ঢাকা, ১৯ জুলাই রোববার, ২০২৬ || ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
১৩৯

চিনি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেই ভারতের

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:২৬ ৭ মে ২০২৬  

বৈরি আবহাওয়ায় উৎপাদন হ্রাসের কারণে ভারত চিনি রপ্তানি কমিয়ে দেবে এমনটাই শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু দেশটি জানিয়েছে, এই মুহূর্তে খাদ্যপণ্যটি রপ্তানি কমানোর পরিকল্পনা নেই তাদের। স্থানীয় বাজারে চিনির চাহিদা হ্রাসের সুবাদে উৎপাদন ঘাটতির কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব। ফলে রপ্তানি কমানোর মতো পরিস্থিতি এখনও সৃষ্টি হয়নি বলে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

বিজনেস রেকর্ডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি রপ্তানিকারক ভারত চলতি মৌসুমে ১৫ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। তখন ধারণা করা হয়েছিল, অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে। তবে দেশটির প্রধান প্রধান উৎপাদনশীল অঞ্চলে আখ চাষ কম হওয়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো চিনি উৎপাদন চাহিদার চেয়েও কম হবে। 

এছাড়া সম্ভাব্য এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আসন্ন মৌসুমি বৃষ্টিপাত ব্যাহত হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এতে আগামী মৌসুমে চিনি উৎপাদন আরও কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এসব কারণে বাজারে জল্পনা তৈরি হয় যে ভারত হয়তো চিনি রপ্তানিতে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। তবে সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, দেশে সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে এবং রপ্তানি সীমিত করার মতো পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত সৃষ্টি হয়নি। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহ ও মূল্যও স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। 

এক সরকারি সূত্র বলেন, “সর্বশেষ উৎপাদন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আমরা মনে করেছি, এই মুহূর্তে চিনি রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রয়োজন নেই।”

এদিকে, অনুমোদিত ১৫ লাখ ৯০ হাজার টনের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৫ লাখ ৪০ হাজার টন চিনি রপ্তানি হয়েছে। আরও ৮ লাখ টনের বেশি রপ্তানির চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট পরিবহন সংকটে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রপ্তানি চুক্তির গতি কমে গেছে।

ভারতের চলতি ২০২৫-২৬ চিনি মৌসুমে (সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) উৎপাদন ২ কোটি ৮০ লাখ টনের বেশি হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দেশের বার্ষিক চাহিদার প্রায় সমান। মৌসুমের শুরুতে ভারতের হাতে প্রায় ৫০ লাখ টন উদ্বৃত্ত মজুত ছিল।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিনি ভোক্তা দেশ ভারতেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চাহিদা কিছুটা কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে রান্নার গ্যাসের সংকট তৈরি হওয়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁয় চিনির ব্যবহার কমেছে। এছাড়া আইসক্রিম ও কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী বড় ক্রেতাদের থেকেও চাহিদা কমেছে।