ঢাকা, ১৮ জুলাই শনিবার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১১৭

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়, কিন্তু তৃষার সঙ্গে জয়ললিতার তুলনা কেন?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:৩৬ ১৪ মে ২০২৬  

অভিনেতা থালাপাতি বিজয় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। আর অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জণ। এসব কথা এখন নতুন কিছু নয়। তবে তৃষা ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন কিনা তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তৃষার মধ্যে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার ছায়াও দেখছেন অনেকে।

খুব অল্প বয়সেই দক্ষিণী সিনেমার মধ্য দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন জয়ললিতা। ষাট ও সত্তরের দশকে তামিল, তেলুগু এবং কন্নড় ছবির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন তিনি। অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ এম.জি রামচন্দ্রনের সঙ্গে তার জুটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এই সম্পর্কই পরবর্তীকালে জয়ললিতার রাজনৈতিক জীবনের দরজা খুলে দেয়। 

এম.জি আর যখন রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন, তখন ধীরে ধীরে তার কাছের বৃত্তে জায়গা করে নেন জয়ললিতা। ১৯৮২ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাভিদা মুনেত্রা কাজগামে’ যোগ দেন তিনি।  এটি ছিলো ভারতের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দলের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন জয়ললিতা। 

 ১৯৯১ সালে প্রথম বার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন জয়ললিতা। একবার দুবার নয় মোট ছয়বার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই মুহুর্তে জয়ললিতার সঙ্গে তৃষার তুলনা কেনো করা হচ্ছে? 

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী থেকে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মুখ হয়ে ওঠার যে পথ জয়ললিতা একসময় পেরিয়েছিলেন, তৃষাকে ঘিরেও নাকি তেমনই সম্ভাবনার ইঙ্গিত উঁকি দিচ্ছে। আর তৃষার একটি পুরনো ভিডিও এই সম্ভাবনাকে আরো জোরালো করেছে। 

পুরোনো এক সাক্ষাৎকারে মজার ছলে তৃষাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, তিনি একদিন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হতে চান। সেই ভিডিও ফের ভাইরাল হয়েছে বিজয়ের নির্বাচনী জয়ের পরে। অনেকে সেটিকে নিছক রসিকতা বললেও, সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ আবার সেই মন্তব্যকে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তৃষার রাজনীতিতে প্রবেশের কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ দেখছেন। 

প্রথমত, দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে তারকাদের প্রভাব বরাবরই প্রবল। এম.জি রামচন্দ্রন, জয়ললিতা থেকে শুরু করে বিজয়ের মতো তারকারা সহজেই রাজনীতির ময়দানে সফল হয়েছেন। সেই একই হিসাবে অভিনেত্রী তৃষার জনপ্রিয়তা রাজনীতির মাঠে বড় সম্পদ হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে তৃষার নাম ক্রমশ বেশি করে জড়িয়ে পড়ছে। বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি, সামাজিক মাধ্যমে তাঁর আবেগঘন পোস্ট— সব কিছু নিয়েই ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিজয় শপথ নেওয়ার পরে তৃষা ফেসবুকে নিজের ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, 'ভালবাসার শব্দ সব সময়ই জোরালো হয়।' তৃষার এই বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। এমনকী অনেকে তাঁকে বিজয়ের 'লেডি লাক'ও বলেছেন। 

তৃতীয়ত, জয়ললিতা ও তৃষা দুজনেরই তারকাখ্যাতি ও জন-আবেগ রয়েছে। তবে জয়ললিতা শুধু জনপ্রিয় অভিনেত্রীই ছিলেন না তিনি খুব ভালো বক্তা ও রাজনৈতিক সংগঠকও ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্ত করেছিলেন তিনি। 

তৃষা এই জায়গায় অনেকটাই পিছিয়ে। তৃষার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা প্রায় শূণ্য। তবে পরিশ্রম করলে তিনিও যে রাজনীতির জমিতে শক্তভাবে দাঁড়াতে পারবেন বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। 

বিনোদন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর