ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার, ২০২৬ || ১ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food

নির্বাচনে আলোচিত যারা জিতলেন, যারা হারলেন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:৩৪ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি কয়েকটি আসনের প্রার্থীও নতুন করে আলোচনায় আসেন। ফলাফল ঘোষণার পর দেখা গেছে- আলোচিতদের কেউ বিজয়ী হয়েছেন, কেউ পরাজিত হয়েছেন।

রুমিন ফারহানা, নাহিদ ইসলাম, ফজলুর রহমান, নুরুল হক নুর, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও হান্নান মাসউদসহ কয়েকজন আলোচিত প্রার্থী জয় পেয়েছেন।তবে, ঢাকার বিভিন্ন আসনে নির্বাচন করা নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী, তাসনিম জারা ও মামুনুল হক এবং পঞ্চগড়ের সারজিস আলম শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির শীর্ষ তিন নেতা নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। তবে জাতীয় পার্টির জিএম কাদের এবং ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম পরাজিত হয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসা কৃষ্ণ নন্দী বিএনপি প্রার্থী আমীর এজাজ খানের কাছে হেরে গেছেন।

অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জয়লাভ করেছেন। তবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী পরাজিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। অন্তর্বর্তী সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখায় দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একে অপরের বিরুদ্ধে কারচুপি, জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলেছে।

জিতেছেন তারেক, শফিকুর ও নাহিদ
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা ও বগুড়ার দুটি আসনে নির্বাচন করেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ঢাকার একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা দুজনই নিজ নিজ আসনে জয় পেয়েছেন।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও তার আসনে জয় পেয়েছেন।

তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনে এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পান। তবে ঢাকা-১৭ আসনে তিনি প্রায় চার হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।

প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর তিনি ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। এবারের নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো সরাসরি অংশ নেন।

ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খানের চেয়ে ২১ হাজার ৬১৪ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির নাহিদ ইসলাম বিএনপির এম এ কাইয়ুমকে দুই হাজার ৩৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।

দলগুলোর মহাসচিবদের অবস্থা কী?
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।

খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পরাজিত হয়েছেন। ওই আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবি দুই হাজার ৭০২ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন।

রংপুর-৪ আসনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ৯ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে জয় পান। তিনি শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পান।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ আসনে তৃতীয় হন। সেখানে জয় পান জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান।

রুমিন ফারহানাসহ কয়েকজন যে ফল পেলেন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ৩৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাস প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান। সেখানে এনসিপির নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী পরাজিত হন।

ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা তৃতীয় হয়েছেন। ওই আসনে জয় পান বিএনপির হাবিবুর রশীদ।

কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহ এক লাখের বেশি ভোটে জয়ী হন। তবে পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলম প্রায় আট হাজার ভোটে পরাজিত হন।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির ফজলুর রহমান প্রায় ৭২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান।হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির রেজা কিবরিয়া জয়ী হয়েছেন।

ঢাকা-১৩ আসনে খেলাফত মজলিস নেতা মামুনুল হক দুই হাজার ৩২০ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজের কাছে পরাজিত হন।

পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুর স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে পরাজিত করেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খান তৃতীয় হন। সেখানে জয় পান জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জয়ী হয়েছেন।

ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতের মো. আব্দুল বাতেন তিন হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধানে জয় পান।

কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ জয়ী হয়েছেন।ভোলা-১ আসনে আন্দালিব রহমান পার্থ জয় পান।

রংপুর-২ আসনে জামায়াতের এ টি এম আজহারুল ইসলাম প্রায় ৫৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।

এ ছাড়া বিএনপির আরও যারা জয় পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ (অব.), আবদুল আউয়াল মিন্টু, ইকবাল হাসান মাহমুদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইশরাক হোসেন, শামা ওবায়েদ এবং আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ভোটের সব খবর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর