ঢাকা, ২১ জুলাই মঙ্গলবার, ২০২৬ || ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১৮০

প্রতিটি কেন্দ্রে জয়ের রেকর্ড গড়লেন বাবর ও হাসনাত

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:৩৫ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ছিল নানা হিসাব, উত্তাপ আর জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নির্বাচনের মাঠে লড়াই ছিল সমানে সমান। নানা সমীকরণ আর উত্তেজনার পারদ চড়েছিল তুঙ্গে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সের রায় সব জল্পনা কল্পনা হার মানিয়ে তৈরি করেছে এক বিরল নজির। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে জয় পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

নেত্রকোনা ৪ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্র ছিল। নির্বাচনের প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী বাবর ধানের শীষ প্রতীকে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১টি ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০টি ভোট। এই আসনের বিশেষত্ব হলো বাবর তার নির্বাচনী এলাকার ১৫০টি কেন্দ্রের প্রতিটি কেন্দ্রেই জয়ের ধারা বজায় রেখেছেন। কোনো একটি কেন্দ্রেও তার জয়রথ থামেনি। এই বিপুল ভোটের ব্যবধান এবং প্রতিটি কেন্দ্রে আধিপত্য বজায় রাখা বাবরের জনপ্রিয়তার এক নতুন মাপকাঠি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার বা কুমিল্লা ৪ আসন থেকে একইভাবে ইতিহাস তৈরি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আলোচিত নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী এই আসনের ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিতেই হাসনাত আব্দুল্লাহ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৫২৬টি ভোট পেয়ে তার বিজয় নিশ্চিত করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিমুদ্দিন। ট্রাক প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৬৪৪টি ভোট। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম ১১৬টি কেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে হাসনাত আব্দুল্লাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ১১৬টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন। ঘোষণার পরই এলাকাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। কারণ একটি সংসদীয় আসনের সব কেন্দ্রে একই প্রার্থীর জয় সাধারণত দেখা যায় না।

রাজনীতিতে প্রায়ই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। কোথাও ব্যবধান কম থাকে, কোথাও পাল্টাপাল্টি এগিয়ে যায় প্রার্থীরা। কিন্তু এই নির্বাচনে দুই আসনে ভোটের মানচিত্র প্রায় এক রঙা হয়ে গেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একই ফলাফল হওয়ায় বিষয়টি ভোট বিশ্লেষকদের কাছেও বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় ভোটারদের অনেকে বলছেন, এলাকাভিত্তিক শক্ত সংগঠন, দীর্ঘদিনের পরিচিতি এবং প্রচারের ধরন এই ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন ভোটারদের একতরফা ঝোঁকই এমন ফল তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও লুৎফুজ্জামান বাবর নাম লিখিয়েছেন এক অনন্য রেকর্ডে। নির্বাচনী ইতিহাসে সব কেন্দ্রে জয় খুব কমই দেখা যায়। তাই এই ফল এখন রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।