ঢাকা, ২৯ মে শুক্রবার, ২০২০ || ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
good-food
১৫৩

ফের বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ, টেক্কা দিচ্ছে কাঁচামরিচের ঝাল

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:১৯ ২৫ অক্টোবর ২০১৯  

ফের বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২০ টাকা। এখন প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। গত সপ্তাহে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কচুক্ষেত, রামপুরা , মহাখালী, উত্তরা, মগবাজার, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

অবশ্য সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। আর দেশি পেঁয়াজে বেড়েছে ১০ টাকা। সংস্থাটি বলছে, এদিন বাজারগুলোয় আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১৫ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকায়।  টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহে (১৮ অক্টোবর) আগের সপ্তাহের (১১ অক্টোবর) তুলনায় আমদানি করা পেঁয়াজ কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। একইভাবে ওই সপ্তাহেও দেশি পেঁয়াজ কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা।

টিসিবি বলছে, গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯৫ টাকায়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৫ অক্টোবর অর্থাৎ এক বছর আগে খুচরা বাজারে এ পেঁয়াজের দাম ছিল মাত্র ২৫ টাকা। পেঁয়াজের বাজার অচিরেই স্বাভাবিক হবে বলে মনে করেন সংস্থাটির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসলে এমনিতেই বাজার স্বাভাবিক হবে।

পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ চেষ্টা চলছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা মহানগরীর প্রতিদিন ৩৫ জায়গায় ট্রাকে করে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর বাজারগুলোতে শীতের সবজির দাম নতুন করে না বাড়লেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের মূল্য বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে। বৃষ্টি না থামলে দাম আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা তাদের।উত্তরা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী আবদুল জলিল বলেন, আজ ১২০ টাকা কেজি দরে কাঁচামরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে। ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫-২০ টাকা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। শিমের পাশাপাশি কিছুটা দাম কমেছে কপির। ছোট আকারের ফুলকপি মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ টাকায়। বাঁধাকপি বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। প্রতিকেজি করলা, ঝিঙে, পটল, ঢেঁড়শ, ধুন্দুল বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আর বরবটি ও বেগুন বিক্রি হয়েছে আগের সপ্তাহের মতোই ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। পাকা টমেটো আগের সপ্তাহের মতো প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। গাজর বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ১০০ টাকা।

রুই মাছ বিক্রি হয়েছে ২৫০-৩৬০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৬০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ ১২০-১৫০ টাকা, শিং ৪০০-৬০০ টাকা, কাচকি ২৫০-৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৫৫০-৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা, খাসি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১২০-১৪০ টাকা, লেয়ার ১৮০-২০০ টাকা, পাকিস্তানি কক ২৫০-২৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৪-৪০ টাকা হালি। হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা হালি।

অর্থনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর