁজখবর নিন। সেখানকার আবহাওয়া সম্পর্কে জেনে নিন। থাকার হোটেল বা রিসোর্ট নির্বাচন করে আগে থেকে বুকিং দিন।
  • ভ্রমণে যাচ্ছেন এই বিষয়ে ফেসবুক, টুইটার, ব্লগে স্ট্যাটাস দিতে পারেন। এর ফলে সবাইকে শুধু বিষয়টি জানালেই হবে না, ওই এলাকায় আপনার কোনো বন্ধু থাকলে প্রয়োজনে সেও সাহায্য করতে পারবে।
  • ভ্রমণের সময় চাকাযুক্ত ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। এটি বহন করতে সুবিধা হবে এবং কষ্ট কম লাগবে।
  • একটি কাগজে নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে লাগেজের ভেতর সেঁটে রাখুন। যাঁরা ভ্রমণে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেক সদস্যের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ জরুরি তথ্য কাগজে লিখে রাখুন।
  • যে স্থানে ভ্রমণে যাচ্ছেন, প্রয়োজনে সেখানে গাইডের সাহায্য নিন। ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ভ্রমণের সব ব্যবস্থা করলে, আগে আগেই সব খোঁজখবর নিন।
  • ব্যাগ (ট্রাভেল ব্যাগ) মার্কেটে এখন নানা ধরনের কিনতে পাওয়া যায়। আপনার পছন্দ এবং প্রয়োজন অনুসারে ব্যাগ নির্বাচন করুন।

সতর্কতা

  • যে কোনো যানবাহন থেকে নামার সময় কোনো মালপত্র ফেলে গেলেন কি না সেদিকে খেয়াল রাখুন। নামার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না।
  • মানি ব্যাগ, ক্রেডিট কার্ড সাবধানে রাখবেন। সব টাকা মানিব্যাগে না রেখে কিছু টাকা অন্য জায়গায় রাখবেন। একটি কার্ডে আপনার ঠিকানা লিখে রাখবেন। ব্যাগ হারিয়ে গেলে কেউ পেয়ে থাকলে ফের পাবার সম্ভাবনা থাকবে।
  • বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। খোলামেলা স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খাওয়া যাবে না।
  • ডায়রিয়া, বমি হলে স্যালাইন ওয়াটার পান করুন। মাথায় স্কার্ফ ব্যবহার করুন, এতে চুল ও ত্বক রুক্ষ্ম হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
  • পরিমিত খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • সন্ধ্যার পর অথবা বেশি রাত পর্যন্ত হোটেলের বাইরে অবস্থান করবেন না। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমন করতে গেলে । অবশ্যই শিশুদের দিকে লক্ষ্য রাখুন।
  • ভ্রমণের সময় অপরিচিত লোকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

ভ্রমণের সব প্রস্তুতি শেষ, এই শীতে ঘুরে আসুন আপনার পছন্দের জায়গায়। আশা করি আমাদের এই ভ্রমণ প্রস্তুতি আপনার ভ্রমণকে আনন্দময় করে তুলবে। শুভ হোক আপনার ভ্রমণ।