সিএমএইচে ৭২ ঘণ্টা
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ০০:০৪ ১৯ অক্টোবর ২০২৩
১. শেষতক ভর্তি হলাম। রোগী হিসেবে। বরাদ্দকৃত রুমের নাম কীর্তণখোলা। ছবির মতো আঁকানো। এসি মিষ্টি হাওয়া দিচ্ছে। টিভির পরিষ্কার স্ক্রিন,ঝকঝকে ছবি। ছোট্ট রিফ্রিজারেটর। দুগ্ধ ফেননিভ বিছানা। এক টুকরো বারান্দা। আহা ,কী সুন্দর চাঁদ দেখা যাচ্ছে। গাছগুলো অনেক ইতিহাসের সাক্ষী। এই রুমেই বছর পাঁচের আগে কিডনিতে পাথর নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। হিস্ট্রি রিপিটস। মেডিকেল এসিসট্যান্ট ব্লাড প্রেসার মেপে স্বাভাবিক পেলো। ওর মুখের হাসি দেখে সব কষ্ট ভুলে গেলাম।
২. সকাল ৭-৩০.। নার্স ব্লাড সুগার মাপলো, স্বাভাবিক। অপারেশন থিয়েটারের পোশাক পরানো হলো। ওটির রিসেপশনে আনা হলো। আমার সিরিয়াল দুই। আমার স্ত্রী,পুত্র আগে থেকেই সেখানে ছিল। বুঝি অশ্রু মুছবার চেষ্টা চলছে। পৃথিবী বড় মায়ার জগত।
৩. রোগী নয় , খোদ সার্জনরা যেখানে বসেন সেখানে নিয়ে যাওয়া হলো। বরেণ্য ইএনটি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর কর্নেল তৌহিদ স্বভাবসুলভ হাস্যরসে আমাকে সাহস দিলেন। সেখানে আরেক বন্ধু প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাইম উপস্থিত ছিলেন। এনেস্থেসিওলজির প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার নাদিমও অভয় বাণী দিলেন। কর্নেল তৌহিদ আমাদের তিনজনকে হাসিমুখে সেলফিতে বন্দী করলো। আমার ভয় অর্ধেক কমে গেলো।
ওটির টেবিলে তোলা হলো। অপারেশনের গালভরা নাম। Septoplasty with Autologus Graft (RT)with inferior and middle terbinctomy। দুই নাকে এনেস্থেসিয়া দেয়ার ইঞ্জেকশনের নিডিল ঢোকার সময় যথেষ্ট ব্যথাই লাগলো। আস্তে আস্তে ডিপ সিডেশনে চলে যাচ্ছি। তারপর আর মনে নাই।
৪. ঘুম ভেঙে দেখি পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে। স্যালাইন চলছে। এনেস্থেসিয়ার ঘোর কাটছে। মাথাব্যথা, ঘোরা দুই-ই হচ্ছে। স্যালাইনের ভেতর ইনঞ্জেকশনের মাধ্যমে এন্টিবায়োটিক এবং ব্যথার ওষুধ দেয়া হলো। আমার মুখ শুকিয়ে কাঠ। মুখে খাওয়া বারণ। নাকে - মুখ থেকে ফোটা ফোটা রক্ত পড়ছে। ঘুম পাচ্ছে। বড্ড ঘুম।
৫.মনে হলো খুব কাছে কেউ দাঁড়িয়ে ।দেখি অনুজ ইঞ্জিনিয়ার Shourov Samad Khurrom পাশে আমার স্ত্রী। তাদের মুখে অভয় দেয়ার অভিব্যক্তি থাকলেও ভেতরে ভেতরে ভীতির চিহ্ন স্পষ্ট। ওরা ডাবের পানি নিয়ে এসেছে। গলা ভেজালাম।আমার বাবা সকালে এসেছিলেন। তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন আমার সঙ্গে কথা বলবেন। তাকে মোবাইল ফোনে কুশল বলতে গিয়ে নাক দিয়ে বেশ খানিকটা রক্ত বেরিয়ে এলো।
রাতে জাউ ভাত। আবার রক্তপাত যেন না হয় তাই খাবার ঠান্ডা করে খেলাম। রাতের ইনঞ্জেকশন দেয়া হলো। ঘুম আসছে। তন্দ্রা ভাঙলো। ভাবলাম সকাল। ঘড়ি দেখি রাত ৪টা। পোস্ট অপারেটিভে রোগী সবই অপারেশনের। ইন্টেনসিভ কেয়ার এসিস্ট্যান্ট আমার নাক মুখের রক্ত মুছিয়ে দিলো। হালকা ফলাহার হলো। ব্যথার ওষুধ দেয়া হলো।

৬. সকাল ৮-৩০ নাগাদ কর্নেল তৌহিদ এলো। সদা ব্যস্ত। নাকের প্যাক খুলে ফেললো। বেশ খানিকটা ব্লিডিং হলো। সে কিছু ব্যয়াম শিখিয়ে দিলো। মাথাব্যথা কমছে না। আমার বোন ডা. Khurshida Samad এসেছে। আমাদের দুই ভাইবোনের অনেক স্মৃতি। আমি যখন মেডিকেলের শেষবর্ষের ছাত্র, তখন সে প্রথম বর্ষে এসে ভর্তি হলো। কড়া ডোজের ওষুধেও যে মাথাব্যথা কমছে না সহোদরার সঙ্গে কথা বলে সেটি ভালো হয়ে গেলো।
৭. দুপুরের খাবারের পর পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড থেকে আবার কীর্তণখোলা। গিজার্ডের গরম পানিতে গোসল ক্লান্তি মুছিয়ে দিলো। স্বাভাবিক খাবার। কলিজা ভুনা। সিএমএইচের কুকের তারিফ করতেই হয়। ইএনটি স্পেসালিস্ট মেজর মুনির ফলোয়াপ দিলো। নাকে- মুখে অল্প অল্প রক্ত এখনও আসছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখি চোখ -মুখ সব ফোলা দেখাচ্ছে। নিজেকেই চিনতে পারছি না। ব্লিডিং আরও কদিন থাকতে পারে। শুনে কষ্ট ও বিরক্তি দুই-ই লাগলো। প্রিয়জনরা কেউ রিং কলে, ম্যাসেজ, ম্যাসেঞ্জারে, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকে খোঁজ নিচ্ছেন।
৮. রাতের ওষুধ খেলাম। বারান্দা খুলে বাহিরে এলাম। মাতাল হাওয়া। কতদিন এখানে কাজ করেছি। কত রথী মহারথী চিকিৎসা পেয়ে কত জটিল রোগেও পূর্ণ আরোগ্য নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে। শুধু আমার স্নেহময়ী মাকে আর ফেরানো যায়নি। পথের ক্লান্তি ভুলে স্নেহভরা কোলে তব মা গো বল কবে শীতল হব---
মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ
ক্লাসিফাইড স্পেশালিস্ট বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সেস।
- ভাত রান্নার আগে চাল ভালো করে ধুতে বলা হয় কেন?
- মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট রাখা বাধ্যতামূলক
- বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনল বিজিবি
- এডিস মশা শনাক্ত করবে ‘স্মার্ট ফাঁদ’
- এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
- ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে দারিদ্র্য, ধারণা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের
- বয়স্করা যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
- বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
- বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি পরিবর্তন
- ঢাকার বায়ুদূষণ দেশের জন্য লজ্জার বিষয়: প্রধানমন্ত্রী
- ‘বাংলাদেশ পথ দেখিয়েছে’, নেহার ভিডিও নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির
- প্রক্রিয়া শুরু
মালয়েশিয়ায় যেভাবে হবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ - দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারে চোখে জ্বালাপোড়া, সমাধান কী?
- ওষুধ কারখানার আগুনে ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রাণহানি নেই
- নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের চিঠি
- ক্যারিয়ার সেরা র্যাঙ্কিংয়ে হাসান মাহমুদ
- রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনের মৃত্যু
- অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই
- দূষণজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা? বুঝবেন যেভাবে
- সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে দৈত্যাকার দানব
- নিউটনের ঢের আগে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টের পান দা ভিঞ্চি!
- সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার
- নাফ নদীতে ইয়াবা পাচারের ‘ডুবন্ত সাবমেরিন’ উদ্ধার
- বাংলাদেশ থেকে জয় ছিনিয়ে ড্র আফগানিস্তানের
- বন্ধুর চেয়ে শত্রুর নাম বেশি মনে থাকে কেন?
- সারাদেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে
- অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
- বাংলাদেশসহ কয়েক দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে কঠোর যুক্তরাজ্য
- বিধবা কার্ড দিলে সবার আগে এমপির বউ নেবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজারে নজর
- সন্দেহের বশে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে পুশইন নয়: কলকাতা হাইকোর্ট
- বিয়ের জন্য যেমন ছেলে চান মিমি
- যেসব খাবার একসঙ্গে খেলে বেশি পুষ্টি মিলে
- বিমানবন্দরে ‘সোনার ডিম’ উদ্ধার: ৫ দিনের রিমান্ডে আসামি
- রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ: রোসাটম
- শান্তিতে নোবেলজয়ী কে এই নাভি পিল্লাই
- হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসে হাসান মাহমুদ
- দূষণজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা? বুঝবেন যেভাবে
- হঠাৎ চুল পড়া বাড়লে কি করবেন?
- দুর্গাপূজা: বাঙালি হিন্দুদের বড় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত যেভাবে
- অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
- বন্ধুর চেয়ে শত্রুর নাম বেশি মনে থাকে কেন?
- সারাদেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে
- একটি দৃশ্যের জন্য এখনো বারবার মহড়া দেন অমিতাভ
- সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার
- জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা জাতীয় স্বার্থে ব্যয়ের নির্দেশ
- মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজারে নজর
- দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারে চোখে জ্বালাপোড়া, সমাধান কী?
- সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে দৈত্যাকার দানব
- বাংলাদেশসহ কয়েক দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে কঠোর যুক্তরাজ্য


