ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার, ২০২৬ || ৩ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দায় ইসিকেই নিতে হবে: জামায়াত

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:৪৮ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

ভোটে কারচুপি হয়েছে দাবি করে এর দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘‘মৌলিক জায়গায় আপনি যতই সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ করেন না কেন ফেয়ারলি যদি রেজাল্ট ঘোষণা না হয়, এখানে যদি ইঞ্জিনিয়ারিং হয়, আপনি যদি এটা চেক দিতে না পারেন, পদক্ষেপ না নিতে পারেন, এখানে ওই একটা দায় সারাগোছের বক্তব্য দিলে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

রবিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের কাছে এই মন্তব্য করেন তিনি। সিইসি না থাকায় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। এসময় তিন কমিশনার ও ইসি সচিবও ছিলেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘‘এখানে দায় দায়িত্ব ইলেকশনের দায়িত্ব ইলেকশন কমিশনকেও নিতে হবে। আমরা ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনা চেয়ে ইসিকে চিঠি দিয়েছি।’’

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের নব নির্বাচিত এমপি ব্যারিষ্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপি, খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধিরা ইসিতে যান। 

আযাদ বলেন, ‘‘আমরা লক্ষ্য করেছি ১২ ফেব্রুয়ারির ইলেকশন তো কয়েকটি ধাপ আছে। একটা হচ্ছে ভোট গ্রহণ। দ্বিতীয় হলো ভোট গণনা। তৃতীয় হচ্ছে ফলাফল প্রকাশ। এই তিন ধাপের মধ্যে ভোট গ্রহণের বেলায় আমরা অতীতের তুলনায় কিছুটা গুণগত পরিবর্তন দেখেছি।’’ 

তিনি বলেন, ‘‘খুনোখুনি, বড় ধরনের সহিংসতা তেমন দৃশ্যমান ছিল না। তবে ভোট গ্রহণকালীন সময়ে ভোট কেন্দ্রগুলো ভিজিট করতে গিয়ে আমরা যেটা দেখেছি সেখানে অসুস্থ পরিবেশ বিরাজমান ছিল নানা ধরনের। অর্থাৎ ভোট গ্রহণ সূচনা হলেও সমাপ্তি সুন্দর হয় নাই। এখানে জালভোট হয়েছে প্রচুর। কালো টাকার ছড়াছড়ি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও হুমকি, ধামকি, সন্ত্রাস, মারামারি অথবা হামলার ঘটনা ঘটেছে। বড় ঘটনা না ঘটলেও সুষ্ঠু নির্বাচনে এগুলো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিভিন্ন উপাদান তৈরি। সেকেন্ড বিষয় হচ্ছে যারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন মাঠ পর্যায়ে সেখানে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে প্রার্থীর প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিতে আমরা দেখি নাই।’’ 

জামায়াত নেতা বলেন, ‘‘আজকে কমিশনও একই কথা বলেছেন যে এখনও চার শতাধিক হারানো পিস্তল উদ্ধার হয়নি। কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আর অবৈধ অস্ত্র তো আছেই। সব মিলে এই জায়গাটাও নির্বাচনের মধ্যে প্রভাব তৈরির ক্ষেত্রে অস্ত্রগুলো ভূমিকা রেখেছে।’’ 

হামিদুর রহমান বলেন, ‘‘আরেকটা বিষয় হচ্ছে কালো টাকা অস্ত্র হুমকি-ধামকির পাশাপাশি ইলেকশন ম্যানিপুলেশন করার কিছু কার্যক্রম আমরা লক্ষ্য করেছি। যেমন কোনো কোনো কেন্দ্রে সেখানে কর্তব্যরত অফিসাররাও নিজেরা ব্যালটে সিল মারার কাজে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। দলীয় কর্মীরাও সিল মেরেছেন বলে অভিযোগ আছে। আবার ভোট গ্রহণকালে পথিমধ্যে বাধা দেওয়া হয়েছে। ভয়ভীতি ছড়ানো হয়েছে। ভোট কাস্টিং কম হয়েছে। ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ইলেকশনে ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়ার মধ্যে এই ত্রুটিগুলো লক্ষ্য করা গেছে। সেকেন্ড হচ্ছে ভোট গণনা। গণনার ক্ষেত্রে কত কত এজেন্টকে ফোর্স করে বের করা হয়েছে। সুষ্ঠ গণনার যে সুস্থ পরিবেশ দরকার সেটা কোথাও কত ব্যহত হয়েছে। এটা ছিল না। ফলে ইলেকশন ভোট গণনার মধ্যে যদি ত্রুটি থেকে যায় ফলাফলে তার প্রভাব পড়বে এটাই স্বাভাবিক। রেজাল্টশীটেও দেখা গেছে ঘসামাজা কাটাছিটা ওভাররাইটিং।’’

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘‘অনেক জায়গায় যে অরিজিনাল এজেন্ট ছিলেন প্রার্থীর তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি’’। 

আযাদ বলেন, ‘‘৩২টি আসনের বাইরেও আমাদের কাছে এভিডেন্স সাফিশিয়েন্ট। আমাদের হাতে আসতেছে সেজন্য ব্যবধানের বাহিরেও বড় ব্যবধান হারানো যদি এখানে এভিডেন্স পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে আমরা আইনের আশ্রয় নেব।’’ 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের সংস্কারে কিছু বিষয় মৌলিকভাবে এসেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে এগুলোর আমরা সুফল পাব। যেহেতু বাস্তবায়ন হয়নি, সুফল পাইনি। সেকেন্ড হচ্ছে ইলেকশন কমিশন তাদের বক্তব্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছে, পরিশ্রম করেছে, এটা আমরা শুনেছি, এটা আমরা বিশ্বাসও করতে চাই। আর গুণগত চেঞ্জ যেটা আমি বলেছি শুরুতে সেটা একটা অ্যাচিভমেন্ট বলতে চাই। ’’

ভোটের সব খবর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর